পবিত্র ইসলামে হিজাব বা পর্দার গুরুত্ব এবং ফজিলত

ভূমিকাঃ হিজাব A hijab (/hɪˈdʒɑːb, hɪˈdʒæb, ˈhɪdʒ.æb, hɛˈdʒɑːb/;[1][2][3][4] Arabic: حجاب‎, romanized: ḥijāb, pronounced [ħɪˈdʒaːb] in common English usage) is a religious veil worn both by Muslim and Mandaean women in the presence of any male outside of their immediate family, which usually covers the hair, head and chest. পবিত্র কুরআনের সূরাহ আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক একটি মুসলিম পরিবারের একান্ত ঘনিষ্ঠ আপনজনের বাহিরের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রত্যক্ষতা এড়িয়ে শালীনতাবোধের মানদণ্ড নিশ্চিত করে চলতে একজন বয়ঃসন্ধি বয়স্কা (সাবালেগা) মুসলিম নারী কর্তৃক মাথা এবং বুক আবৃত করার জন্য যে বিশেষ পোশাক পরিধান করে থাকেন তাকে যথাক্রমে হিজাব, নিকাব বা বোরকা বলা হয়। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রাপ্তবয়স্কা অ-মুসলিম মহিলারাও স্ব স্ব ধর্মীয় নির্দেশনা মোতাবেক হিজাব, নিকাব বা বোরকা পরিধান করে থাকেন। হিজাব কোন মানবীয় নির্দেশনা নয়, যেমন নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, কুরবানী মানবীয় কোন নির্দেশনা নয়। হিজাব সরাসরি মহান আল্লাহ (গড) কর্তৃক আরোপিত। হিজাব বা নিকাবের বাস্তব প্রয়োজনীয়তাঃ ইভটিজিং প্রায় প্রতিটি দেশের একটি অঘোষিত অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ধর্ষক এবং তার শিকার উভয়ের সামাজিক আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষুন্ন হয়। এতে বিনষ্ট হয় পরিবার ব্যবস্থা । তাছাড়া ধর্ষক আইনী শাস্তি এড়ানোর জন্য ইদানিং ধর্ষনের পর ধর্ষিতাকে হত্যা, গুম করতে দ্বিধাবোধ করছে না- যা সত্যি উদ্বেগজনক। ধর্ষক অনেক সময় ধর্ষিতাকে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বহির্বিশ্বে চালান দেয় পতিতাবৃত্তির জন্য। তাই হিজাব সর্বযুগের নারীর আত্মমর্যাদার এক পরীক্ষিত হাতিয়ার বিশেষ। ইভটিজিং এর প্রাদুর্ভাবের দরুন বিশ্বব্যাপী ক্রমেই হিজাব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পালিত হচ্ছে বিশ্ব হিজাব দিবস। এতে অংশ নিচ্ছেন অনেক অমুসলিম রুচিশীল মহিলারাও।

 পবিত্র ইসলামে হিজাব বা পর্দার গুরুত্ব এবং ফজিলত

পর্দা-পরিচিতি: ‘পর্দাশব্দটি মূলত ফার্সী। যার আরবী প্রতিশব্দ হিজাবপর্দা বা হিজাবের বাংলা অর্থ- আবৃত করা, ঢেকে রাখা, আবরণ, আড়াল, অন্তরায়, আচ্ছাদান, বস্ত্রাদি দ্বারা সৌন্দর্য ঢেকে নেয়া, আবৃত করা বা গোপন করা ইত্যাদি। 

ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, নারী-পুরুষ উভয়ের চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জনের নিমিত্তে উভয়ের মাঝে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত যে আড়াল বা আবরণ রয়েছে তাকে পর্দা বলা হয়। 

অর্থাৎ নারী তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ রূপলাবণ্য ও সৌর্ন্দয পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে রাখার যে বিশেষ ব্যবস্থা ইসলাম প্রণয়ন করেছে তাকে পর্দা বলা হয়  

হিজাব বা পর্দার গুরুত্ব বর্ণনা করে  আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এ বিধান তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।’ (সূরা আহযাব: ৫৩)

