জেনে রাখা ভাল



১."হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।"
📕 -(সূরা নাবা:৪০)…
See more
13K
1.6K comments
236 shares
Like
Comment
Share


২."হায়! যদি পরকালের জন্য কিছু করতাম।"
📕 -(সূরা ফজর:২৪)
৩."হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা না দেওয়া হতো।"
-📕 (সূরা আল-হাক্কাহ:২৫)
৪."হায়!আমি যদি ওকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।"
📕 -(সূরা ফুরকান;২৮)
৫."হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল ﷺ এর আনুগত্য করতাম।"
📕 -(সূরা আহযাব:৬৬)
৬."হায়! আমি যদি রাসূল ﷺ এর পথ অবলম্বন করতাম।"
📕 -(সূরা ফুরকান:২৭)
৭."হায়! আমিও যদি তাদের সঙ্গে থাকতাম, তা হলে বিরাট সফলতা লাভ করতে পারতাম।"
📕 -(সূরা আন-নিসা:৭৩)
৮."হায়! আমি যদি আমার রবের সঙ্গে কাউকে শরীক না করতাম।"
📕 -(সূরা কাহফ:৪২)
৯."হায়!এমন যদি কোনো সুরত হতো আমাদেরকে আবার দুনিয়াতে পাঠানো হতো,আমরা আমাদের প্রভুকে মিথ্যা প্রতিপন্ন না করতাম আর আমরা হতাম ঈমানদারদের শামিল।"
📕 -(সূরা আনআম:২৭)


 








পবিত্র কোরান মানবজীবনের উন্নতিকল্পে নবী মুহাম্মদ দ্বারা প্রচারিত হয়েছিল। প্রাচীনকালে অর্থাৎ কোরান প্রচারের শুরুর দিকে সুরা বা আয়েত প্রচার করা হলে তা সবাই শুনে মনে রাখতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে রাসুল (সা.) লিখিতভাবে কোরান সংকলন, সংরক্ষণ ও একত্রীকরণের ব্যবস্থা করেছিলেন।কোরান লিপিবদ্ধের জন্য তিনি চল্লিশজন ‘কাতেবে ওহি’ বা ‘ওহি লেখক’ নিযুক্ত করে ছিলেন। কাগজ ছাড়াও পাথর, চামড়া, খেজুরের ডাল, বাঁশের টুকরা, গাছের পাতা এবং চতুষ্পদ জন্তুর হাড়ের ওপর তখন কোরান লিখে সংরক্ষণ করা হতো।রাসূল (সা.) এর তত্ত্বাবধানে এভাবে লিপিবদ্ধের ধারাবাহিকতায় কোরানের একটি সংস্করন প্রস্তুত করা হয়েছিল, তবে তা পুস্তিকা বা গ্রন্থাকারে ছিল না। অন্যদিকে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে কোরানের সম্পূর্ণ অথবা অসম্পূর্ণ সংস্করন সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।ইতিহাসের পরম্পরায় বিভিন্ন দেশে কোরানের প্রচুর পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়।

পৃথিবীতে বর্তমানে কোরানের বেশ কয়েকটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির খোঁজ পাওয়া গেছে।


১) বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত পান্ডুলিপিঃ

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত পান্ডুলিপি[1]

২০১৫ সালে ব্রিটেনের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি কোরানের প্রাচীন পাণ্ডুলিপির দু’টি পাতার সন্ধান পান। পাতা দু’টি তৈরি করা হয়েছে চামড়ার কাগজ দিয়ে। তাতে লিখিত আয়াতগুলোতে সুস্পষ্ট আরবি-হিজাজি লিপি-রীতি অবলম্বন করা হয়েছে। এ পাণ্ডুলিপিটিকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত অন্যতম প্রাচীন পাণ্ডুলিপি বলা হচ্ছে। রেডিওকার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ৯৫.৪% নিশ্চয়তা দিয়ে দাবি করেছেন, পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছিল ৫৬৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।এই পাণ্ডুলিপি প্রায় ১৩৭০ বছরের প্রাচীন। যেহেতু কোরান প্রকাশ হয়েছিল ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত, তাই ধারণা করা হয়, এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবিত অবস্থায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।পাণ্ডুলিপিটির মাত্র দু'টি পৃষ্ঠার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে ১৮ থেকে ২০ নম্বর সূরার অংশবিশেষ লিপিবদ্ধ আছে। এর পৃষ্ঠাগুলো দৈর্ঘ্যে ৩৪.৩ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে ২৫.৮ সেন্টিমিটার, যা বর্তমানে প্রচলিত A4 সাইজের চেয়ে খানিকটা বড়।গবেষণা থেকে জানা যায় পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছিল গরুর বাছুর, ছাগল কিংবা ভেড়ার চামড়া থেকে প্রস্তুতকৃত কাগজের উপর।

