মুসলমান মা-বোনদের ইসলামী জীবন-জিন্দেগী

 যরূরী দোআ সমূহ (الأدعية الضرورية )

দোআর ফযীলত : আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেনমুসলমান যখন অন্য কোন মুসলমানের জন্য দোআ করেযার মধ্যে কোনরূপ গোনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা থাকে নাআল্লাহ উক্ত দোআর বিনিময়ে তাকে তিনটির যেকোন একটি দান করে থাকেন : (১) তার দোআ দ্রুত কবুল করেন অথবা (২) তার প্রতিদান আখেরাতে প্রদান করার জন্য রেখে দেন অথবা (৩) তার থেকে অনুরূপ আরেকটি কষ্ট দূর করে দেন। একথা শুনে ছাহাবীগণ বললেনতাহলে আমরা বেশী বেশী দোআ করব। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেনআল্লাহ আরও বেশী দোআ কবুলকারী[1] অত্র হাদীছে বর্ণিত উপরোক্ত শর্তটির সাথে অন্যান্য ছহীহ হাদীছে বর্ণিত আরও তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা : (১) দোআকারীর খাদ্যপানীয় ও পোষাক পবিত্র হওয়া (অর্থাৎ হারাম না হওয়া) (২) দোআ কবুল হওয়ার জন্য ব্যস্ত না হওয়া (৩) উদাসীনভাবে দোআ না করা এবং দোআ কবুলের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী থাকা[2]
দোআ কবুলের স্থান ও সময় : আল্লাহ বলেনতোমরা আমাকে ডাকআমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব[3] এতে বুঝা যায় যেযে কোন স্থানে যে কোন সময় যে কোন ভাষায় আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দিবেন। তবে ছালাতের মধ্যে আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় দোআ করা যাবে না। দোআর জন্য হাদীছে বিশেষ কিছু স্থান ও সময়ের ব্যাপারে তাকীদ এসেছেযেগুলি সংক্ষেপে বর্ণিত হল :
(১) কুরআনী দোআ ব্যতিরেকে হাদীছে বর্ণিত দোআ সমূহের মাধ্যমে সিজদায় দোআ করা (২) শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে (৩) জুমআর দিনে ইমামের মিম্বরে বসা হতে সালাম ফিরানো পর্যন্ত সময়কালে (৪) রাত্রির নফল ছালাতে (৫) ছিয়াম অবস্থায় (৬) রামাযানের ২১২৩২৫২৭ ও ২৯ বেজোড় রাত্রিগুলিতে (৭) ছাফা ও মারওয়া পাহাড়ে উঠে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দুহাত উঠিয়ে (৮) হজ্জের সময় আরাফা ময়দানে দুহাত উঠিয়ে (৯) মাশআরুল হারাম অর্থাৎ মুযদালিফা মসজিদে অথবা বাইরে স্বীয় অবস্থান স্থলে ১০ই যিলহাজ্জ ফজরের ছালাতের পর হতে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত (১০) ১১১২ ও ১৩ই যিলহাজ্জ তারিখে মিনায় ১ম ও ২য় জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু দূরে সরে গিয়ে দুহাত উঠিয়ে (১১) কাবাগৃহের ত্বাওয়াফের সময় রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে। (১২) কারু পিছনে খালেছ মনে দোআ করলেসে দোআ কবুল হয়। সেখানে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই ঐ ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য দোআ করেতখনই উক্ত ফেরেশতা আমীন বলেন এবং বলেন তোমার জন্যও অনুরূপ হৌক[4] এতদ্ব্যতীত অন্যান্য আরও কিছু স্থানে ও সময়ে।
আরাফামুযদালিফা ও অন্যান্য স্থানে পঠিতব্য দোআ সমূহ :
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনশ্রেষ্ঠ দোআ হল আরাফার দোআ। আর আমি ও আমার পূর্বেকার নবীগণ শ্রেষ্ঠ যে দোআ করেছেনতা হ,
- لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ، لاَشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، يُحْيِىْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرً-
(১) উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূলাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদুবিইয়াদিহিল খাইরুইউহ্য়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি একতাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সকল রাজত্ব ও তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা। তাঁর হাতেই রয়েছে সকল কল্যাণ। তিনিই বাঁচান ও তিনিই মারেন। তিনি সব কিছুর উপরে ক্ষমতাবান ত্বাবারাণীর বর্ণনায় দোআটি আরাফার দিন সন্ধ্যায় পড়ার কথা এসেছে।[5] অন্য বর্ণনায় এসেছেযে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের ছালাতের শেষে সালাম ফিরানোর পরপরই উক্ত দোআ দশবার পড়বেসে ব্যক্তির জন্য প্রতি বারের বিনিময়ে ১০টি নেকী লেখা হবে১০টি গোনাহ মুছে দেওয়া হবে এবং তার মর্যাদার স্তর ১০টি করে উন্নীত করা হবে। এতদ্ব্যতীত এটি তার জন্য মন্দ কাজ হতে রক্ষাকবচ হবে ও বিতাড়িত শয়তান হতে সে নিরাপদ থাকবে এবং কোন পাপ তাকে স্পর্শ করবে না (অর্থাৎ তাকে ধ্বংস করতে পারবে না) শিরক ব্যতীত। অতঃপর সে ব্যক্তি হবে সকলের চাইতে উত্তম আমলকারী[6]
- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ وَلآ  إِلَهَ إِلاَّ  اللهُ وَاللهُ أِكْبَرُ-
(২) উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হি ওয়ালহামদুলিল্লা-হি অলা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার।
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়[7]
- اَللَّهُمَّ إِنِّىْ اَسْئَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِىْ دِيْنِىْ وَ دُنْيَاىَ وَاَهْلِىْ وَ مَالِىْ-
(৩) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আ-ফিয়াতা ফী দ্বীনী ওয়া দুন্ইয়া-য়া ওয়া আহ্লী ওয়া মা-লী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আমার দ্বীন ও দুনিয়ায়আমার পরিবারে ও বিষয়-সম্পদে তোমার ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি[8]
- اَللَّهُمَّ إِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ  وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ-
(৪) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানিওয়াল আজযি ওয়াল কাসালিওয়াল জুবনি ওয়াল বুখ্লিওয়া যালাইদ দায়নি ওয়া গালাবাতির রিজা-লি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ হতেঅক্ষমতা ও অলসতা হতেভীরুতা ও কৃপণতা হতে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের যবরদস্তি হতে[9]
- اَللَّهُمَّ إِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ اَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبَرِ-
(৫) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল জুব্নেওয়া আঊযুবিকা মিনাল বুখ্লেওয়া আঊযুবিকা মিন আরযালিল উমুরেওয়া আঊযুবিকা মিন ফিৎনাতিদ্দুন্ইয়া ওয়া আযা-বিল ক্বাব্রে।
অর্থ: হে আল্লাহ! (১) আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা হতে (২) আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হতে (৩) আশ্রয় প্রার্থনা করছি জ্বরাজীর্ণ বয়স হতে এবং (৪) আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিৎনা হতে ও (৫) কবরের আযাব হতে[10]
- اَللَّهُمَّ إِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيْعِ سَخَطِكَ-
(৬) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন যাওয়া-লি নিমাতিকাওয়া তাহাউভুলি      আ-ফিয়াতিকাওয়া ফুজা-আতি নিক্বমাতিকাওয়া জামীই সাখাত্বিকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার থেকে তোমার নেমত চলে যাওয়া হতেতোমার দেওয়া সুস্থতার পরিবর্তন হতেতোমার শাস্তির আকস্মিক আক্রমণ হতে এবং তোমার যাবতীয় অসন্তুষ্টি হতে।[11]
- رَبِّ اَعِنِّىْ وَلاَتُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِىْ وَلاَتَنْصُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِىْ وَيَسِّرِ الْهُدَى لِىْ-
(৭) উচ্চারণ: রবিব আইন্নী অলা তুইন আলাইয়াওয়ানছুরনী অলা তানছুর আলাইয়াওয়াহদিনী ওয়া ইয়াসসিরিল হুদা লী।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সহায়তা দাও এবং আমার বিরুদ্ধে সহায়তা করো না। আমাকে সাহায্য কর এবং আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না। আমাকে হেদায়াত দাও এবং আমার জন্য হেদায়াতকে সহজ করে দাও[12]
- اَللَّهُمَّ إِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلاَءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَ سُوْءِ الْقَضَاءِ وَ شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ-
(৮) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন জাহদিল বালা-ইওয়া দারাকিশ শাক্বা-ইওয়া সূইল ক্বাযা-ইওয়া শামা-তাতিল আদা-ই।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমকারী বিপদের কষ্ট হতেদুর্ভাগ্যের আক্রমণ হতেমন্দ ফায়ছালা হতে এবং শত্রুর হাসি হতে[13]
- يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِىْ عَلَى دِيْنِكَ، اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ-
(৯) উচ্চারণ: ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূবি ছাবিবত ক্বালবী আলা দীনিকাআল্লা-হুম্মা মুছার্রিফাল ক্বুলূবি ছার্রিফ ক্বুলূবানা আলা  ত্বোয়া-আতিকা।
অর্থ: হে হৃদয় সমূহের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখো। হে অন্তর সমূহের রূপান্তরকারী! আমাদের অন্তর সমূহকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও[14]
১০- اَللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّىْ-
(১০) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুববুন তোহেববুল আফওয়া ফাফু আন্নী।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর। বিশেষ করে লায়লাতুল ক্বদরে এটা পড়ার জন্য আয়েশা (রাঃ)-কে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) দোআটি শিক্ষা দিয়েছিলেন[15]
১১- اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى-
(১১) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াততুক্বা ওয়াল আফা-ফা ওয়াল গিনা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সুপথের নির্দেশনাপরহেযগারিতাচারিত্রিক পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি[16]
(১২) সাইয়িদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোআ :
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনযে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দোআ পাঠ করবেদিবসে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিবসে মারা গেলেসে জান্নাতী হবে (বুখারী)।-
১২- اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَ أَنَا عَبْدُكَ وَ أَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَ وَعْدِكَ مَااسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ  وَ أَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রববী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানীওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা  ওয়া  ওয়াদিকা মাস্তাত্বাতু। আঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানাতু। আবূউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়াওয়া আবূউ বিযাম্বীফাগফিরলী। ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার দাস। আমি তোমার নিকটে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপরে সাধ্যমত দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মগুলির অনিষ্টকারিতা হতে তোমার পানাহ চাচ্ছি। আমার উপরে তোমার অনুগ্রহ স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপসমূহ স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত ক্ষমা করার কেউ নেই[17]
১৩- سُبْحَانَ اللهِ، اَلْحَمْدُ لِلَّهِ، اَللهُ أَكْبَرُ، لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَه لاَشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ-
(১৩) উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হি (৩৩ বার), আলহামদুলিল্লা-হি (৩৩ বার)আল্লা-হু আকবার (৩৩ বার), লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূলাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর (১ বার)। অথবা আল্লা-হু আকবার (৩৪ বার)।
অর্থ: মহা পবিত্র আল্লাহ। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীততিনি একতাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তিনি সকল বস্ত্তর উপরে ক্ষমতাশালী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনএই দোআ পাঠকারী নিরাশ হবে না। তিনি বলেনযে ব্যক্তি প্রতি ফরয ছালাত শেষে এই দোআ পাঠ করবেতার সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়[18]
১৪- سُبْحَانَ اللهِ وَ بِحَمْدِهِ ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ-
(১৪) উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হে ওয়া বিহামদিহী,  সুবহানাল্লা-হিল আযীম। অথবা সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে সুবহা-নাল্লা-হে ওয়া বেহামদিহী পড়বেন।
অর্থ: মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য। মহাপবিত্র আল্লাহযিনি মহান। এই দোআ পাঠের ফলে তার সকল গোনাহ ঝরে যাবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনকালেমা দুটি উচ্চারণে খুবই হালকামীযানের পাল্লায় খুবই ভারীকিন্তু আল্লাহর নিকটে খুবই প্রিয়[19] ইমাম বুখারী (রহঃ) এই দোআর হাদীছটি বর্ণনার মাধ্যমে ছহীহ বুখারী শেষ করেছেন।
(১৫) আয়াতুল কুরসী :
১৫- اَللهُ لآ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لآ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِه إِلاَّبِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَيَئُودُهُ حِفْظُهُمَا، وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيْمُ-
উচ্চারণ:  আল্লা-হু  লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূমলা তাখুযুহু সেনাতুঁ ওয়ালা নাঊমলাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতে ওয়ামা ফিল আরয। মান যাল্লাযী ইয়াশ্ফাউ ইন্দাহূ ইল্লা বি ইযনিহইয়ালামু মা বায়না আয়দীহিম ওয়া মা খালফাহুমওয়া লা ইউহীত্বূনা বিশাইয়িম্ মিন ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আওয়াসেআ কুরসিইয়ুহুস্ সামা-ওয়া-তে ওয়াল আরযাওয়া লা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমাওয়াহুওয়াল আলিইয়ুল আযীম (বাক্বারাহ ২/২৫৫)
অর্থ : আল্লাহ তিনিযিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্ব চরাচরের ধারক। কোনরূপ তন্দ্রা ও নিন্দ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারেতাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে নাকেবল যতটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী সমগ্র আসমান ও যমীন পরিবেষ্টন করে আছে। আর এতদুভয়ের তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহীয়ান
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনপ্রত্যেক ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোন বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতীত (নাসাঈ)। শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে[20]
(১৬) ঋণ মুক্তির দোআ :
১৬- أَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ-
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাকফিনী বেহালা-লেকা আন হারা-মেকা ওয়া আগ্নিনী বেফাযলেকা আম্মান সেওয়া-কা।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হারাম ব্যতীত হালাল দ্বারা যথেষ্ট কর এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্যদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন কর। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনএই দোআ পাঠের দ্বারা পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তার ঋণমুক্তির ব্যবস্থা করে দেন[21]
(১৭) বিপদ ও সংকটকালে দোআ :
১৭- يَا حَىُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ اَسْتَغِيْثُ-
উচ্চারণ : ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূমু বেরহমাতিকা আস্তাগীছ।
অর্থ : হে চিরঞ্জীব! হে বিশ্ব চরাচরের ধারক! আমি তোমার রহমতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আনাস (রাঃ) বলেনযখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর কোন কাজ কঠিন হয়ে দেখা দিততখন তিনি এ দোআটি পড়তেন[22]
অথবা দোআয়ে ইউনুস :
لآ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ-
উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুন্তু মিনায যোয়ালেমীন (আম্বিয়া ২১/৮৭)
অর্থ: তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেইতুমি মহা পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমালংঘনকারীদের    অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনমাছের পেটে ইউনুস এই দোআ পড়ে আল্লাহকে ডেকেছিলেন (এবং মুক্তি পেয়েছিলেন)। এক্ষণে যদি কোন মুসলিম কোন বিপদে পড়ে এ দোআ পাঠ করেআল্লাহ তা কবুল করবেন[23]
(১৮) তওবার দোআ :
১৮- اَسْتَغْفِرُ اللهَ الّذِىْ لآ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ أَتُوْبُ إِلَيْهِ-
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহে
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্ব চরাচরের ধারক এবং আমি তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি বা তওবা করছি। এই দোআ পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেনযদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।[24] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেনহে জনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর। কেননা আমি তাঁর নিকট দৈনিক একশ বার করে তওবা করি[25]
(১৯) জান্নাত প্রার্থনা ও জাহান্নাম থেকে বাঁচার দোআ :
১৯- اَللَّهُمَّ أَدْخِلْنِى الْجَنَّةَ وَأَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ-
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আদখিলনিল জান্নাতা ওয়া  আজিরনী মিনান্না-র (৩ বার)
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দাও। এই দোআ পড়লে জান্নাত বলেহে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাতে দাও। অন্যদিকে জাহান্নাম বলেহে আল্লাহ! তুমি তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও![26]