ইসলাম পর্দা পালনের যে বিধান আরোপ করেছে তা মূলত অশ্লীলতা ও ব্যভিচার নিরসনের লক্ষ্যে এবং সামাজিক অনিষ্টতা ও ফেতনা-ফাসাদ থেকে বাঁচার নিমিত্তেই করেছে।

শরীয়তে ইসলামে প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম মহিলাদের পবিত্রতা তথা সতীত্ব রক্ষার্থেই তাদের উপর পর্দার  বিধানের পূর্ণ অনুসরণ অপরিহার্য করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।’ (সূরা আহযাব: ৩৩)

সুতরাং, মানবসমাজকে পবিত্র ও পঙ্কিলতামুক্ত রাখতে পর্দা বিধানের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে  নারীজাতির নিরাপত্তার জন্য পর্দা-বিধানের পূর্ণ অনুসরণ ফরজে আঈন (অবশ্যই পালনীয়)।

পর্দার বিধান: পর্দা ইসলামের সার্বক্ষণিক পালনীয় অপরিহার্য বিধান। বস্তুতঃ হিজাব বা পর্দা পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলীল প্রমাণাদির ভিত্তিতে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি বিধানাবলীর মতোই সুস্পষ্ট এক ফরয অআঈন (অবশ্যই পালনীয়) বিধান 

স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই এই পর্দা বা হিজাবের বিধান অর্থাৎ আইন-কানুনের প্রবর্তক। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘যখন তোমরা তাদের নিকট কিছু চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ(সূরা আহযাব: ৫৩) 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘আল্লাহ এবং তার রাসূল কোনো বিষয়ের নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা কোনো মুমিন নারীর জন্য সে বিষয় অমান্য করার কোনো অধিকার থাকে না। আর যে আল্লাহ ও তার রাসূলকে অমান্য করে সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট।(সূরা আহযাব: ৩৬)

এ আয়াতে পর্দার সঙ্গে চলাফেরা করার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্দার সহিত চলাফেরা করলে সবাই বুঝতে পারবে তারা পরহেযগার, মুত্তাকী শরীফা ও চরিত্রবতী নারী। ফলে পর্দানশীন নারীদেরকে কেউ উত্যক্ত করার সাহস করবে না। 

প্রকৃতপক্ষে যারা পর্দাহীনভাবে চলাফেরা করে অধিকাংশ সময় তারাই ইভটিজিং ও ধর্ষণসহ নানা রকমের নির্যাতনের সম্মুখীন হয় এবং রাস্তাঘাটে তারাই বেশি ঝামেলার শিকার হয়। তাই নারীর সতীত্ব ও ইজ্জত-আবরু রক্ষার্থে পর্দার গুরুত্ব অপরিসীম। 

হাদীস শরীফেও পর্দার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, নারী পর্দাবৃত থাকার বস্তু। যখন সে পর্দাহীন হয়ে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। (তিরমিযী: ১১৭৩) 

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন,একদা তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবীদের উদ্দেশ্যে) বললেন, মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি? তারা চুপ হয়ে গেলেন।  (কেউ বলতে পারলেন না) 

অতপর আমি ফিরে এসে ফাতেমা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা-কে জিজ্ঞাসা করলাম,মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি ? তিনি বললেন,কোনো পরপুরুষ তাকে দেখবে না (অর্থাৎ নারী পর্দাবৃত থাকবে)। তারপর আমি ঐ বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন,নিশ্চয় ফাতেমা আমার অংশ, সে সত্য বলেছে। (মুসনাদুল বাযযার: ৫২৬) 

এতে পর্দার গুরুত্ব পরিস্ফূটিত হয়। আর পারিপার্শ্বিকতার বিবেচনায় বিবেকের দাবীও তাই। এছাড়াও পর্দা পালনের মাধ্যমে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় ও সম্মানিত হতে পারে। 