২) সানাতে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিঃ

সানাতে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি [2]

১৯৭২ সালে ইয়েমেনের গ্রেট মস্ক অফ সানা'র একটি দেয়াল ধ্বসে পড়লে সেটি সংস্কার করার সময় মাটির নিচে গোপন একটি কুঠুরিতে থাকা প্রচুর প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়। ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ৮১টি পাতাকে কোরানের পাণ্ডুলিপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সানা কোরানের নিচের স্তরের লিপি। ( ছবিসুত্রঃWikimedia Commons)

কোরানের অন্য সব প্রাচীন পাণ্ডুলিপির তুলনায় সানা পাণ্ডুলিপিটি একেবারেই ভিন্ন । কারণ চামড়া থেকে তৈরি পার্চমেন্টের উপর এখানে একইসাথে দুইটি স্তরে ভিন্ন দুইটি কোরানের পাণ্ডুলিপির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ একই কাগজের উপর প্রথমে একবার কোরান লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কারণে সেই কালি মুছে ফেলা হয় এবং তার উপর আবার নতুন করে কোরান লিপিবদ্ধ করা হয়। পুরাতন লিপির কালিতে লৌহচূর্ণের উপস্থিতি থাকায়, সময়ের সাথে সাথে তা ছায়ার মতো করে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

রেডিওকার্বন ডেটিং থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা দাবি করেছেন — ৬৮ শতাংশ সম্ভাবনা আছে, পাণ্ডুলিপিটি রচনা করা হয়েছিল ৬১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। আর ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা আছে, এটি রচিত হয়েছিল ৫৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৬৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। অর্থাৎ পাণ্ডুলিপির প্রাচীন লিপিটি মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবিতকালে কিংবা তার মৃত্যুর প্রথম কয়েক দশকের মধ্যেই লেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।এর পুরাতন এবং নতুন দুইটি অংশই হিজাজি লিপিতে রচিত।সানা কোরানটি বর্তমানে ইয়েমেনে সংরক্ষিত আছে।সানা পাণ্ডুলিপির আকার সমগ্র কোরানের প্রায় ৪১ শতাংশ।

৩) তোপকাপি পাণ্ডুলিপিঃ

৫০০ বছরের পুরনো তোপকাপি প্রাসাদের কোরান [3]

১৫ শতকে শুকুরুল্লাহ খালিফা দ্বারা লিখিত এই পবিত্র কোরান ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে লিখিত হয় এবং তোপকাপি প্রাসাদের মিউসিয়ামে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ছিল। বুরসা আরকিওলজি মিউসিয়ামে স্থানান্তরিত করার সময় এটি হারিয়ে যায়। বেশ কয়েক বছর আগে ক্যালিগ্রাফিস্ট জিয়া আয়েদিন এক বইপ্রেমীর থেকে কিছু বই সংগ্রহ করলে এই কোরানটি আবিষ্কৃত হয়। বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তোপকাপি প্যালেস মিউজিয়ামে সংরক্ষিত কোরানের এই পাণ্ডুলিপিটি তোপকাপি পাণ্ডুলিপি নামে পরিচিত।কোরানটি লেখা হয়েছিল হিজরি প্রথম শতকের শেষভাগে বা দ্বিতীয় শতকের প্রথম ভাগে, তথা খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতকের প্রথম ভাগে।এই পাণ্ডুলিপির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি কোরানের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রায় একমাত্র অখণ্ড সংস্করন। 'কুফি' লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপিতে মাত্র দুটি পাতা (২৩টি আয়াত) ছাড়া সমগ্র কোরান একসাথে আছে। গরুর বাছুরের চামড়া থেকে প্রস্তুতকৃত পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি পৃষ্ঠার আকার দৈর্ঘ্যে ৪৬ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে ৪১ সেন্টিমিটার, যা আধুনিক হিসেবে A3 সাইজের চেয়েও বড়।

৪) সমরকন্দ পাণ্ডুলিপিঃ

সমরকন্দ কুফিক কোরান[4]

