দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস, গুরুত্ব, ফজিলত এবং আশুরার রোজার নিয়মাবলী
দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস, গুরুত্ব, ফজিলত এবং আশুরার রোজার নিয়মাবলী
-শেখ মুহাম্মাদ রমজান হোসেন
٣٦- إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ
عِندَ اللَّـهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّـهِ يَوْمَ خَلَقَ
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ
الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ
كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ مَعَ
الْمُتَّقِينَ ◯
সহিহ-বুখারিতে পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত চারটি মাস বলতে ১. মুহাররম,২. রজব,৩. জিলকদ এবং ৪. জিলহজ মাসকে বুঝানো হয়েছে। (বুখারি.২৯৫৮)
পবিত্র আশুরার গুরুত্বঃ
১.স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে চারটি মাসকে সম্মানিত বলে অভিহিত করেছেন তার মধ্যে মুহাররম একটি। (সূরা তাওবা/৩৬)
২.পবিত্র হাদিসে এ মাসটিকে “আল্লাহর মাস” বলে অভিহিত করা হয়েছে। (মুসলিম/১৯৮২)
৩.বারটি মাসের মধ্যে এ মাসটি (মুহররম) সর্বপ্রথম। (বুখারি/২৯৫৮)
৪.এ মাসের মধ্যে এমন একটি দিন আছে যাকে ‘আশুরার দিন’ বলা হয়। যে দিনটিতে রোজা রাখলে বিগত এক বছরের পাপরাশি মোচন হয়। (মুসলিম/১৯৭৬). এ দিনকে রাসূল (সা.) ইয়াওমু ছছালিহ; ইয়াওমুল আযিম; বলে অভিহিত করেছেন। (বুখারি/১৮৬৫)।
দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে দেখতে পেলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বললেন, এটি কী? তারা বলল, এটি একটি ভালো দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) রোজা পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের বললেন, মুসা (আ.)-কে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। অতঃপর তিনি রোজা রেখেছেন এবং সাওম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৬৫)
মুসনাদে
আহমাদের বর্ণনায় এসেছে, ‘এটি সেই দিন,
যেদিন নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পর্বতে স্থির হয়েছিল, তাই নুহ (আ.) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য সেদিন রোজা রেখেছিলেন। ’
(হাদিস : ৮৭১৭)
আশুরার রোজার মর্যাদা : আশুরার রোজার প্রচলন ইসলাম আগমনের আগেও জাহেলি সমাজে প্রচলিত ছিল। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘জাহেলি যুগের লোকেরা আশুরার রোজা বা সাওম পালন করত। ’ (তুহফাতুল আশরাফ, হাদিস : ১২৭৩৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং অন্যকেও
উৎসাহিত করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত,
‘আমি নবী (সা.)-কে রোজা রাখার এত বেশি আগ্রহী হতে দেখিনি,যত দেখেছি এ আশুরার দিন এবং এ মাস (রমজান) মাসের রোজার প্রতি। ’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৬৭)
রাসুলুল্লাহ
(সা.) বলেন, ‘আশুরার দিনের সাওমের ব্যাপারে আমি আল্লাহর
কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে
দেবেন। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস :
১৯৭৬)
আশুরার
রোজা কিভাবে রাখব : ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহামাদ,
ইমাম ইসহাক প্রমুখ বলেছেন, আশুরার রোজার
ক্ষেত্রে দশম ও নবম উভয় দিনের রোজাই মুস্তাহাব। কেননা নবী (সা.) ১০ তারিখ রোজা
রেখেছেন আর ৯ তারিখ রোজা রাখার নিয়ত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা
করেন, ‘যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখলেন এবং
(অন্যদের) সাওম রাখার নির্দেশ দিলেন। লোকেরা বলল, হে
আল্লাহর রাসুল, এটি তো এমন দিন, যাকে
ইহুদি ও খ্রিস্টানরা বড় জ্ঞান করে, সম্মান জানায়। তখন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আগামী বছর এই দিন এলে আমরা নবম
দিনও রোজা রাখব ইনশাআল্লাহ। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৪৬)
এই হচ্ছে পবিত্র আশুরার মূসা আলাইহিমুস সালাম কেন্দ্রিক ইসলামের প্রথম ইতিহাস।
দ্বিতীয় ইতিহাস হচ্ছে শহীদে কারবালা কেন্দ্রিক। এতে যদিও আশুরার রোজার কোন সম্পর্ক নেই তবে আশেকে আহলে বাইতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ১০ মুহররম আহলে বাইতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ইশক এবং মুহব্বাত প্রকাশের এক অনন্য শ্রেষ্ঠ দিন,দিবস যা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ গভীর দীনী ভাবাবেগের মাধ্যমে প্রতি বছর দশই মুহররম সিয়াম বা রোজা পালনের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকেন।
উল্লেখ্য, দশই মুহররম ৬০ হিজরী মোতাবেক ৬৮০ ঈসাব্দে ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে উমাইয়া খিলাফতের দ্বিতীয় খলিফা ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার প্রধান সেনাপতি ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ পরিচালিত এক অসম যুদ্ধে হজরত মুহাম্মদের(স.)এর কলিজার টুকরা প্রিয় নাতি হজরত হুসাইন ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু পরিবারসহ ৭০ জন মতান্তরে ৭২ জন অনুসারী শাহাদাত বরণ করেছিলেন।
মোহর্রম
- কাজী নজরুল ইসলাম---অগ্নিবীণা
Comments
Post a Comment