ইসলামর আলোকে হিজাম-নিকাব নিকাবের উল্লেখযোগ্য দলিলসমূহঃ প্রথম দলিল স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আ’লামীনের আয়াত, يَـٰٓأَيُّہَا ٱلنَّبِىُّ قُل لِّأَزۡوَٲجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡہِنَّ مِن جَلَـٰبِيبِهِنَّۚ ذَٲلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يُعۡرَفۡنَ فَلَا يُؤۡذَيۡنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورً۬ا رَّحِيمً۬ا (٥٩) “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী-কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এটাই উত্তম - তাদেরকে চেনা সহজ হবে এবং ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আহযাব: ৫৯] এই আয়াতে সকল নারীর কথাই উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহর ﷺ পূন্যাত্মা স্ত্রীগণসহ অন্যান্য মুসলিম নারীগণও এই হুকুমের আওতাভুক্ত। এই আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মুসলিম নারীদের জন্য চেহারার পর্দা করা জরুরী। আরও আদেশ করা হয়েছে তারা যেন তাদের সৌন্দর্য্য পরপুরুষ থেকে আড়ালে রাখে। দ্বিতীয় দলিল দু’টি হাদিস ও ব্যাখ্যাঃ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏" “যে কেউ অহংকার বশত তার কাপড়কে মাটিতে হেঁচড়িয়ে চলবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না।...” [সহিহ বুখারি ৫৭৮৪, সহিহ মুসলিম ২০৮৫] এই হাদিসটির বিধান কেবল পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য, নারীদের জন্য নয় যা আরেকটি সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় - أَخْبَرَنَا نُوحُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ مِنَ الْخُيَلاَءِ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ تَصْنَعُ النِّسَاءُ بِذُيُولِهِنَّ قَالَ ‏"‏ تُرْخِينَهُ شِبْرًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ إِذًا تَنْكَشِفَ أَقْدَامُهُنَّ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ تُرْخِينَهُ ذِرَاعًا لاَ تَزِدْنَ عَلَيْهِ ‏" ইবনে উমার (রদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গর্বভরে তার কাপড় হেঁচড়িয়ে চলে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।’ উম্মে সালামাহ বললেন, তাহলে মহিলারা তাদের আঁচল কী করবে? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘এক বিঘত ঝুলিয়ে পরিধান করবে।’ উম্মে সালামাহ বললেন, ‘তাহলেও তো তাদের পা প্রকাশ হয়ে পড়বে।’ তখন নবী করীম ﷺ বললেন, ‘তাহলে এক হাত ঝুলিয়ে দিবে, তার থেকে বেশি না।’ [সুনানে নাসাঈ ৫৩৩৬, সহিহ] উক্ত হাদিসটি মহিলাদের পা ঢেকে রাখা ওয়াজিব হওয়ার দলিল। আর এটা মহিলা সাহাবিদের নিকট সুস্পষ্ট ও জানা ছিল। আরদু’পায়ের গোড়ালির সৌন্দর্য্য তো সম্পূর্ণ মুখমন্ডল ও হাতের সৌন্দর্য্যের তুলনায় কিছুই নয়! কেননা, এ বাস্তবতা অনস্বীকার্য যে মুখমণ্ডলেই মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য্য প্রতিফলিত হয়। তাই মুখের নিকাবও আবহমানকাল ধরে ওয়াজিব। আর সাহাবিয়্যাতদের সময় যে তা প্রচলিত ছিল তা নিচের দলিলেই স্পষ্ট হয়। তৃতীয় দলিল وَلاَ تَنْتَقِبِ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ وَلاَ تَلْبَسِ الْقُفَّازَيْنِ “মুহরিমা (ইহরাম গ্রহণকারী নারী) যেন নিকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে।” [সহিহ বুখারি ১৮৩৮; সুনানে আবু দাঊদ ১৮২৫, ১৮২৬; সুনানে নাসাঈ ২৬৮১ ইত্যাদি] এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহর ﷺ যুগের নারীরা অর্থাৎ সাহাবিয়্যাতগণ সাধারণ অবস্থায় নিকাব এবং হাতমোজা উভয়ই ব্যবহার করতেন। আর এজন্যই ইহরাম অবস্থায় তা বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে! সাহাবিয়াতগণ যদি নিকাব আর হাতমোজা নাই পরিধান করতেন তবে ইহরাম অবস্থার জন্য এমন খাস নির্দেশ আসতো না। এছাড়া শরীআতের হিকমাহ হচ্ছে ছোট বা হালকা ফিতনায় বিধান হালকা করা এবং গুরুতর ফিতনার ক্ষেত্রে কঠিন করা। এর বিপরীত করলে সেটি হবে আল্লাহর হিকমাহ ও শরীআতের মধ্যে দন্দ্ব সৃষ্টি করা। কিছু বান্দারা বলে থাকেন, ফিতনাহ বেশি হলে নিকাব করতে আর ফিতনাহ কম হলে নিকাব বাদ দিলে সমস্যা নেই। তাহলে স্বয়ং রাসূলের ﷺ যুগে ফিতনাহের কথা ভেবে উম্মুল মু’মিনিন আর সাহাবিয়্যাতরা নিকাব করতেন আর আমাদের যুগে কিনা ফিতনাহ কম হয়ে গেল! সুবহান-আল্লাহ! চতুর্থ দলিল হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা (রদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَذَكَرْتُ لَهُ امْرَأَةً أَخْطُبُهَا فَقَالَ ‏ "‏ اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا ‏"‏ ‏.‏ فَأَتَيْتُ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَخَطَبْتُهَا إِلَى أَبَوَيْهَا وَأَخْبَرْتُهُمَا بِقَوْلِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ فَكَأَنَّهُمَا كَرِهَا ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ فَسَمِعَتْ ذَلِكَ الْمَرْأَةُ وَهِيَ فِي خِدْرِهَا فَقَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَمَرَكَ أَنْ تَنْظُرَ فَانْظُرْ ‏.‏ وَإِلاَّ فَإِنِّي أَنْشُدُكَ كَأَنَّهَا أَعْظَمَتْ ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ فَنَظَرْتُ إِلَيْهَا فَتَزَوَّجْتُهَا ‏.‏ فَذَكَرَ مِنْ مُوَافَقَتِهَا ‏. আমি জনৈক মেয়েকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দেই এবং বিষয়টা রাসূলুল্লাহকে ﷺ বলি। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “তুমি কি তাকে দেখেছো?” আমি বললাম, “না।” তিনি ﷺ বললেন, “তুমি তাকে দেখে এসো । কারণ- এ দেখাটা তোমাদের মাঝে সৌহার্দ্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে বেশ উপযোগী হবে।” ফলে আমি মেয়েটিকে দেখার জন্য যাই। তখন তার বাবা-মা সেখানে ছিল এবং মেয়েটি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিল। তখন আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ ﷺ মেয়েটিকে দেখার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।” আমার একথায় তার বাবা-মা নীরব রইলেন। অন্য বর্ণনায় আছে – “যেন তারা আমার এ কথাকে অপছন্দ করলেন।” (অর্থাৎ তারা বিবাহের আগে পাত্রীকে দেখানোর পক্ষে ছিলেন না।) ইতিমধ্যে মেয়েটি বলল, “যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে দেখার জন্য আপনাকে আদেশ করে থাকেন, তাহলে আপনার দেখার সুবিধার্থে আমি আপনার সামনে আসছি। আর যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে দেখার জন্য আপনাকে নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি আমার দিকে দৃষ্টি দিবেন না।” তাঁর নিকট এটা যেন ছিল এক বিরাট ব্যাপার। হযরত মুগীরা (রদিআল্লাহু আনহু) বলেন, “এরপর আমি তাকে দেখি এবং তাকে বিবাহ করি।” এবং তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি কতটা সুখী হয়েছিলেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, ১৮৬৬, সহিহ হাদিস] আল্লাহ আমাদের প্রতি রহম করুন। নারী সাহাবাগণ কেমন আল্লাহভীরু ছিলেন। সাহাবিকে শপথ দিচ্ছেন - আল্লাহর রাসূল অনুমতি দিলে সে তার চেহারা দেখাবে, নয়ত নয়। অথচ আমরা আজ নিকাব ইসলামে নেই বলে বলে প্রচার করছি! সেই সাহাবিয়্যাত তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা একজন সৎ, পরহেযগার সাহাবির সামনে একবার খোলা চেহারায় আসতে কতো সংকোচ করেছেন। অথচ আমরা চেহারা অনাবৃত রেখে, নকশি বোরকা গায়ে জড়িয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানোর দলিল আঁচড়ে বের করায় ব্যস্ত! আল্লাহু আকবার! আমাদের আল্লাহকে সর্ববিষয়ে ভয় করা উচিত এবং তাঁর ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সুতরাং আমাদের আল্লাহকেই যথার্থরূপে ভয় করে তাঁর বিধান মেনে নেওয়াই কল্যাণকর। يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ (١٠٢) “ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহকে সেভাবে ভয় করো যেভাবে ভয় করা উচিত। আর তাঁর নিকট পরিপূর্ণ আত্নসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” [সূরা আল-ইমরান, ১০২] কেননা হাদীস শরীফে বলা হয়েছে,আল্লাহ তায়ালা পর্দানশীনদের ভালোবাসেন। আর কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন’ (সূরা হুজুরাত: ১৩)