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী , কোরানের এই পাণ্ডুলিপিটি কুফায় সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে তৈমুর লং এটি লুট করে সমরকন্দে নিয়ে যান। চার শতক ধরে সমরকন্দের খোজা আহরার মসজিদে অবস্থান করার পর ১৮৬৯ সালে রাশিয়ান জেনারেল আব্রামভ এটি কিনে নিয়ে সেন্ট পিটর্সবার্গের ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরিতে জমা দেন। অক্টোবর বিপ্লবের পর লেনিন পাণ্ডুলিপিটিকে বাশকরতোস্তানের মুসলিমদেরকে উপহার দেন। পরে তাসখন্দের জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯২৪ সালে এটিকে সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সমরকন্দ পাণ্ডুলিপির পাতাগুলো বিশালাকৃতির। দৈর্ঘ্য ৬৮ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ৫৩ সেন্টিমিটার। একেকটি পৃষ্ঠা একেকটি সম্পূর্ণ চামড়া থেকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। পৃষ্ঠাগুলো অত্যন্ত মোটা এবং শক্ত। ধারণা করা হয়, মূল পাণ্ডুলিপিতে ৯৫০টি পাতা ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৩৫৩টি পাতা অবশিষ্ট আছে, যার অধিকাংশই অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং জরাজীর্ণ। বর্তমানে এটি তাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা আছে।

৫) প্যারিসিনো-পেট্রোপোলিটানাস পাণ্ডুলিপিঃ

প্যারিসিনো কোডেক্স [5]

কোরানের এই পাণ্ডুলিপিটি সপ্তদশ শতকের শেষভাগে, কিংবা অষ্টাদশ শতকের প্রথমভাগে সিরিয়াতে লেখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে এর ৭০টি পাতা প্যারিসে, ৪৬টি পাতা রাশিয়াতে, একটি পাতা ভ্যাটিক্যানে, এবং আরেকটি পাতা লন্ডনে সংরক্ষিত আছে। সব মিলিয়ে পাণ্ডুলিপিটিতে কোরানের প্রায় ৪৫% আয়াত লিপিবদ্ধ আছে। হিজাজি লিপিতে লেখা পাণ্ডুলিপিটিতে মোট পাঁচ ধরনের হাতের লেখা পাওয়া যায়। সম্ভবত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য একইসাথে পাঁচজন লেখক এটি লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

৬) তুবিনজেন পাণ্ডুলিপিঃ

তুবিনজেন পাণ্ডুলিপি [6]

তুবিনজেন ফ্র্যাগমেন্ট নামে পরিচিত কোরান শরিফের এই পাণ্ডুলিপিটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে জার্মানির তুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় দামেস্কে নিযুক্ত প্রুশিয়ার কনসাল জোহান গটফ্রাইড ওয়েট্জস্টাইন এটি সংগ্রহ করেছিলেন; যা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরবি পাণ্ডুলিপির সঙ্গে জার্মানিতে গিয়ে পৌঁছে।২০১৪ সালের নভেম্বরে তুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, তারা পাণ্ডুলিপির তিনটি পাতা নিয়ে গবেষণা করে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি হিজরি প্রথম শতকে, নবীজি (সা.)-এর ইন্তেকালের ২০ থেকে ৪০ বছর সময়ের মধ্যেই লেখা হয়েছিল। কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে তুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় ৯৫.৪ শতাংশ নিশ্চয়তা দিয়ে দাবি করেছে, এটি লেখা হয়েছিল ৬৪৯ থেকে ৬৭৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। তুবিনজেন ফ্র্যাগমেন্টে ১৭ নম্বর সূরার (আল-ইসরা) ৩৬ নম্বর আয়াত থেকে ৩৬ নম্বর সূরার (ইয়াসিন) ৫৭ নম্বর আয়াত পর্যন্ত লিপিবদ্ধ আছে; যা সম্পূর্ণ কোরআনের প্রায় ২৬.২ শতাংশ। পশুর চামড়া থেকে প্রস্তুতকৃত পৃষ্ঠাগুলোর প্রতিটির আকার দৈর্ঘ্যে ১৯.৫ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে ১৫.৩ সেন্টিমিটার, এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় গড়ে ১৮ থেকে ২১টি করে লাইন আছে।

৭) নীল কোরান ( আল-মুশাফ-আল-আজরাখ)ঃ

নীল কোরান [7]

নীল কোরান ৯ম শতকের শেষ ও ১০ম শতকের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে কুফিক লিপিতে মধ্যযুগীয় তিউনিশিয়াতে রচনা করা হয়।যদিও অনেকে মনে করেন এটি ৯ম শতকের মধ্যভাগে আইবেরিয়াতে রচিত হয়েছিল। এটিকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক চারুকলার নিদর্শন বলে অভিহিত করা হয়। এটিকে তাই " অন্যতম এক অসাধারণ ও মুল্যবান পাণ্ডুলিপির একটি" বলা হয়ে থাকে। বিশ্বের প্রাচীনতম কোরানের অন্যতম এই কোরানের বৈশিষ্ট হল এটি বেগুনী বা নীল পার্চমেন্ট পেপারের উপর সোনার জল দিয়ে লেখা হয়েছে। এর সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে রুপার বর্ডার দিয়ে। পাণ্ডুলিপিটি প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠায় রচিত। এর বেশিরভাগ পৃষ্ঠা ( ৬৭ টি) বর্তমানে তিউনিশিয়ার বার্দো ন্যাশানাল মিউসিয়ামে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া বাকি পৃষ্ঠাগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত অবস্থায় আছে। এই কোরানের আশ্চর্যের বিষয় হল এর সমস্ত পৃষ্ঠাগুলির আকার সমান নয়। কিছু পৃষ্ঠা ছোট কিছু বড়।