زيارة المسجد النبوي  r
মসজিদে নববীর যিয়ারত
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন,
لاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ: مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى وَ مَسْجِدِىْ هَذَا، متفق عليه-
তিনটি মসজিদ ব্যতীত (নেকীর উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে নামাসজিদুল হারামমাসজিদুল আক্বছা ও আমার এই মসজিদ[27] মসজিদে নববীতে একবার ছালাত আদায় বায়তুল্লাহ ছাড়া অন্য মসজিদে এক হাযার ছালাতের চাইতে উত্তম।[28]
এখানে তাঁর মসজিদের কথা বলা হয়েছেকবরের কথা নয়। সাধারণভাবে যেকোন সময়ে রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যেয়ারত করা যাবে। কিন্তু কেবল উক্ত উদ্দেশ্যে ঘর হতে বের হওয়া এবং সফর করা নিষিদ্ধ। যে ব্যক্তি আমার কবর যেয়ারত করবেতার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হবে বা আমি তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন সাক্ষী হব ইত্যাদি মর্মে যে সমস্ত হাদীছ বলা হয়ে থাকেতার সবগুলিই জাল ও বাজে  (كلها واهية)।[29]
² মসজিদে নববীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোআ এবং মাসজিদুল হারামে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোআ একই। অতএব সেখানে দেখে নিন।
মসজিদে নববীতে প্রবেশের পর দুরাকআত তাহিইয়াতুল মাসজিদ ছালাত আদায় করবেন। তবে জামাআত চলতে থাকলে কোনরূপ নফল বা সুন্নাত না পড়ে সরাসরি জামাআতে যোগ দিবেন। সময় পেলে ইচ্ছামত নফল ছালাত আদায় করা যাবে। এটা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাসগৃহ (বর্তমানে কবর) ও মিম্বরের মধ্যবর্তী রওযার মধ্যে পড়াই উত্তম। এ স্থানটিকে হাদীছে রওযাতুল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগিচা বলা হয়েছে।[30] স্থানটি সবুজ রংয়ের খাম্বা দ্বারা বেষ্টিত।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবর যেয়ারত :
রওযাতুল জান্নাহ থেকে একটু সামনে এগিয়ে বামে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে প্রথমে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবর বরাবর গিয়ে এভাবে সালাম দিবেন-
اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَ بَرَكَاتُهُ-
(১) উচ্চারণ: আসসালা-মু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লা-হে ওয়া বারাকা-তুহু।
অর্থ: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর শান্তিবর্ষিত হউক এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত সমূহ নাযিল হউক!!
অতঃপর একটু এগিয়ে আবুবকর (রাঃ)-এর কবর বরাবর গিয়ে তাঁর উপর সালাম প্রদান করবেন।-
اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا أَبَابَكْرٍ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَ بَرَكَاتُهُ-
(২) উচ্চারণ: আসসালা-মু আলায়কা ইয়া আবা বাকরিন ওয়া রহমাতুল্লা-হে ওয়া বারাকা-তুহু।
অর্থ: হে আবুবকর! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত সমূহ নাযিল হউক!!
অতঃপর একটু এগিয়ে ওমর (রাঃ)-এর কবর বরাবর গিয়ে তাঁর উপরে সালাম প্রদান করবেন।-
اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا عُمَرُ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَ بَرَكَاتُهُ-
(৩) উচ্চারণ: আসসালা-মু আলায়কা ইয়া ওমারো ওয়া রহমাতুল্লা-হে ওয়া বারাকা-তুহু।
অর্থ: হে ওমর! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত সমূহ নাযিল হউক!![31]
বাক্বী গোরস্থান যিয়ারত : মসজিদে নববীর পূর্বদিকে বাক্বীউল গারক্বাদ কবরস্থান যিয়ারত করা সুন্নাত। এখানে বহু ছাহাবীতাবেঈ ও মুসলিম বিদ্বানমন্ডলীর কবর রয়েছে। তবে কবরের কোন চিহ্ন নেই এবং চিহ্ন তালাশ করাও উচিত নয়। এ সময় কবরবাসীদের উদ্দেশ্যে দুহাত তুলে নিম্নোক্ত দোআ পড়বেন-
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَأَتَاكُمْ مَا تُوعَدُونَ غَدًا مُؤَجَّلُونَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لأَهْلِ بَقِيعِ الْغَرْقَدِ -
উচ্চারণ: আসসালা-মু আলায়কুম দারা ক্বাওমিন মুমিনীনওয়া আতা-কুম মা তূআদূনা গাদান মুআজ্জালূনাওয়া ইন্না ইনশা-আল্লা-হু বিকুম লা-হেকূনআল্লা-হুম্মাগফির লিআহলি বাক্বীইল গারক্বাদ।
অর্থ: কবরবাসী মুমিনগণ! আপনাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক! আগামীকাল (ক্বিয়ামতের দিন) আপনারা লাভ করবেন যা আপনাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর আমরাও  আল্লাহ চাহেন তো সত্বর আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। হে আল্লাহ! আপনি বাক্বীউল গারক্বাদ-এর অধিবাসীদের ক্ষমা করুন[32]
অথবা নিম্নের দোআটি পড়বেনযা শোহাদায়ে ওহোদ সহ সকল কবরস্থানে পড়া যায়।-
اَلسَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُسْلِمِيْنَ، وَإِنَّا إِنْ شَآءَ اللهُ بِكُمْ لَلاَحِقُوْنَ، نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ-
উচ্চারণ: আসসালা-মু আলা আহলিদ্দিয়া-রি মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীনাওয়া ইন্না ইনশা-আল্লা-হু বিকুম লালা-হেকূননাসআলুল্লা-হা লানা ওয়া লাকুমুল আ-ফিয়াতা
অর্থ: মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীগণ! আপনাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক! আর আমরাও আল্লাহ চাহেন তো অবশ্যই আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। আমাদের ও আপনাদের জন্য আমরা আল্লাহর নিকটে কল্যাণ প্রার্থনা করছি[33]