"মুসলমানেরা হিজাব আবিস্কার করেনি। বিশ্বের সকল প্রধান ধর্মেই সর্বকালে হিজাব ছিল। ঘোমটা দিয়ে রাখা, চুল ধেকে রাখা, শরীর ঢেকে রাখা ইত্যাদি সন্মানিত নারীর লক্ষন মনে করা হতো সর্বযুগে। দুনিয়া যত আধুনিক হোক না কেন, নগ্ন হয়ে থাকাটা যত বড় ফ্যাশন হোক না কেন, এখনও সকল দেশেই শরীর ডেকে রাখা নারীকে সবাই সন্মানীত মনে করে। উন্নত বিশ্বে দেখুন। একজন সন্মানিত বিদেশী নারীকে (শিক্ষক, লেখক, নেত্রী, ইত্যাদি) কখনোই সংক্ষিপ্ত পোষাকে দেখা যায় না। ........তারা নিজেরাও জানে, শরীর ঢেকে রাখাটা ভালো অভ্যাস এবং শরীর ঢাকা নারীকেই মানুষ সন্মানীত মনে করে। শরীর দেখানো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য চাকরী হারিয়েছে, সংসার হারিয়েছে, এমন কয়েক শত উদাহরন আছে উন্নত বিশ্বে। .......... ওখানে অর্ধনগ্ন থাকাকে কেউ ভালো কাজ মনে করে না" (সূত্রঃ https://islam-returns.quora.com/__ni__=0&__nsrc__=4&__snid3__=25413096763&__tiids__=35526825 ) ।