৮) মাঘরিবি পাণ্ডুলিপিঃ

মাঘরিবি কোরানের অংশ [8]

উত্তর আফ্রিকার মাঘরেব অঞ্চলের লিপি মাঘরিবি।দক্ষিন স্পেন থেকে আবিষ্কৃত এই প্রাচীন কোরান, প্রানীর চামড়ার উপর 'মাঘরিবি' লিপিতে লিখিত। বাদামী বর্ণের কালি ব্যবহার করে এই পাণ্ডুলিপি লিখিত। সম্ভবত ১৩ শতকে এই পাণ্ডুলিপি লিখিত হয়। এক একটি পৃষ্ঠায় ১১ টি বাক্য সম্বলিত, প্রতিটি সুরা একটি করে সোনার ত্রিভুজাকৃতি চিহ্ন দিয়ে পৃথক করা হয়েছে।

ভালো থাকবেন।🍀

কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপিগুলো

ফুটনোটগুলি

ইসলামে পাত্র-পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয়

 কুমিল্লার ধ্বনি

 প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০১৮  

  

ছেলে মেয়ে বড় হলে অভিভাবকরা আরো সতর্ক হয়ে থাকেন। প্রত্যেক পিতা-মাতাই চায় তার ছেলে-মেয়েকে উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে বিয়ে দিতে।

কিন্তু পাত্র-পাত্রীর পছন্দের ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকের প্রবণতা হলো, পাত্রী লম্বা ও সুন্দরী হওয়া আর পাত্র ধনী বাবার সন্তান হওয়া; সঙ্গে পাত্র দেখতে স্মার্ট হলে তো আর কোনো কথাই নেই। বাকি গুণাগুণ কিছুটা কম থাকলেও তেমন যায় আসে না। অথচ এই দু’টিই ইসলামে তেমন দেখার বিষয় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় বিষয় হলো আখলাক চরিত্র ও দীনদারী।

দীনদার পাত্র-পাত্রী খোঁজা:

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাত্র-পাত্রীর দীনদারীর দিকে লক্ষ করা। রাসূল (সা.) পাত্র-পাত্রী পছন্দের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয়ের নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ চার বিষয় বিবেচনা করে কোনো মেয়েকে বিবাহ করা হয়। তা হলো- বংশ, সম্পদ, সৌন্দর্য ও দীনদারী। হে লোকসকল! তোমরা দীনদার মেয়েকে বিবাহ করবে। (মুসন্নাফে ইবনে আব্দির রাজ্জাক) কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘দীনদারীকে প্রাধান্য দিবে, অন্যথায় তোমার দুহাত ধ্বংস হোক।’ তেমনিভাবে রাসূল (সা.) পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে, পাত্রের দীনদারী ও আখলাক চরিত্রকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কাছে পছন্দের দীনদার ও চরিত্রবান পাত্র থাকলে, তার কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়ে দাও। অন্যথায়, দুনিয়াতে ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা বিস্তার লাভ করবে। কোনো কোনো বর্ণনায় আমানতদার ও চরিত্রবান পাত্রের কথা এসেছে। (মুসন্নাফে ইবনে আব্দির রাজ্জাক)

দীনদার পাত্র-পাত্রী খোঁজার কারণ: 

বিবাহের যে সকল লক্ষ-উদ্দেশ্য রয়েছে, তার অধিকাংশের বাস্তবায়ন নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভালোবাসা ও মনের মিলের ওপর। বিবাহের লক্ষ বাস্তবায়নে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর মিল-মহব্বতের প্রয়োজন; তা হাদীস দ্বারাও প্রমাণীত। হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা এমন মেয়েদেরকে বিবাহ কর, যাদের হৃদয়টা ভালোবাসার উচ্ছাসে ভরপুর থাকে এবং যে বংশের মেয়েদের বাচ্চা বেশি হয়। কেননা, আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের আধিক্য নিয়ে অন্য উম্মতদের সঙ্গে গর্ব করবো।’ কোনো কোনো বর্ণনায় ‘অন্য উম্মত’ এর স্থলে নবীগণের কথা এসেছে। (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল) সন্তান লাভ করা বিবাহের একটা লক্ষ। সেই লক্ষে পৌঁছার জন্য প্রয়োজন স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর ভালোবাসা। তাই রাসূল (সা.) ভালোবাসার কথা আগে বলেছেন; কারণ, তাছাড়া লক্ষ অর্জন হবে না। বিবাহের লক্ষে পৌঁছার জন্য, যে সকল সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে থাকা দরকার, এগুলো স্থাপনে দীনদারীর যতটুকু কর্তৃত্ব আছে, অন্যগুলোর এর সামান্যও নেই; এ জন্যে, হাদীসে পাত্র-পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে দীনদারীকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া দীনদারী এমন এক গুণ যা পুরান হয় না, কিন্তু অন্যগুলো এক সময় নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে; বিশেষ করে সম্পদ ও সৌন্দর্য। তাই দীনদারীর গুণ দেখে বিয়ে করলে কখনো ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে না। কিয়ামতের দিন যখন কোনো সম্পর্কই থাকবে না, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদের মাঝে আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক সে দিন থাকবে না।’ (সূরা মুমিনুন, ১০১) সে দিনও দীনদারীর সম্পর্ক বহাল থাকবে। তাই দীনদারী দেখে বিবাহ করতে বলা হয়েছে।

দীনদারীর সঙ্গে সম্পদ ও সৌন্দর্য থাকলে সোনায় সোহাগা:

দীনদারীর সঙ্গে এগুলোও থাকলে সোনায় সোহাগা। এক হাদীস দ্বারা এর প্রমাণ মিলে। বর্ণনাটি হলো, ‘হজরত মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) এক মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। তারপর তিনি রাসূল (সা.) এর সঙ্গে ওই মহিলা প্রসঙ্গে কথা বললেন। রাসূল (সা.) তাকে বললেন, তুমি ওই মহিলাকে দেখেছ? সে বললো- না। তিনি তখন বললেন, সম্ভব হলে বিবাহের আগে তাকে দেখে নাও। কেননা, দেখে নেয়া দ্বারা তোমাদের মাঝে ভালোবাসা স্থায়িত্ব লাভ করবে।’ (আল মুজামুল কাবীর) তাই কোনো রকম বাড়াবাড়ি ছাড়া সম্পদ ও সৌন্দর্য দেখে বিয়ে করতে কোনো সমস্যা নেই।

বংশগত সমতা:

শেখ, সায়্যেদ, আনসারী এবং আলভী (হজরত আলী (রা.) এর বংশধর) এরা সকলে সমান। তারা ছাড়া বাকীরা সমশ্রেণীভূক্ত। তবে এদের মাঝে আগে মুসলমান হওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। এই গুরুত্ব থাকবে পিতা ও দাদা পর্যন্ত। যেমন, কোনো ছেলে নিজে মুসলমান, কিন্তু তার বাপ-দাদা মুসলমান নয়, তাহলে সে ওই মেয়ের সমমান হবে না, যে মেয়ে নিজেও মুসলমান এবং তার বাপ-দাদাও মুসলমান। আর যে ছেলে নিজে ও তার বাপ-দাদা মুসলমান, কিন্তু পরদাদা মুসলমান নয়, সে ওই মেয়ের সমমান, যার পরদাদা ও তারও কয়েক পুরুষ উপর থেকে মুসলমান। (বেহেস্তি জেওর, বিবাহের সম্পর্ক স্থাপনে সমতা ও অসমতার অধ্যায়)

হজরত আশরাফ আলী থানবী (রাহ.) বংশগত সমতা আলোচনার ক্ষেত্রে অনেক সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘বিবাহে অনুচিত আরেকটা কাজ হলো, পাত্র-পাত্রীর সমতা খোঁজা ক্ষেত্রে যা হয়ে থাকে। কেউ এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির শিকার হয় আবার কেউ একেবারে শিথিলতা করে ফেলে। বাড়াবাড়ি হলো, পাত্র সম্ভ্রান্ত বংশের হলে, আর কোনো কিছু দেখার প্রয়োজন মনে না করা। এ জন্য পাত্রের যোগ্যতা, দীনদারী, বয়স, শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা ইত্যাদি কোনোটাকেই ভ্রুক্ষেপ করে না। অথচ বিবাহের উপকার ও লক্ষগুলো বাস্তবায়নের জন্য শুধু বংশগত সম্ভ্রান্ততাই যথেষ্ঠ নয় বরং এগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অধিকন্তু বংশগত সম্ভ্রান্ততায় বাপ দাদার দিকে সম্পৃত্যতা ছাড়া পাত্রের আর কোনো কৃতিত্ব নেই। শুধু বংশগত বিষয় দেখার দ্বারা অনেক সময় একজন অযোগ্য, বেদীন, শারীরিক অক্ষম বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত, বেকার, বৃদ্ধ পাত্রের কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়া হয়; পরিণামে ওই পাত্রী সারাজীবনের জন্য একটা জেলে বন্দি হয়ে যায়। এ জন্যে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে।

অপরদিকে বংশগত বিষয়ে ছাড়াছাড়িও দেখা যায়। পাত্রের বংশগত কোনো সম্মান নেই কিন্তু দীনদারী বা জাগতিক স্বার্থের দিকে তাকিয়ে বিয়ে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, বংশগত কোনো মর্যাদা না থাকার দরুণ স্ত্রীর কাছে স্বামী কোনো পাত্তাই পায় না। এজন্য পরবর্তীতে আস্তে আস্তে সংসার ভেঙ্গে যায়।’ (মাআরেফে হাকীমুল উম্মত, পৃষ্ঠা-৪৭৯) অনারব পাত্র আরবী মেয়েকে বিবাহ না করা:

বংশগত মর্যাদার কারণে যেহেতু স্ত্রী স্বামীকে মানা নামানার বিষয় থাকে তাই অনারব পাত্র আরবী মেয়েকে বিবাহ না করা। কারণ, আরবরা অনারবদের মেনে নিতে পারে না।

পাত্র-পাত্রীর মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকা:

উত্তম হলো, পাত্র-পাত্রী দূরবর্তী বংশের হওয়া। কারণ, মেয়ে পূর্ব পরিচিত হলে, স্বামী-স্ত্রী সূলভ আচরণ পাওয়া মুশকিল। তাছাড়া, কোনো কারণে তালাকের দ্বারা সম্পর্ক ছিন্ন হলে, আত্মীয়তার সম্পর্কও ঝুঁকিতে পড়ে যায়; অথচ আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জরুরী।

ভদ্র পরিবার খোঁজা:

অভিভাবকের করণীয় হলো, সভ্য, ভদ্র পরিবার, যার সদস্যদের স্বভাব-চরিত্র ও উত্তম গুণাবলীর সুনাম রয়েছে, পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের জন্য ঠিক করা। এর উপকার হলো, সন্তানরা স্বভাব-চরিত্র ও উত্তম গুণাবলী সহজে শিখতে পারবে। তাছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রকৃতি দ্বারা পরীক্ষিত একটা বিষয় হলো, বাপ-মায়ের অনেক গুণাগুণ ওয়ারিস সূত্রে সন্তানাদি পেয়ে থাকে। হাদীস থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ইবনে আদীর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মেয়ে নির্বাচন করো। কেননা, মেয়ে তার ভায়ের মতো সন্তান জন্ম দেয়। সামান্য কিছু ব্যতিক্রম শব্দে হাদীসটি ইবনে মাজাহ কিতাবেও বর্ণীত হয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, বিবাহে সমতার অধ্যায়, হাদীস নং১৯৬৮) শরহুল কাবীর কিতাবের একটা বক্তব্য দিয়ে এ প্রসঙ্গের ইতি টানছি, বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো মেয়েকে বিবাহ করতে চাও তখন তার বাপ-ভাইকে দেখো।’

পেশার ক্ষেত্রে সমতা:

কোনো কোনো ফকীহ পেশার ক্ষেত্রে সমতাকে অস্বীকার করেন। তাদের যুক্তি হলো, মানুষ যেকোনো মুহূর্তে নিম্ন মানের পেশা ছেড়ে, ভালো পেশা গ্রহণ করতে পারে। তাই বিবাহের ক্ষেত্রে পেশার বিষয়টা ধর্তব্য নয়। ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহ.) মতে বিবাহের পাত্র ঠিক করার ক্ষেত্রে পেশার সমতা দেখতে হবে। কোনো নিম্ন মানের পেশার লোক, ভালো ঘরের মেয়ের সমপর্যায়ের হতে পারে না। কারণ, ভালো পেশার পাত্র নিয়ে গর্ব করা হয়; নিম্ন পেশার পাত্র হলে তুচ্ছ জ্ঞান করা হয়। (হিদায়, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৩২১) এ জন্যে, কোনো কোনো ফিকহের কিতাবে মাসয়ালা লেখা হয়, তাঁতী, দর্জিদের সমান নয়। এমনিভাবে নাপিত-ধোপারাও দর্জিদের সমান নয়। (বেহেস্তি জেওর) মোটকথা, মেয়ের যোগ্যতা বুঝে, সেই বিবেচনায় সম্মানের পেশায় কর্মরত পাত্র ঠিক করা।

পাত্র-পাত্রী বয়সে কাছাকাছি হওয়া:

এ ব্যাপারে ‘আল ফিকহুল হানাফী ফী ছাওবিহিল জাদীদ কিতাবের ভাষ্য হুবহু তুলে ধরা হলো, ‘পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের সময় দু’জনের বয়স কাছাকাছি থাকা উচিত। অতএব উচিত হবে না, যুবতি মেয়েকে বিবাহ দেয়া (যুবক ছেলেকে বিবাহ করানো) এমন লোকের সঙ্গে, যার বয়স কাছাকাছি নয়; দুজনের মাঝে বয়সের দিক থেকে অনেক বেশি পার্থক্য। যেমন পাত্র, মেয়ের বাপ বা দাদার সমপর্যায়ের। সফল বিবাহের পরিচয় হলো, যে বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পর অশেষ ভালোবাসা ও হৃদয়ের টান তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে এই পরিবেশ তৈরির জন্য দুজনের বয়স কাছাকাছি হওয়া অনেক সহায়ক। তাই কাছাকাছি বয়সের পাত্র-পাত্রী ঠিক করা উচিত। (আল ফিকহুল হানাফি ফী ছাওবিহিল জাদীদ, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৫১)

স্বামীর সেবা করার আগ্রহী পাত্রী খোঁজা:

বর্তমান সময়ে অনকে অভিভাবক শিক্ষিত পাত্রী খোঁজেন। শিক্ষিত পাত্রী ভালো, তবে এর সঙ্গে স্বামীর সেবার বিষয়টিও খেয়াল করা। কারণ, অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মেয়েও যদি স্বামীর সেবা ও তাকে মেনে নিতে পারে তাহলে বিবাহের লক্ষ-উদ্দেশ্য অর্জন হয়ে যাবে। আর শিক্ষিত মেয়েও যদি স্বামীকে মানতে না পারে, তার সেবা না করে তাহলে আস্তে আস্তে সংসারে অশান্তি দেখা দিবে। তাই স্বামীর সেবা, তাকে মানার যোগ্যতা সম্পন্ন পাত্রী খোঁজা প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব।

গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বদা আল্লাহতায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। কারণ আল্লাহতায়ালার সার্বক্ষণিক সাহায্য ও অনুগ্রহ ছাড়া কারও পক্ষে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

গোনাহ থেকে বেচেঁ থাকার জন্য পড়া যায়- এমন দোয়া হলো—

এক. ‘রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমা- ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব। ’

এ দোয়া বেশি বেশি পাঠ করলে দ্বীনের পথে ও হেদায়েতের ওপর টিকে থাকা সহজ হয়। দোয়াটি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত। যা সূরা আল ইমরানের ৮ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! হেদায়েত প্রদান করার পর আপনি আমাদের অন্তঃকরণকে বক্র করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান করুন! নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর দাতা।

দুই. ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব- সাব্বিত কালবি আলা দিনিক। ’

এই দোয়াটি পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। উম্মত জননী হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বেশিরভাগ সময়ে এই দোয়াটি পাঠ করতেন। এটা রাসূলের শেখানো দোয়া বিশেষ।

অর্থ : হে অন্তরসমূহের ওলট-পালটকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন। -তিরমিজি

তিন. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন—

‘আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলুব সাররিফ কুলুবানা আলা ত-আতিক। ’

অর্থ : হে আল্লাহ! (আপনি) হৃদয়সমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের হৃদয়গুলোকে আপনার আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দিন। -সহিহ মুসলিম

চার. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ‌ই দোয়াটিও করতেন—

‘আল্লাহুম্ম ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াততুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা। ’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েদত, তাকওয়া, সচ্চরিত্রতা ও প্রাচুর্য্যতার প্রার্থনা করছি। -সহিহ মুসলিম

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে সব ধরনের গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।

Image may contain: text that says "কুল্পু নাফসিন জাইকাতুল মাউত fb.com/R97bd জিন্দা মানুষের গা থেকে চামড়া টেনে টেনে খুলতে যতটা না কষ্ট হবে তার চেয়েও কয়েক শত কোটি বেশি কষ্ট হবে মৃত্যুর যন্তনা (সূরা-বাকারা) মহান আল্লাহ পাক আমাদের মৃত্যুকে সহজ করে দিন ---আমিন--"

Image may contain: text that says "মুমিন ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরণ করে তখন সে দুনিয়ার দুঃখ কষ্ট থেকে নিস্কৃতি পায়। _হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) (সুনানে আন নাসায়ী, হাদিস নং ১৯৩০)"






Image may contain: one or more people, text that says "হে আল্লাহ তোমার কাছে ৩ টা জিনিস চাই। ঋণমুক্ত জীবন ২ শারিরীক সুস্থতা ঈমানের সহিত মৃত্যু"

Image may contain: text that says "যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকিরের দ্বারা আপন জিহ্বাকে তরতাজা রাখবে, কেয়ামতের দিন সে হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশকরবে। -বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)"

Image may contain: text that says "নবী করীম সাঃ বলেছেন, জাহান্নামের সবচেয়ে কম আযাব সে ব্যক্তির হবে, যাকে আগুনের দুটি জুতা পরান হবে, ফলে এই দুটির কারণে তার মগজ উখলাতে থাকবে।" মুসলিম শরীফ ৪০৭"


"দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকা,
প্রিয় নবীজির সুন্নত।"

[সহিহ বুখারীঃ৯৩৯]

Image may contain: text that says "আপনার মুসলিম ভাইকে কখনও অপমান করবেননা কেননা, আল্লাহ এক মুসলিমের জন্য অপর মুসলিম ভাইয়ের মান সম্মান নষ্ট করা তথা অপমান করা হারাম করে দিয়েছেন। [সহীহমুি ১৬৭৯]"Image may contain: one or more people and people sitting, text that says "আজ বিছানা ছেড়ে যদি তুমি নামাজে যাও কাল কবরে তোমার জন্য বিছানা তৈরি হবে *সুবহানাল্লাহ*"

Image may contain: text that says "যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০বার বলে (সুবহানাল্লা "হি" ওয়াবিহামদিহী) "তার পাপসমূহ মুছে ফেলা হয় যদিও তা সাগরের ফেনারাশির সমান হয়ে থাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বুখারী ৭/১৬৮)"



No photo description available.

আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকারী,যখন কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করেন,তখন শুধু বলেন হয়ে যাও,আর তক্ষুনি তা হয়ে যায়!
সূ২ আঃ ১১৭

Image may contain: 1 person, text that says "অন্যায় আলোচনা করা; .জালিম 'আশুরা' অসত্যের মাথা সংলাপের সুযোগ ঘাতকের বিচার স্বৈরাচারী অবশ্যস্তাবী; জালিম খুনিকেমা কিয়ামত থাকবে; সৈনিক মজলুমের সর্বস্তরের সমর্থন পায়; যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে মুসলমানদের জরুরি আশুরা ইতিহাসের আলোকে আফমখালিদ"

Image may contain: text that says "পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়- মরণ একদিন মুছে দিবে সকল রঙিন পরিচয়।"

Image may contain: text that says "ফেসবক সতর্ক বার্তা একবার আমাদের ভেবেছেন! আপনি আমি একদিন মরে যাব, কিন্তু আমরা ফেসবুকে যে ছবি এবং ভিডিও আপলোড করেছি তা কিন্ত শেষ হয়ে যাবে না, তা শত শত বছর A পরেও আমাদের আপলোড কৃত ছবি অথবা ভিডিও শেয়ার হতে তাকবে। আর আমরা যদি ফেসবুকে অশ্লীল কোনো ছবি অথবা ভিডিও আপলোর্ড করি তার ফল আমাদের মৃত্যুর পরে কররে পৌছে যাবে তদ্ররূপ আমরা যদি ভালো কিছু আপলোড করি আর কোনো ব্যাক্তির উপকারে আশে তাহলে তার ফলও আমাদের কাছে পৌছাবে। বাকী সিদ্ধান্ত আপনার"

Image may contain: text that says "এই ছেলেটা একটি মানসিক পাগল,, মায়ের কবরের উপরে শুয়ে ডাক দেই মা আর কত ঘুমাইবি মাগো আজকে তোরে না নিয়ে আমি বাড়ি যাবো না সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেনো এই এতিমের সহায় হোন। আমীন।"Image may contain: text that says "মা, মাদ্রাসা বা স্কুলে, পড়ুক বা না পড়ুক, মা হচ্ছে, আমার- আমার-আপনার পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।"

Image may contain: text that says "কিরে কি হয়েছে? মন খারাপ. কেনো...? কেউ আমাকে ভালোবাসে না. তোমার জন্মের ১৪০০ বছর আগে থেকেই কেউ একজন তোমাকে ভালোবাসেন এবং তোমার জন্য এখনো কেঁদে যাচ্ছেন তিনি কে? তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)"

Image may contain: 1 person, text that says "মা অনেক আগে কেঁদেছিলো সন্তান ভাত খায়না বলে! মা এখন কাঁদছে সন্তান ভাত দেয়না বলে। এসএসবুজহাসান এ"

Image may contain: text that says "এইপার হইতে ওই পারে যাওয়ার একমাত্র পরিবহন"

Image may contain: text that says "新 লজ্জা সরম; হলো মেয়েদের সবচেয়ে সুন্দর গহনা। _হজরত ফাতেমা [রাঃ]"











Fox (BBC Earth)


Comments

Popular posts from this blog

মুসলিম শিশু ছেলেদের জন্য সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু আনহুদের অর্থপূর্ণ নামের তালিকা

সন্তান জন্মের পর যে কাজগুলো সুন্নত-ই-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস, গুরুত্ব, ফজিলত এবং আশুরার রোজার নিয়মাবলী