[1]. আহমাদমিশকাত হা/২২৫৯ দোআ সমূহ অধ্যায়।
[2]. মুসলিমমিশকাত হা/২৭৫৯২২২৭তিরমিযীআহমাদমিশকাত হা/২২৪১।
[3]. গাফের/মুমিন ৪০/৬০।
[4]. মুসলিমমিশকাত হা/২২২৮দোআ সমূহ অধ্যায়-৯।
[5]. তিরমিযীমিশকাত হা/২৫৯৮ত্বাবারাণীছহীহাহ হা/১৫০৩।
[6]. আহমাদমিশকাত হা/৯৭৫সনদ হাসান।
[7]. মুসলিমমিশকাত হা/২২৯৫।
[8]. আবুদাঊদমিশকাত হা/২৩৯৭।
[9]. মুত্তাফাক্ব আলাইহমিশকাত হা/২৪৫৮।
[10]. বুখারীমিশকাত হা/৯৬৪।
[11]. মুসলিমমিশকাত হা/২৪৬১।
[12]. তিরমিযীআবুদাঊদইবনু মাজাহমিশকাত হা/২৪৮৮।
[13]. মুত্তাফাক্ব আলাইহমিশকাত হা/২৪৫৭।
[14]. তিরমিযীইবনু মাজাহমিশকাত হা/১০২মুসলিমমিশকাত হা/৮৯
[15]. আহমাদইবনু মাজাহতিরমিযীমিশকাত হা/২০৯১।
[16]. মুসলিমমিশকাত হা/২৪৮৪।
[17]. বুখারীমিশকাত হা/২৩৩৫।
[18]. মুসলিমমিশকাত হা/৯৬৬৯৬৭।
[19]. মুত্তাফাক্ব আলাইহমিশকাত হা/২২৯৬-৯৮।
[20]. বুখারীনাসাঈসিলসিলা ছহীহাহ হা/৯৭২মুসলিমবুখারীমিশকাত হা/২১২২-২৩।
[21]. তিরমিযীবায়হাক্বীমিশকাত হা/২৪৪৯।
[22]. তিরমিযীমিশকাত হা/২৪৫৪।
[23]. আহমাদতিরমিযীমিশকাত হা/২২৯২।
[24]. তিরমিযীআবুদাঊদমিশকাত হা/২৩৫৩ছহীহাহ হা/২৭২৭।
[25]. মুসলিমমিশকাত হা/২৩২৫।
[26]. তিরমিযীনাসাঈমিশকাত হা/২৪৭৮।
[27]. মুত্তাফাক্ব আলাইহমিশকাত হা/৬৯৩আহমাদসিলসিলা যঈফাহ হা/৪৭-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
[28]. মুত্তাফাক্ব আলাইহমিশকাত হা/৬৯২।
[29]. আলবানীসিলসিলা যঈফাহ ওয়াল মওযূআহ হা/৪৭,২০৩১০২১ইরওয়াউল গালীল হা/১১২৭-২৮ প্রভৃতি।
[30]. মুত্তাফাক্ব আলাইহমিশকাত হা/৬৯৪।
[31]. বায়হাক্বী হা/১০০৫১৫/২৪৫আলবানীমানাসিকুল হাজ্জ পৃঃ ৬১ টীকা ১৩১আল-মিনহাজ্জ লিল মুতামির ওয়াল হাজ্জ (রিয়াদ : ২য় সংস্করণ ১৪১৫ হিঃ)পৃঃ ১০৯।
[32]. মুসলিমমিশকাত হা/১৭৬৬।
[33]. মুসলিমমিশকাত হা/১৭৬৪।

(সৌজন্যেঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)
রাসুল (সাঃ) বলেন-  
কোন মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য খাছ মনে দুয়া করলে দুয়া কবুল হয়। সেখানে একজন ফিরিশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই ঐ ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য দুয়া করে তক্ষণই ঐ ফিরিশতা “আমীন” “আমীন” বলেন। এবং বলেন- তোমার জন্যও অনুরূপ হোক। [মুসলিম,  মিশকাতঃ ২২২৮, দোয়া অধ্যায়, অধ্যায়-৯]
উবাদা বিন সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) একথা বলতে শুনেছি,
 من استغفر للمؤمنين والمؤمنات كتب الله له بكل مؤمن ومؤمنة حسنة 
যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাকে প্রতেক্য মুমিন পুরুষ ও নারীর বিনিময়ে একটি করে পূণ্য লিখে দেয়া হবে। (ত্বাবরানী, শাইখ আলবানী হাদীছটিকে হাসান বলেন, দ্র: সহীহুল জামে হা/১০৯৭০)
🍁দুয়াঃ ১-
اللهم أغفر للمؤمنينوالمؤمنات والمسلمين والمسلمات الاحياء منهم والأموات
আল্লাহুম্মাগফিরলিল মুস্লিমিনা ওয়াল মুস্লিমাত ওয়াল মু মিনিনা ওয়াল মু মিনাত। আল আহ ইয়ায়ি মিনহুম ওয়াল আম ওয়াত।
অর্থ-হে আল্লাহ, ক্ষমা করে দাও মুসলিম নারী,ও মুসলিম পুরুষদের এবং মুমিন নারী ও মুমিন পুরুষদের যারা জীবিত এবং যারা মৃত তাদেরকেও।
🍁দুয়াঃ ২-মৃত মুমিন মুসলিমদের জন্য ক্ষমার দুয়া করুন।
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।
উচ্চারণ : রব্বানাগ্ ফিরলানা-অলিইখ্ওয়া-নিনা ল্লাযীনা সাবাকুনা বিল্ ঈমা-নি অলা- তাজ্ব ‘আল্ ফী কুলূবিনা-গিল্লাল্লিল্লাযীনা আ-মানূ রব্বানা ইন্নাকা রউফুর রহীম্
(সূরা আল-হাশর - ৫৯:১০)
🍁দুয়াঃ ৩
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
রব্বানাগফিরলি ওয়ালি ওলি দাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।
 “হে আমার প্রতিপালক! হিসাব গ্রহণের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনগনকে ক্ষমা কর।"
[সুরা ইব্রাহিম আয়াত ৪১]
🍁দুয়া-৪
بِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا 
রব্বিগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিমান দাখালা বাইতিয়্যা মুমিনাওঁ ওয়া লিল মুমিনীনা ওয়াল মুমিনাতি; ওয়ালা তাযিদিয যালিমীনা ইল্লা তাবার-।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে/দ্বীনে প্রবেশ করে-তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। ।(সূরা নূহ, আয়াত-২৮)।

মহান আল্লাহ অআল্লামা শাহ অআহমাদ শাফী রহিমাহুল্লাহর হায়াতে তাইয়্যেবাহর জিন্দেগীতে যত ধরণের দীনী-ইসলামী খেদমত, রিয়াজত, মেহনত করে বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার করে গেছেন তার জাযায়ে খায়ের ক্ববরে, হাশরে, মিজানে, পুলসিরাত দান করে সর্বোচ্চ জান্নাতঃ জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার, নিকটাত্মীয়, দূরাত্মীয়, পাড়া-প্রতিবেশী, দেশবাসী তথা বিশ্ববাসীর মধ্যে যাঁরা উনার মুরীদ, মুহেব্বীন তাঁদেরকে সবরে জামিল নসীব করুন। 
وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّـهِ ۚ 
অর্থঃ আল্লাহর কাছে তাওফীক চাই (সূরাহ হুদ, আয়াতঃ ৮৮, ছহীহ নূরানী কোরআন শরীফ, মূলঃ তাফসীর ইবনে কাসীর ও তাফসীরে আশরাফী)
And my success (in my task) Can only come from Allah.
THE HOLY QUR’AN Sūra 11: Hūd (The Prophet Hūd), Ayat No. 88, Makki; Revealed at Makka — Sections 10, Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com


لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُۥ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু । আয - যুমার :৫৩

১৫ টি জরুরী দোয়া ও আয়াত সমূহের বিবরণ
০১. আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।
[অর্থঃ বিতারিত শয়তানের হাত থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।] .
০২. বিস্মিল্লাহির রহমানির রাহিম।
[অর্থঃ পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।] .
০৩. রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাছানাতাঁও ওয়াফিল আখিরাতি হাছানাতাঁও ওয়াক্বিনা আজাবান্নার।
[অর্থঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমাকে ইহকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি ও পরকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি প্রদান কর। আর দোজখের আগুন থেকে আমাকে রক্ষা কর।]
০৪. মাতা-পিতার জন্য সন্তানের দোয়াঃ রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ঈয়ানী সাগিরা। (সূরা বণী ইসরাইলআয়াতঃ ২৩-২৫)
[অর্থঃ হে আল্লাহ্ আমার মাতা-পিতার প্রতি আপনি সেই ভাবে সদয় হউনতাঁরা শৈশবে আমাকে যেমন স্নেহ-মমতা দিয়ে লালন-পালন করেছেন।]
৫. ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করার দোয়াঃ রাব্বানা লাতুযিগ কুলুবানা বাদা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতানইন্নাকা আনতাল ওয়াহাব। (সুরা আল ইমরানআয়াতঃ ০৮)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তাসরলপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিওনা এবং তুমি আমাদের প্রতি করুনা করতুমিই মহান দাতা।]
০৬. ভুল করে ফেললে ক্ষমা চাওয়ার দোয়াঃ রাব্বাবা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির্লানা ওয়াতার হামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরিন।
[অর্থঃ হে আল্লাহ্আমি আমার নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। এখন তুমি যদি ক্ষমা ও রহম না করতাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।]

০৭. গুনাহ্ মাফের দোয়াঃ রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মায়াল আবরার। (সূরা আল ইমরানআয়াতঃ ১৯৩)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তাআমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দাওআমাদের থেকে সকল মন্দ দূর করে দাও এবং আমাদের নেক লোকদের সাহচার্য দান কর।]

০৮. স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের জন্য দোয়াঃ রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা কুররাতা আইইনিও ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা। (সূরা আল ফুরকানআয়াতঃ ৭৪)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তাআমাদিগকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিগণ হতে নয়নের তৃপ্তি দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।]

০৯. ঈমান ঠিক রাখার আমলঃ ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিকা।
[অর্থঃ হে মনের গতি পরিবর্তনকারীআমার মনকে সত্য দ্বীনের উপর স্থিত কর।]
১০. সন্তানদের প্রতি মাতা-পিতার দোয়া ও মাতা-পিতার জন্য সন্তানদের দোয়াঃ রাব্বিজ আলনী মুতিমাছ ছালাতি ওয়ামিন জুররি ইয়াতিরাব্বানা ওয়াতাকাব্বাল দুয়ারাব্বানাগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি দাইয়া ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওয়া ইয়াকুমুল হিসাব। (সূরা ইব্রাহিমআয়াতঃ ৪০-৪১)
[অর্থঃ হে আমার পালনকর্তাআমাকে নামাজ কায়েমকারী বানাও আর আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আল্লাহ্ আমার দোয়া কবুল করে নাও। হে আল্লাহ্ আমাকে ও আমার মাতা- পিতাকে আর সকল ঈমানদার লোকদের সেদিন ক্ষমা করে দিওযেদিন হিসাব কার্যকর হবে।]

১১. নেক সন্তানদের জন্য দোয়াঃ রাব্বি হাবলি মিনাস সালেহীন।
[অর্থঃ হে আমার পালনকর্তাআমাকে নেককার সৎ-কর্মশীল সন্তান দান কর।]

১২. অবাধ্য সন্তান বাধ্য করার দোয়াঃ ওয়াছলিহলি ফী যুররিইয়াতিইন্নি তুবতু ইলাইকাওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমীন। (সূরা আহকাফআয়াতঃ ১৫)
[অর্থঃ আমার জন্য আমার সন্তানদের মধ্যে প্রীতি দান করঅবশ্যই আমি তোমারই দিকে ফিরিতেছি এবং অবশ্যই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত।]

১৪. কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়াঃ রাব্বানাগ ফিরলানা যুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্কদামানা ওয়ানছুরনা আলাল কাওমিল ক্বাফিরীন। (সূরা আল ইমরানআয়াতঃ ১৪৭)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তাআমাদের গুনাহ এবং কোন কাজের সীমা লঙ্ঘনকে তুমি ক্ষমা করআমাদের ঈমান দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয়ী কর।]
১৫. ক্ষমা ও রহমতের দোয়াঃ রাব্বিগ ফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।

[অর্থঃ হে আল্লাহ্আমাকে ক্ষমা করে দাওআর আমার প্রতি রহম করতুমিই তো উত্তম দয়ালু।]


নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লি আলারসুলিহিল কারিম,
ম্মা বাদ।


একমাত্র আল্লাহর যিকর-ই মানব মনের শান্তি


أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيم

بِسْمِ الّٰلهِ الرَّحْمٰنِ الرَحِيْمِ
وَاذْكُر رَّبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعاً وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالآصَالِ وَلاَ تَكُن مِّنَ الْغَافِلِينَ

 

٢٠٥- وَاذْكُر رَّبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ الْغَافِلِينَ 

“And do thou (O reader!) bring thy Lord to remembrance in thy (very) soul with humility and in reverence without loudness in words in the mornings and evenings; and be not thou of those who are unheedful”.(Sūra 7: A’rāf, Ayat: 205)
আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে-আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কমসকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো না [ সুরা আরাফ ৭:২০৫ ]

٤٥- اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ ۖ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ ۗ وَلَذِكْرُ اللَّـهِ أَكْبَرُ ۗ وَاللَّـهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ 

Recite what is sent Of the Book by inspiration To thee, and establish Regular Prayer: for Prayer Restrains from shameful And unjust deeds ; And remembrance of Allah Is the greatest (thing in life) Without doubt. And Allah knows The (deeds) that ye do” (Sūra 29: Ankabūt, Ayat: 45).


আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ (যিকর) সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। [ সুরা আনকাবুত ২৯:৪৫ ]

যিকর কি এবং কেন?
যিকরের অর্থ
যিকর আরবী শব্দ। বাংলায় এর অর্থ স্মরণ করা বা স্মরণ করানো। যে কোন প্রকারে মনেমুখেঅন্তরেকর্মের মাধ্যমেচিন্তার মাধ্যমেআদেশ পালন করে বা নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহর নামগুণাবলী,বিধিবিধানতাঁর পুরস্কারশাস্তি ইত্যাদি স্মরণ করা বা করানোকে ইসলামের পরিভাষায় যিকর বা আল্লাহর যিকর বলা হয়। ব্যাপক অর্থে ঈমান ও নেককর্ম সবই যিকর বলে গণ্য। বিশেষভাবে মুখে বারংবার আল্লাহর নামগুণাবলি ইত্যাদি পাঠ যা জপ করার কুরআন-হাদীস নির্দেশিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর তাকবীরতাহলীলপ্রশংসাগুণগানদু'মুনাজাতইসতিগফারদরুদসালাম ইত্যাদি সবই এই পর্যায়ের যিকর (সূত্রঃ সহীহ মাসনূন ওযীফা: ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরপিএইচডি(রিয়াদ)এম,এ(রিয়াদ)এম,এম(ঢাকা)সহযোগী অধ্যাপকআল হাদীস বিভাগইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কুষ্টিয়াআস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্সতৃতীয় পরিচ্ছেদ:যিকরের ওযীফাপৃষ্ঠা:৩৫)।বেলায়াতের পথের কর্ম দুই পর্যায়ের: ফরয ও নফল । নফল পর্যায়ের যিকরকে বেলায়াতের পথে অন্য সকল নফল ইবাদতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে হাদীস শরীফে সর্বোপরিআত্মশুদ্ধির জন্য কুরআন-হাদীসে যিকরের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। “আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রা) বলেন: একব্যক্তি বলেনইয়া রাসূলুল্লাহইসলামের বিধানাবলী আমার জন্য বেশি হয়ে গিয়েছে। আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন-যা আমি মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকব। তিনি বলেন: তোমার জিহবা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকরে আর্দ্র (ভিজা) থাকে (সুনানে তিরমিযীকিতাবুদ দাওয়াতনং-৩৩৭৫সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/৯৬ইবনু মাজাহ ৩৭৯৩মুসতাদরাক হাকেম ১/৪৯৫হাইসামীমাওয়ারিদুয যামআন৭/৩১২প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৫)। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ  () বলেন:আমি কি তোমাদেরকে বলব না তোমাদের জন্য সর্বোত্তম কর্ম কোনটিতোমাদের প্রভূর নিকট সবচেয়ে পবিত্রতোমাদের জন্য সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার কারণস্বর্ণ ও রৌপ্য দান করার চেয়েও উত্তমজিহাদের ময়দানে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে শত্রু নিধন  করতে করতে শাহাদাত বরণ করার থেকেও উত্তম কর্ম কী তা-কি তোমাদেরকে বলবসাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রসূলসেই কর্মটি কীতিনি বললেন: আল্লাহর যিকর। মুআয ইবনু জাবাল (রা) বলেনআল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর যিকরের চেয়ে উত্তম ইবাদত আর কিছুই নেই। হাদীসটির সনদ হাসান। (মুসনাদ আহমদ ৬/৪৪৬হাইসামী,মাযমাউয যাওয়াইদ ১০/৭৩,৭৪তিরমিযী ৫/৪৫৯৩৩৭৭,ইবনু মাজাহ ৩৭৯০মুসতাদরাক হাকীম ১/৬৭৩প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৬) অন্য হাদীসে বলা হয়েছেআল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেবেশি বেশি আল্লাহর যিকর করার জন্য। আর আল্লাহর যিকরের উদাহরণ এমন যেএক ব্যক্তিকে শত্রুগণ ধাওয়া করে তার পিছে দ্রুত এগিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় লোকটি একটি সুসংরক্ষিত দূর্গে এসে পৌঁছল এবং সে দূর্গের মধ্যে আত্মরক্ষা করল। অনুরূপভাবে বান্দা আল্লাহর যিকর ছাড়া শয়তানের কবল থেকে রক্ষা পায় না। হাদীসটি সহীহ। (সহীহ ইবনু খুযাইমা ৩/১৯৫মুসতাদরাক হাকিম ১/৫৮২আত তারগীব ২/৩৭০-৩৭১প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৬)।

আল কুরআনের আলোকে যিকরে ইলাহি
কাকে স্মরণ করবোকি পরিমাণে স্মরণ করবোএ প্রসঙ্গে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা ফরমানঃ “হে ঈমানদার গণতোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর”(সুরা আহযাব – ৪১)
কখন স্মরণ করবোএ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ফরমানঃ (ক)সকাল-সন্ধ্যা তোমরা রবের স্মরণ কর” (সুরা দাহার -২৫)।
 (খ) “অতঃপর তোমরা যখন নামায সম্পন্ন কর তখন দন্ডায়ামানউপবিষ্ঠ ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর” (সুরা নিসা ১৪২)।
কেন স্মরণ করবোএ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ফরমানঃ(ক) ওয়াকাব্বিরহু তাকবীরাঃ আল্লাহতায়ালার মহানত্বকে দুনিয়াতে বুলন্দ করাতুলে ধরাপ্রচার করা। এটাই পরম সত্য যেআল্লাহু আকবারআল্লাহ সবচেয়ে বড়সবচেয়ে মহানআর তাঁর স্মরণও বড়।
(খ) “আল্লাহর স্মরণই (জিকির) সবচেয়ে বড়” (সুরা আনকাবুত – ৪৫)।
(খ)একমাত্র আল্লাহর যিকিরেই (মানুষের) ক্বলব(মন) প্রশান্তি লাভ করে (আল কুরআন)”

কিভাবে স্মরণ করবোএ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ফরমানঃ “তুমি স্বীয় অন্তকরণে তোমার প্রতিপালককে স্মরণ কর বিনয়ের সাথে এবং ভয়ের সাথে আরও স্মরণ কর প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় উচ্চ স্বর ব্যতিরেকে নিন্ম স্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভূক্ত হয়ো না” (সুরা আরাফু- ২০৫)।
কারা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণকারী?এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ফরমানঃতারাই জ্ঞানী ব্যক্তি যারা দাঁড়ানো বসা এবং শোয়া অবস্থায় তথা সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে (সুরা আল ইমরান – ১৯১)।

আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণের জাযা (বদলা) কি?এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ফরমানঃ

(ক) তোমরা আমাকে স্মরণ করোআমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো -১৫২

(খ)আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণকারী এবং স্মরণ কারিণীআল্লাহ তাদের জন্য মাগফিরাত ও প্রতিদানের ব্যবস্থা রেখেছেন” (সুরা আহযাব- ৩৫)।
আল হাদীসের আলোকে যিকরুল্লাহর ফজিলত
সার্বক্ষণিক যিকরের ফজিলতঃ

(১) লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)।এই কালামের সংক্ষিপ্ত নাম কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ বা তাহলীল। দ্বীন ইসলামে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বপ্রথম যিকর।
জাবির (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (বলেছেন: সর্বোত্তম যিকর লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ এবং সর্বোত্তম দু'আ আলহামদুলিল্লাহ হাদীসটি সহীহ। (সুনানুত তিরমিযী ৫/৪৬২নং ৩৩৮৩সুনানু ইবনু মাজাহ ২/১২৪৯নং ৩৮০০সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/১২৬মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩২৬-৩২৯মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৭৬৬৮১।(প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৬)।।.

আবু হুরাইরা (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ()বললেনঃ তোমাদের ঈমানকে নবায়ন কর। তাঁকে প্রশ্ন করা হলোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহকিভাবে আমরা আমাদের ঈমানকে নবায়িত করবোতিনি বললেনঃ তোমরা বেশি বেশি লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলবে হাদীসটির সনদ হাসান অর্থাৎ সুন্দর বা গ্রহণযোগ্য। (মুসতাদরাক হাকীম ৪/২৮৫মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫২২/২১১১০/৮২আত-তারগীব ২/৩৯৪প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৬)।

যিকর নং- ২. সুবহা-নাল্লা-হঃ অর্থঃ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

যিকর নং- ৩. আলহামদুলিল্লাহঃ প্রশংসা আল্লাহর জন্য

যিকর নং- ৪. আল্লাহু আকবারঃ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

উপরের যিকর চারটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বাক্য। এগুলি পাঠ ও জপ করার সাওয়াব ও বরকত অপরিমেয়। দুই ভাবে এই যিকরগুলি পালন করতে হয় :

(১) গণনাবিহীনভাবে সদা সর্বদা জপ করে এবং
(২) নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যায় জপ করে।

মুমিন সর্বদা এই বাক্যগুলি জপ করার চেষ্টা করবেন। সর্বদা না পারলে সুযোগমত বেশি বেশি জপ করবেন। এগুলির ফযীলত অনেক সহীহ ও হাসান হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

এক হাদীসে সামুরা ইবনে জুনদুব (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বাক্য চারটিসুবহা-নাল্লাহআল-হামদুলিল্লাহলা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার তুমি ইচ্ছামতো এই বাক্য চারটির যে কোন বাক্য আগে পিছে বলতে পার”(সহীহ মুসলিম ৩/১৬৮৫নং ২১৩৭প্রাগুক্তঃ ৩৭)।

আবু হুরাইরা (রাবলেনরাসূলুল্লাহ (বলেছেনঃ “আমি সুবহা-নাল্লা-হআলহামদুলিল্লাহলা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ  এবং আল্লাহু আকবার বলতে এত বেশি পছন্দ করি যেএগুলি বলা আমার কাছে পৃথিবীর বুকে সূর্যের নিচে যা কিছু আছেসবকিছু থেকে বেশি প্রিয়” (সহীহ মুসলিম ৪/২০৭২নং ২৬৯৫)

আবু হুরাইরা (রাবলেনরাসূলুল্লাহ (বলেছেনঃ “তোমরা যখন জান্নাতের বাগানসমূহে যাবে বা তা অতিক্রম করবে তখন তৃপ্তির সাথে বিচরণ ও ভক্ষণ করবে আমি বললামহে আল্লাহর রসূলজান্নাতের বাগানসমূহ কিতিনি বললেনঃ মসজিদসমূহ আমি বললামবিচরণ ও ভক্ষণ  কিতিনি বললেনঃ সুবহা-নাল্লা-হআলহামদুলিল্লাহএবং আল্লাহু আকবার হাদীসটি হাসান (সুনানুত তিরমিযী ৫/৫৩২নং ৩৫০৯আত তারগীব ২/৪২২নং ২৩২৩মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯১)

ইবনু মাসউদ (রা), সালমান ফারিসী (রা), আবু হুরাইরা (রাও ইবনু আব্বাস (রাবর্ণিত বিভিন্ন হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (বলেছেন যেএই বাক্য চারিটির প্রতিটি বাক্য একবার বললে জান্নাতে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করা হয়” (ইমাম মুনযিরীআত-তারগীব ২/৪০৭-৪০৮মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৮৮-৯০)।।.

আবু যর (রাও আয়েশা (রাবর্ণিত বিভিন্ন হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (বলেছেনএই বাক্যগুলির প্রত্যেক বাক্য একবার যিকর করা একবার আল্লাহর ওয়াস্তে দান করার সমতুল্য” (সহীহ মুসলিম ১/৪৯৮নং ৭২০/৬৯৭নং ১০০৬)

আবু সালমা (রাথেকে বর্ণিত হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (বলেছেনঃ এই বাক্যগুলি কিয়ামতের দিনে বান্দার আমলনামায় সবচেয়ে বেশি ভারী হবে (নাসাঈআস-সুনানুল কুবরা ৬/৫০মুসনাদ আহমদ ৩/৪৪৩৪/২৩৭৫/৩৬৫তাবারানী,
আল-মুজামুল কাবীর ২২/৩৪৮মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৯১০/৮৮)।

আবু হুরাইরা (রাবর্ণিত হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (বলেছেনঃ এই বাক্যগুলিই জাহান্নামের আগুন থেকে মুমিনের ঢাল (মুসতাদরাক হাকিম ১/৭২৫নাসাঈআস-সুনানুল কুবরা ৬/২১২মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৮৯আত তারগীব ২/৪১৬ প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৭-৩৮).

আনাস রাঃ বর্ণিত হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (বলেছেনঃ গাছের ডালে ঝাকি দিলে যেমন পাতাগুলি ঝরে যায় অনুরুপভাবে এই যিকরগুলি বললে বান্দার গোনাহ ঝরে যায়(মুসনাদু আহমদ ৩/১৫২আত তারগীব ২/৪১৮প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৮)

আবু হুরাইরা (রা) ও আবু সাঈদ (রা) উভয়ে “নবীয়ে আকরাম  (থেকে বর্ণনা করেছেঃ আল্লাহ এই চারটি বাক্যকে বেছে পছন্দ করে নিয়েছেন। এই বাক্যগুলির যে কোনো একটি বাক্য একবার বললে আল্লাহ ২০টি সাওয়াব প্রদান করবেন এবং ২০টি গোনাহ ক্ষমা করবেন। আর এভাবে যে বেশি বেশি যিকর করবে সে মুনাফিকী থেকে মুক্তি লাভ করবে(নাসাঈআস-সুনানুল কুবরা ৬/২১০মুসনাদ আহমদ ২/৩১০৩/৩৫৩৭মুসান্নাফু ইবনু আবী শাইবা ৬/১০৪মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১০৪আত তারগীব ২/৪১০নং ২২৯৯,)

আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাঃ বর্ণিত হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (বলেছেনঃ এই চারটি বাক্য যিকরকারী প্রতিটি বাক্যের প্রতিটি অক্ষরের জন্য ১০টি করে সাওয়াব লাভ করবে(তাবারানী, আল-মু'জামুল আউসাত ৬/৩০৯আল-মু'জামুল কাবীর ১২/৩৮৮মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯১আত-তারগীব ২/৪২১)।

সাহাবীগণও এ সকল বাক্য বেশি বেশি  করে যিকর করতে উৎসাহ প্রদান করেছেন। “আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাঃ বলেনঃ সুবহা-নাল্লাহআল-হামদুলিল্লাহলা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলা আমার নিকট আল্লাহর রাস্তায় সমসংখ্যক স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করার চেয়েও বেশি প্রিয়(মুসান্নাফু ইবনি আবী শাইবা ৬/৯২৭/১৭৬১৭৭বাইহাকীশুআবুল ঈমান ১/৪৪৭৪৪৮)।

তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি সম্পদ ব্যয় করতে কৃপণতা বোধ করেশত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করতে ভয় পায় এবং রাত জেগে ইবাদত করতে আলসেমি অনুভব করেসে যেন বেশি বেশি করে লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহআল্লাহু আকবারআল-হামদুলিল্লাহ এবং সুবহা-নাল্লাহ বলতে থাকে। হাদীসটির সনদ সহীহ(তাবারানীআল-মু'জামুল কাবীর৯/২০৩মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯০আত-তারগীব ২/৪২০-৪২১)

যিকর নং ৫:  লা-হাওলা ওয়ালা-ক্কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।

কোনো অবলম্বন নেইকোনো ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া
এই বাক্যের বেশি বেশি যিকর বা জপ করার নির্দেশ অনেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

এক হাদীসে আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (বলেছেন: তোমরা বেশি বেশি করে 'চিরস্থায়ী নেককর্মগুলিকর। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেনঃ এগুলি কিতিনি বললেনঃ তাকবীর (আল্লাহু আকবার)তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ)তাসবীহ (সুবহা-নাল্লাহ)তাহমীদ (আল হামদু লিল্লাহ) এবং 'লা-হাওলা ওয়ালা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' হাদীসটির সনদ হাসান(মুসনাদ আহমদ ৩/৭৫৪/২৬৭সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/১২১মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৯৪৭২৫মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/২৪৭৭/১৬৬১০/৮৬৮৭৮৯মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৩৭-৩৩৯ প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৮)।

আবু মুসা (রা)আবু হুরাইরা (রা)আবু যার (রা)মু'আয ইবনু জাবাল (রা)সা'দ ইবনু উবাদাহ (রা) প্রমুখ সাহাবী থেকে বর্ণিত অনেকগুলি হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (বলেছেনতোমরা লা-হাওলা ওয়ালা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলবেকারণ এ বাক্যটি জান্নাতের ভান্ডারগুলির মধ্যে একটি ভান্ডার ও জান্নাতের একটি দরজা” (সহীহ বুখারী ৪/১৫৪১৫/২৩৪৬৫/২৩৫৪৬/২৪৩৭২৬৯০সহীহ মুসলিম ৪/২০৭৮,মুনযিরীআত তারগীব ২/৪৩২-৪৩৬মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯৭-৯৯)

আবু আইউব আনসারী (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ()বলেছেনমে'রাজের রাত্রিতে ইবরাহীম (আঃ) আমাকে বলেনঃ আপনার উম্মতকে নির্দেশ দিবেনতারা যেন বেশি করে জান্নাতে বৃক্ষ রোপন করে......। জান্নাতের বৃক্ষ রোপন লা-হাওলা ওয়ালা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলা হাদীসটির সনদ হাসান (মুসনাদে আহমদ ৫/৪১৮আত তারগীব ২/৪৩৫মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯৭প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৯)

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ()বলেছেনপৃথিবীতে যে কোনো ব্যক্তি যদি বলে:লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবারওয়া লা-হাওলা ওয়ালা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেইআল্লাহ মহানকোনো অবলম্বন নেই এবং কোনো ক্ষমতা নেইআল্লাহর  সাহায্য  ছাড়া)তবে তার সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবেযদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয় হাদীসটি হাসান (সুনানুত তিরমিযী ৫/৫০৯নং ৩৪৬০মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৮২তারগীব ২/৪১৮নং ২৩১৪,প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৯)।

 (৬) যিকর নং ৬:  (সর্বদা পালনীয় ইসতিগফার)

রাব্বিগ্ ফিরলীওয়া তুব 'আলাইয়্যাইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুল গাফূর
অর্থঃ “হে আমার প্রভুআপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী”(প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৯)                                                                                                                                                                                                                                            “সদা সর্বদা ও বেশি বেশি ইসতিগফার করতে বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে কুরআন ও হাদীসে বারংবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে(প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৯) 

রাসূলুল্লাহ ()বলেছেনহে মানুষেরাতোমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর। নিশ্চয় আমি একদিনের মধ্যে ১০০ বার আল্লাহর নিকট তাওবা (ইস্তিগফার) করি(সহীহ মুসলিম৪/২০৭৫নং ২৭০২প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৯)

আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেনআমরা গুণে দেখতামরাসূলুল্লাহ ()এক মাজলিসেই (একবারের যে কোন বৈঠকের মধ্যে) মাজলিস ত্যাগ করে উঠে যাওয়ার আগে ১০০ বার এই বাক্যটি (রাব্বিগ্ ফিরলী...গাফূর) বলতেন” (সুনানুত তিরমিযী ৫/৪৯৪, নং ৩৪৩৪সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/২০৬নাসাঈআস-সুনানুল কুবরা ৬/১১৯। তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৯)

(৭) যিকর নং ৭ : (মাসনূন ইসতিগফার)
আসতাগফিরুল্লা-হাল ('আযীমাল্)লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা হুআল হাইউল কাইউমু ওয়া আতুবু ইলাইহি
অর্থঃ “আমি মহান আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছিযিনি ছাড়া কোনো মা'বুদ নেইতিনি চিরন্জীব ও সর্ব সংরক্ষক এবং তাঁর কাছে তাওবা করছি

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ()বলেনযদি কেউ এই কথাগুলি তিনবার বলেতাহলে তার গোনাহসমূহকে ক্ষমা করা হবেযদি সে জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে আসার মতো কঠিন পাপও করে থাকে হাদীসটিকে হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন” (মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৯২২/১২৮সুনানু আবী দাউদ২/৮৫নং ১৫১৭প্রাগুক্ত পৃঃ ৪০) 

(৮) যিকর নং ৮: সদা সর্বদা পালনের বিশেষ দু'
 “আল্লা-হুম্মাগ্ ফিরলীওয়ারহামনীওয়াহদিনী, 'ওয়া আফিনীওয়ারযুকনী

অর্থঃ “হে আল্লাহআমাকে ক্ষমা করুনআমাকে দয়া করুনআমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুনআমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন (প্রাগুক্ত পৃঃ ৪০)  

সাহাবী আবু মালিক আশ'আরী (রা) তাঁর পিতা সাহাবী আসিম (রা) থেকে বর্ণনা করেছেনকেউ ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ (তাঁকে উপরের বাক্যগুলি (আল্লা-হুম্মাগ ফিরলী....ওয়ারযুকনী)  দিয়ে বেশি বেশি দু'আ করতে শেখাতেন(সহীহ মুসলিম ৪/২০৭৩নং ২৬৯৭প্রাগুক্ত পৃঃ ৪০)


এই দু'আর মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কিছুই চাওয়া হয়েছে। মুমিনের উচিত সকল ব্যস্ততার মধ্যে এই মুনাজাতটি বলতে থাকা (প্রাগুক্ত পৃঃ ৪০)।
রোগীর সেবা করা সওয়াবের কাজ


রোগী সেবা বা খোঁজ খবর নেয়া শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়বরং এটি এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের দ্বীনি অধিকার। কোনো অসুস্থ ব্যক্তির প্রতি সমবেদনাসহানুভূতি ও সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা আল্লাহ থেকে বিরত থাকার শামিল। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কেয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেনহে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলামতুমি আমাকে সেবা করনি। বান্দা বলবেহে প্রভু! আপনি তো সব সৃষ্টির প্রতিপালকআমি কিভাবে আপনার সেবা করতামআল্লাহ বলবেনআমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিলতুমি তার সেবা করনিতুমি যদি তার সেবা করতে তাহলে সেখানে আমাকে পেতে!' (মুসলিম)
মহামারি করোনায় বিপর্যস্ত পুরো দুনিয়া। যেখানে কেউ কারো সেবা করা তো দূরের কথাকারো করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে শুনলেই তাকে এক ঘরে বা বয়কট করছে। সে পরিস্থিতিতে অসুস্থ রোগীর সেবা করবে কিভাবে?
হ্যাঁ এ পরিস্থিতিতেও সেবা করা সম্ভব। দূর থেকে তাকে সহযোগিতা করা। তার মনোবল চাঙ্গা রাখতে খোঁজ-খবর নেয়া। সুস্থ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা। তার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বা পথ্য এনে দেয়াসহ তার সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বেশি দোয়া করা। আর তাতেই ন্যুনতম অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করার হক আদায় হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনএক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ৬টি হক রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো- কোনো মুসলমান যখন অসুস্থ হয়ে যাবে তখন তার সেবা করা।' (মুসলিম)
অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ খবর নেয়া বা তাকে দেখতে যাওয়া বা তার কোনো সহযোগিতায় রয়েছে অনেক ফজিলত ও মর্যাদা। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনযখন কোনো বান্দা তার অসুস্থ মুসলমান ভাইকে দেখতে যায় অথবা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য যায় তখন একজন ফেরেশতা উচ্চস্বরে চিৎকারকারী আকাশ থেকে চিৎকার করে বলেন- তুমি ভালো থাকতোমার চলাফেরা ভালো ছিলতুমি বেহেশতে ঠিকানা করে নিয়েছ।' (তিরমিজি)
সুতরাং রোগীর কাছে গিয়ে তার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করা। তার জন্য সুস্থতার দোয়া করা। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে পৌছতেন তখন জিজ্ঞাসা করতেন,তোমার অবস্থা কেমনঅতপর সান্ত্বনা দিতেন এবং বলতেন-
لَا بَاْسَ طُهُوْرَ اِنْ شَاءَ اللهُ
উচ্চারণ : 'লা বাসা তুহুরা ইনশাআল্লাহ'
অর্থ : 'ভয়ের কোনো কারণ নেইআল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হয়ে যাবে।'
তার কষ্ট লাগবে দোয়া করতেন-
اَللَّهُمَّ اَذْهِبِ الْبَاْسَ رَبَّ النَّاسِ اِشْفِهِ وَ اَنْتَ الشَّافِىْ لَا شِفَاءَ اِلَّا شِفَاءٌ لَّا يُغَادِرُ سُقْمًا
উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা আজবিবিল বাসা রাব্বান্নাসি ইশফিহি ওয়া আংতাশ শাফি লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা লা ইয়ুগাদিরু সুক্বমা।'
অর্থ : 'হে আল্লাহ! এ কষ্টকে দূর করে দাও। হে মানুষের প্রভু! তাকে সুস্থতা দান কর। তুমিই সুস্থতা দানকারী। তুমি ছাড়া আর কারো কাছে সুস্থতার আশা নেই। এমন সুস্থতা দান কর যেরোগের নাম নিশানাও না থাকে।' (বুখারি ও মুসলিম)
সুতরাং মহামারি করোনার এ প্রাদুর্ভাবের সময় যারা অসুস্থ তাদের মনোবল বাড়াতে বেশি বেশি খোঁজ খবর নেয়াসহ মানসিকভাবে তাদের আশ্বস্ত করা সবার জন্য জরুরি। আর তাদের জন্য হাদিসে শেখানো দোয়াগুলোর মাধ্যমে তাদের সুস্থতা কামনা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীর সেবা ও তাদের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ক্রম
আরবী দু'আ
উচ্চারণ
বাংলা অর্থ
রেওয়াত (বর্ণনা)
   ০১
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ



উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
(এ বাক্যটি তিন বার পাঠ করতে হয়। -সহীহ মুসলিম: ১৩৬২)
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
https://youtu.be/nUyeV4Hz80Y (Fatima’s Ayatul kurshi)
 সাওবান রাদ্বয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ () সালাত শেষে ৩(তিন) বার ইস্তিগফার করতেন। (সহীহ মাসনূন ওযিফা, পৃষ্ঠাঃ ৪১)।ডক্টর আ.ন.ম.খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহিমাহুল্লাহ)।   
   ০২
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ



উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সালা-মওয়া মিন‌্কাস্ সালা-মতাবা-রক‌্তা ইয়া-জাল‌্ জালা-লি ওয়াল ইকরাম।


অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই সালাম (শান্তি), আপনার থেকেই শান্তি, হে মহাসন্মানের অধিকারী ও মর্যাদা প্রদানের অধিকারী, আপনি বরকতময়।


সাওবান রাদ্বয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ () সালাত শেষে ৩(তিন) বার ইস্তিগফার বলে এরপর আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম....বলতেন (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪, নং ৫৯১)।

এ বিষয়ে আয়েশা (রাঃ) ও অন্যান্য সাহাবী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে (সহীহ মাসনূন ওযিফা, পৃষ্ঠাঃ ৪১)
   ০৩
ﺃﻟﻠﻬﻢ ﺃﺟﺮﻧﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্ না-র।
হে আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
হারিস ইবনু মুসলিম (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ()  আমাকে বলেছেন,  তুমি ফজরের সালাতের পরেই (দুনিয়াবী) কথা বলার আগেই এই দু'আ (আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্ না-র ) ৭বার বলবে। যদি তুমি ঐ দিনে মৃত্যুবরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। অনুরূপভাবে মাগরিবের সালাতের পরে কথা বলার আগেই এই দুআ ৭বার বলবে। যদি তুমি রাত্রে মৃত্যু বরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।  অধিকাংশ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেছেন।
(নাসাঈ, আস্ সুনানুল কুবরা ৬/৩৩, সুনানু আবু দাউদ ৪/৩২০, নং ৫০৭৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৬৭, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৬১-৩৬৫, নাবাবী, আযকার, পৃঃ ১১৫, যাকারিয়্যা, আল ইখবার, পৃঃ ৬৫, সহীহ মাসনূন ওযিফা, পৃঃ ৪১)।
  ০৪





لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ اَللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ


উচ্চারণ: লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল্ হামদু। ওয়া হুয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদী-র। আল্লাহুম্মা লা-মা-নি'য়া লিমা- আ'ত্বইতা। ওয়া-লা মু'তিয়া লিমা- মানাতা ওয়ালা- ইয়ানফা'উ জাল্ জাদ্দি মিন‌্কাল‌্ জাদ্দু।
(এ দোয়াটি একবার পাঠ করতে হয়। -সহীহ বোখারি ও মুসলিম)
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো মা'বুদ নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই। কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রম আপনার ইচ্ছার বাইরে কোনো উপকারে লাগে না।
মুগীরা ইবনু শু'বা (রা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ () প্রত্যেক সালাতের সালামের পরেই এই যিকরটি বলতেন
সহীহ বুখারী:১/২৮৯, নং ৮০৮, ৫/২৩৩২, নং ৫৯৭১, সহীহ মুসলিম, ১/৪১৪-৪১৫, নং ৫৯৩, সহীহ ইবনু হিব্বান, ৫/৩৪৫-৩৪৮, ৫/৩৪৯ (প্রাগুক্ত পৃঃ ৪২)


 ০৫
اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡحَ
الۡقَيُّوۡمُ ‌ۚلَا تَاۡخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوۡمٌؕ لَّهٗ مَا فِىۡ السَّمٰوٰتِ وَمَا فِىۡ الۡاَرۡضِؕ مَنۡ ذَا الَّذِىۡ يَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖؕ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۚ وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ بِشَىۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ‌‌ۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ‌‌ۚ وَلَا يَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ الۡعَلِىُّ الۡعَظِيۡمُ
[আল্লাহু লা- ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বিয়্যুম
লা- তাখুজুহু সিনাতু ওয়ালা-নাউম। লাহু মা –ফিছছামা-ওয়াতি ওয়ামা- ফিল আরদ্। মান্ যাল্লাযী ইয়াশ‌্ ফা'উ ইন দাহু- ইল্লা-বি ইজনিহ্ । ই'য়ালামু মা-বাইনা আইদিহিম ওয়ামা-খ্বলফাহুম ওয়ালা-ইউহিতু-না বিশাই ইম্ মিন 'ইলমিহী- ইল্লা-বিমা শা-আ ওয়াসি'য়া কুরসিইউ হুস‌্ ছামা -ওয়াতি ওয়াল্ আরদ্, ওয়ালা -ইয়া উদুহু- হিফ‌্জুহুমা- ওয়াহুয়াল 'আলিয়্যুল 'আজী-ম (আয়াতুল কুরসি: সূরা বাকারা :২৫৫ নং আয়াত]

আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি শাশ্বত, চিরঞ্জীব। বিশ্বপ্রকৃতির সর্বসত্তারধারক। তিনি তন্দ্রা-নিদ্রাহীন সদাসজাগ। মহাকাশও পৃথিবীর সবকিছুর মালিক। তাঁর সদয় অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করার সাধ্য কারো নেই। দৃশ্যমান বা অদৃশ্যঅতীত বা ভবিষ্যৎসৃষ্টির সবকিছুই তিনি জানেন। তিনি যতটুকু জানাবেনএর বাইরে তাঁর জ্ঞানের সীমানা সম্পর্কে ধারণা করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তাঁর আসনতাঁর কর্তৃত্ব পৃথিবী ও নভোমণ্ডলের সর্বত্র বিস্তৃত। আর তা সংরক্ষণে তিনি অক্লান্ত। তিনি সর্বোচ্চ সুমহান।
আবু উমামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ () বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত) পাঠ করবে তাঁর জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।

হাদীসটি হাসান। নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৬/৩০,হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইড ২/১৪৮ল ১০/১০২, মুনাযিরী আত্ তারগীব ২/৪৪৮। অন্য হাদীসে হাসান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ () বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফরয সালাতের শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে সে পরবর্তী সালাত পর্যন্ত আল্লাহর জিম্মায় থাকবে (সূত্রঃ হাদীসটি হাসান। তাবারানী, কাবীর ৩/৮৩। হাইসামীল মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১৭, সহীহুত তারগীব ১/৩৪৫ (প্রাগুক্ত পৃঃ ৪২)

উবাই ইবনু কা'ব (রা) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিন থেকে হেফাযতে থাকবে এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত জ্বিন থেকে হেফাযতে থাকবে। হাদীসটি সহীহ (সূত্রঃ তাবারানী, আল মু'জামুল, কাবীর ১/২০১, মুসতাদরাক হাকীম ১/৭৪৯ল মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১৭, সহীহুত তারগীব ১/৩৪৫ (প্রাগুক্ত   পৃঃ ৪২)
  ০৬
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
 قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
 اللَّهُ الصَّمَد
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّـٰثَـٰتِ فِى ٱلۡعُقَدِ
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ
مَلِكِ ٱلنَّاسِ
إِلَـٰهِ ٱلنَّاسِ
مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
ক্বুলহু ওয়াল্লাহু আহাদ
আল্লাহুস‌্ স্বমাদ
লাম‌্ ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুয়ান‌্ আহাদ।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম



ক্বুল আ'উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব
মিন‌্ শাররি মা-খলাক্ব।
 ওয়ামিন শাররি গ-সিক্বিন ইযা- ওয়াক্বাব।
ওয়া মিন‌্ শাররিন নাফ্‌ফাচা-তি ফিল্‌ উকাদ।
ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ।


বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

ক্বুল আ'উযু বিরাব্বিন না-স।
মালিকিন্না-স। ইলাহিন্না-স। মিন শাররীল ওয়াস ওয়া-সিল খন্না-স।
আল্লাযি ইউওয়াস্ উইসু ফী- সুদূ-রিন্না-স। মিনাল‌্ জিন্নাতি ওয়ান্ না-স।
১) বলুন,  তিনি আল্লাহ  এক ৷
২) আল্লাহ কারোর ওপর নির্ভরশীল নন এবং সবাই তাঁর ওপর নির্ভরশীল ৷
৩) তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারোর সন্তান নন৷
৪) এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই৷
পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে (আরম্ভ) করছি।
(হে নবী! আপনি) বলুনআমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের স্রষ্টার। আশ্রয় গ্রহণ করছি তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকেরাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে,গ্রন্থিতে ফুৎকারদানকারী ডাইনিদের অনিষ্ট থেকেহিংসুকের হিংসার অনিষ্ট থেকে।

পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে (আরম্ভ) করছি।

বলুনআমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার।
মানুষের অধিপতির,
মানুষের মা'বুদেরতার অনিষ্ট থেকেযে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে,
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে,
জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
রাসূলুল্লাহ () বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে লোকদের বলেছেন সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান  এ মর্মে হাদীসের কিতাবগুলোতে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বুখারী তিরমিযী মুসলিম আবু দাউদ নাসাঈ ইবনে মাজাহ মুসনাদে আহামাদ তাবারানী ইত্যাদি কিতাবগুলোতে বহু হাদীস আবু সাঈদ খুদরী আবু হুরাইরা আবু আইয়ুব আনসারী কুলসুম বিনতে উকবাহ ইবনে আবী মুআইত ইবনে উমর ইবনে মাসউদ কাতাদাহ ইবনুন নূমানআনাস ইবনে মালেক ও আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হয়েছে।

উকবা ইবনু আমির (রা) বলেনরাসূলুল্লাহ ()  আমাকে নির্দেশ দিয়েছেনপ্রত্যেক সালাতের পরে সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পাঠ করতে । দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ () আমাকে প্রত্যেক সালাতের পরে মু'আওয়িযাত, (সূরা ইখলাসসূরা ফালাক ও সূরা নাস) পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র?হাদীসটি হাসান(সূত্রঃ  সুনানু আবী দাউদ ২/৮৬নং ১৫২৩। সুনানুত তিরমিযী ৫/১৭১নং ২৯০৩সহীহুত তিরমিযী ২/৮ফাতহুল বারী ৯/৬২। সুনানুন নাসাঈ ৩/৬৮ল সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৪৪নং ২০০৪ (প্রাগুক্তঃ ৪২)। অন্য হাদীসে এই তিনটি সূরা তিন বার করে সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (প্রাগুক্ত পৃঃ ৪২)
   ০৭
سُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ

সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী
আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা (বা প্রশংসাময় পবিত্রতা) ঘোষণা করছি।

আবু তালহা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ()  বলেছেন: যদি কেউ ১০০ বার সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী বলে, তাহলে আল্লাহ তাঁর জন্য ১,২৪,০০০ (এক লক্ষ চব্বিশ হাজার) সাওয়াব লিখবেন। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে তো আমাদের কেউই বিপদে   পড়বে না (জাহান্নামে কাউকেই যেতে হবে না) তিনি বলেন: হাঁ। তোমাদের অনেকেই এত বেশি সাওয়াব নিয়ে কিয়ামতের দিন হাজির হবে যে, পাহাড়ের উপরে দিলেও পাহাড় ভেঙ্গে যাবে, কিন্তু এরপর আল্লাহ তাঁকে যে নিয়ামত দিয়েছিলেন তা এসে সব নিয়ামত নিয়ে চলে যাবে। এরপর মহাপ্রভূ রহমত নিয়ে এগিয়ে আসবেন। হাদীসটি সহীহ। (মুসতাদরাক হাকীম ৪/২৭৯) (প্রাগুক্ত পৃঃ ৪৫)।
ইসলামী জীবন-জিন্দেগী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউটিউবে ভিজিট করিঃ https://youtu.be/8h4qmZqGkvo

নামায পরবর্তী দোয়া ও যিকির সমূহ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফযর ও মাগরিব সালাতের পর কী কী যিকর ও দু'আগুলো করতেন। এখানে বিশেষ কিছু দু'আ ও যিকর দেয়া হল।। এগুলো কখনই মিস করবেন না ইনশাআল্লাহ। সবগুলোই অথেনন্টিক হাদিস অনুসারেনিশ্চিন্তে আ'মাল করতে পারেন।
১. আয়াতুল কুরসী ১ বার। ফযরের পর পড়লে মাগরিব পর্যন্তমাগরিবেরর পর পড়লে ফযর পর্যন্ত জ্বীন থেকে হিফাযাতে থাকবে। প্রত্যেক ফরযের পর পড়লে জান্নাতি হবে।
২. أللهم أجرني من النار "আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার" ৭ বারফযর ও মাগরিবের পর। সে দিন বা সে রাতে মারা গেলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।
৩. সূরা ইখলাসফালাক্ব ও সূরা নাসপ্রত্যেকটি ৩ বার করেফযর ও মাগরিবের পর। রাসূল (সা.) বলেনসকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পড়লে তোমার আর কিছুরই দরকার হবে না।
৪. দরুদ শরীফ ১০ বারফযর ও মাগরিবের পর। কিয়ামাতের দিন রাসূলের সা. শাফা'আত অর্জন করবে।
৫. حسبي الله لا إلاه إلا هو عليه توكلت وهو رب العرش العظيم "হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া 'আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হু ওয়া রাব্বুল 'আরশিল 'আযীম" ৭ বারফযর ও মাগরিবের পর। সকল দুশ্চিন্তাউৎকণ্ঠা ও সমস্যা মিটে যাবে।
৬. رضيت بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد نبيا "রাদ্বীতু বিল্লাহি রাব্বাওয়াবিল ইসলামি দ্বীনাওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা" ৩ বারফজর ও মাগরিবের পর। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ উক্ত ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করবেন।
৭. يا حي يا قيوم برحمتك أستغيث أصلح لي شأني كله ولا تكلني إلي نفسي طرفة عين "ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূমু বিরাহমাতিকা আসতাগীসআসলিহ লী শানি কুল্লাহুওয়ালা তাকিলনী ইলা নাফসী তরাফাতা 'আইন" ১ বারফযর ও মাগরিবের পর। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় মেয়ে ফাতিমা (রা.) কে পড়তে ওসীয়ত করেছিলেন।
৮. سبحان الله وبحمده عدد خلقه ورضى نفسه وزنة عرشه ومداد كلمته "সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহী, 'আদাদা খালক্বিহীওয়া রিদ্বা নাফসিহীওয়া যিনাতা 'আরশিহীওয়া মিদা দা কালিমাতিহি" ৩ বারফযর ও মাগরিবের পর। বিশাল সওয়াব।
৯. بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيئ في الأرض ولا في السماء وهو السميع العليم "বিসমিল্লা হিল্লাযি লা ইয়াদ্বুররু মা'আসমিহী শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা ই ওয়া হুওয়াস সামীঊল 'আলীম" ৩ বারফযর ও মাগরিবের পর। কোনোকিছুই ক্ষতি করতে পারবে না।
১০. "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি" সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়লে কিয়ামাতের দিন তার চেয়ে বেশী সাওয়াব আর কারো হবে না।
১১. সায়্যিদুল ইস্তিগফার ১ বারফযর ও মাগরিবের পর। অর্থের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রেখে পড়লে জান্নাতি হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু'আ।
ইস্তিগফার এবং দু'আগুলোর অর্থসহ উচ্চারণের জন্য ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ্) স্যারের লেখা 'রাহে বেলায়েত - রাসূলুল্লাহর সা. যিকর-ওযীফাবইটি কিনতে পারেন।
রেফরেন্স - (১) তাবারানিহাকিমহাইসামীসহীহুত তারগীবনাসাঈ (২) আবু দাঊদইবনে হিব্বানআযকারসহীহাহ (৩) তিরমিযিসহীহুত তারগীব (৫) আবু দাঊদতারগীবআযকার (৬) হাইসামীসহীহাহসহীহুত তারগীবআহমাদ (৭) হাকিমহাইসামীসহীহুত তারগীব (৮) মুসলিম (৯) তিরমিযিহাকিমহাইসামী (১০) সহীহ মুসলিম (১১) বুখারী
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রত্যেককে আ'মালগুলো নিয়মিত করার তাঊফীক দিন।

সূরা আল ইমরানের দুইটি আয়াতের ফজিলত..The Virtues of the Two Verses of Surah Al-Imran


 আয়াত নাম্বার 26-27... প্রত্যহ ফজর ও মাগরিব নামাজের পর এই আয়াত কমপক্ষে 7 বার পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে ঋণ মুক্ত হবে এবং শত্রু পরাস্ত হবে....


 প্রত্যহ 5 ওয়াক্ত নামাজের পর এবং শোয়ার সময় সাতবার করে পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে অভাবনীয় রূপে উপার্জন বৃদ্ধি পাবে.. দারিদ্রতা দূর হবে এবং সকল দিক দিয়ে সফলতা নসিব হবে...


আয়াত দুটির বাংলা উচ্চারণ ... কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তুউতি মুলকা মান তাশাউ ওয়া তানজিউল মুলকি মিমমান তাশাউ ওয়া তুয়িজ্জু মান তাশাউ ওয়া তু জিল্লু মান তাশাউ...বিইয়াদিকাল খাইর.. ইন্নাকা আলা কুল্লি শায়য়িন কদির...তুউলিযুল লাইলা ফিননাহারি ওয়া তুউলিজুন নাহারা ফিল লায়লি..ওয়া তুখরিজুল হাইয়া মিনাল মায়্যিতা ওয়া তুখরিজুল মায়্যিতা মিনাল হায়্যি ওয়াতারযুকু মান তাশাউ বিগয়রি হিসাব...

 হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রা. বর্ণনা করেন একদা গভীর অন্ধকার রাতে বৃষ্টিপাতের মধ্যে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই  ওয়াসাল্লাম এর খোঁজে বাহির হইলাম...
 খুঁজে খুঁজে তাকে পেয়ে গেলাম... অতঃপর তিনি বললেন আবদুল্লা তুমি পাঠ করিও... আমি বললাম কি পাঠ করবো? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন প্রত্যহ সকাল সন্ধ্যায় সূরা কুলহু আল্লাহু আহাদ কুল আউজুবি রাব্বিল ফালাক ও কুল আউযুবি রব্বিননাছ  প্রতিটি তিনবার করিয়া পাঠ করিবে... তাহলে সর্ববিষয়ে ইহা তোমাদের জন্যে যথেষ্ট হয়ে যাবে...
 এই আমলটি করলে ইনশাল্লাহ শত্রুর শত্রুতা থেকে বেঁচে থাকবেন বালা-মুসিবত থেকে বেঁচে থাকবেন যাদুটোনা থেকে হেফাজত থাকবেন এবং জীন যাদু টোনা থেকে হেফাযত থাকবে


Comments

Popular posts from this blog

মুসলিম শিশু ছেলেদের জন্য সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু আনহুদের অর্থপূর্ণ নামের তালিকা

সন্তান জন্মের পর যে কাজগুলো সুন্নত-ই-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস, গুরুত্ব, ফজিলত এবং আশুরার রোজার নিয়মাবলী