উন্নত বিশ্বে অর্ধনগ্ন হয়ে নারীরা কি আসলেই নিরাপদে আছে? উত্তর হচ্ছে না। তারা নিরাপদে নেই।  আসুন দেখে নেই উন্নত ও অনুন্নত দুই বিশ্বের চিত্র। বাংলাদেশে গড়ে প্রতি লাখে ধর্ষিতা হয় ১০ জন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি লাখে ধর্ষন হয় ২৮ জন। উন্নত অর্থাৎ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষনের হার বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশী।অস্ট্রেলিয়াতে তিনগুন, নারী অধীকারের দেশ নিউজিল্যান্ডে আড়াই গুন, সুইডেনে সাড়ে ছয়গুন, বেলজিয়ামে তিন গুন, শান্তির দেশ নরওয়েতে দুই গুন, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, দক্ষিন কোরিয়াতে দেড় গুন। উন্নত বিশ্বের কিছু দেশ আছে যেগুলোতে ধর্ষনের হার খুব কম যেমন কানাডা, জাপান, হংকং ইত্যাদি। তবে, যে দশটি দেশের ধর্ষনের হার সবচেয়ে কম, তার মধ্যে ৮ টি দেশই মুসলিম ঘনবসতির দেশ। এছাড়া আরো অনেক মুসলিম দেশ আছে যেগুলোর ধর্ষনের হার এত কম যে ধর্ষনের লিস্টে তাদের নামই নেই। কাজেই, উন্নত বিশ্বে অর্ধনগ্ন থেকে নারীরা নিরাপদে থাকে, এই কথাটা ভুল” (সূত্রঃ https://islam-returns.quora.com/?__ni__=0&__nsrc__=4&__snid3__=25413096763&__tiids__=35526825)।


Comments

Popular posts from this blog

মুসলিম শিশু ছেলেদের জন্য সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু আনহুদের অর্থপূর্ণ নামের তালিকা

সন্তান জন্মের পর যে কাজগুলো সুন্নত-ই-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম