দীন-আল-ইসলামঃ দোয়ার ভান্ডার
আপনি যদি নিম্নলিখিত দোআর আমল সকালে করেন তাহলে সারাদিনের জন্য আপনার শরীর বন্ধ হয়ে গেল এবং যদি মাগরিবের পর এই আমল করেন তাহলে সারারাতের জন্য আপনার শরীর বন্ধ হয়ে গেল। এবং সব কিছু হতে আপনি নিরাপদ লাভ করলেন ঐ দিনের জন্য:
+
১৫ টি জরুরী দোয়া ও আয়াত সমূহের বিবরণ :
০১. আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।
[অর্থঃ বিতারিত শয়তানের হাত থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।] .
০২. বিস্মিল্লাহির রহমানির রাহিম।
[অর্থঃ পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।] .
০৩. রাব্বানা আ’তিনা ফিদ্দুনিয়া হাছানাতাঁও ওয়াফিল আখিরাতি হাছানাতাঁও ওয়াক্বিনা আজাবান্নার।
[অর্থঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমাকে ইহকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি ও পরকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি প্রদান কর। আর দোজখের আগুন থেকে আমাকে রক্ষা কর।]
০৪. মাতা-পিতার জন্য সন্তানের দোয়াঃ রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ঈয়ানী সাগিরা। (সূরা বণী ইসরাইল, আয়াতঃ ২৩-২৫)
[অর্থঃ হে আল্লাহ্ আমার মাতা-পিতার প্রতি আপনি সেই ভাবে সদয় হউন, তাঁরা শৈশবে আমাকে যেমন স্নেহ-মমতা দিয়ে লালন-পালন করেছেন।]
০৫. ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করার দোয়াঃ রাব্বানা লা’তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহাব। (সুরা আল ইমরান, আয়াতঃ ০৮)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, সরলপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিওনা এবং তুমি আমাদের প্রতি করুনা কর, তুমিই মহান দাতা।]
০৬. ভুল করে ফেললে ক্ষমা চাওয়ার দোয়াঃ রাব্বাবা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির্লানা ওয়াতার হামনা লানা কুনান্না মিনাল খা’সিরিন।
[অর্থঃ হে আল্লাহ্, আমি আমার নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। এখন তুমি যদি ক্ষমা ও রহম না কর, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।]
০৭. গুনাহ্ মাফের দোয়াঃ রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মায়াল আবরার। (সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ ১৯৩)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দাও, আমাদের থেকে সকল মন্দ দূর করে দাও এবং আমাদের নেক লোকদের সাহচার্য দান কর।]
০৮. স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের জন্য দোয়াঃ রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা কুররাতা আইইনিও ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা। (সূরা আল ফুরকান, আয়াতঃ ৭৪)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদিগকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিগণ হতে নয়নের তৃপ্তি দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।]
০৯. ঈমান ঠিক রাখার আমলঃ ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিকা।
[অর্থঃ হে মনের গতি পরিবর্তনকারী, আমার মনকে সত্য দ্বীনের উপর স্থিত কর।]
১০. সন্তানদের প্রতি মাতা-পিতার দোয়া ও মাতা-পিতার জন্য সন্তানদের দোয়াঃ রাব্বিজ আলনী মুতিমাছ ছালাতি ওয়ামিন জুররি ইয়াতি, রাব্বানা ওয়াতাকাব্বাল দুয়া, রাব্বানাগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি দাইয়া ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওয়া ইয়াকুমুল হিসাব। (সূরা ইব্রাহিম, আয়াতঃ ৪০-৪১)
[অর্থঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানাও আর আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আল্লাহ্ আমার দোয়া কবুল করে নাও। হে আল্লাহ্ আমাকে ও আমার মাতা- পিতাকে আর সকল ঈমানদার লোকদের সেদিন ক্ষমা করে দিও, যেদিন হিসাব কার্যকর হবে।]
১১. নেক সন্তানদের জন্য দোয়াঃ রাব্বি হাবলি মিনাস সালেহীন।
[অর্থঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নেককার সৎ-কর্মশীল সন্তান দান কর।]
১২. অবাধ্য সন্তান বাধ্য করার দোয়াঃ ওয়াছলিহলি ফী যুররিইয়াতি, ইন্নি তুবতু ইলাইকা, ওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমীন। (সূরা আহকাফ, আয়াতঃ ১৫)
[অর্থঃ আমার জন্য আমার সন্তানদের মধ্যে প্রীতি দান কর, অবশ্যই আমি তোমারই দিকে ফিরিতেছি এবং অবশ্যই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত।]
১৩. সকল মুসলমানদের জন্য দোয়াঃ আল্লাহুম্মাগ ফিরলী ওয়ালিল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাতি।
[অর্থঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমার ও সমস্ত মু’মিন নর-নারীর এবং সমস্ত মুসলমান পুরুষ ও স্ত্রীলোকের পাপ সমূহ মোচন করে দাও।]
১৪. কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়াঃ রাব্বানাগ ফিরলানা যুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্কদামানা ওয়ানছুরনা আলাল কাওমিল ক্বাফিরীন। (সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ ১৪৭)
[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের গুনাহ এবং কোন কাজের সীমা লঙ্ঘনকে তুমি ক্ষমা কর, আমাদের ঈমান দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয়ী কর।]
১৫. ক্ষমা ও রহমতের দোয়াঃ রাব্বিগ ফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।
[অর্থঃ হে আল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করে দাও, আর আমার প্রতি রহম কর, তুমিই তো উত্তম দয়ালু।] (১) কোরআন তেলাওয়াতের শুরুতে, সালাতে শয়তান ওয়াসওসা (কুমন্ত্রণা) দিলে, রাগের সময়, খারাপ স্বপ্ন দেখলে এবং মনের মধ্যে শয়তান কুমন্ত্রনা দিলে পড়ুন: ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।’
অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(২) রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিটি কাজ শুরু করার আগে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ বলতেন। অতএব, যেকোনো কাজের শুরুতে পড়ুন: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।’
অর্থ: পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।
(৩) ইহকালীন ও পরকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তির জন্য পড়ুন: রাব্বানা আ’তিনা ফিদ্দুনিয়া হাছানাতাঁও ওয়াফিল আখিরাতি হাছানাতাঁও ওয়াক্বিনা আজাবান্নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ইহকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি ও পরকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি প্রদান কর। আর দোজখের আগুন থেকে আমাকে রক্ষা কর।
(৪) মাতা-পিতার জন্য সন্তানের দোয়া: রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ঈয়ানী সাগিরা। (সূরা: বণী ইসরাইল, আয়াত: ২৩-২৫)।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার মাতা-পিতার প্রতি আপনি সেই ভাবে সদয় হউন, তারা শৈশবে আমাকে যেমন স্নেহ-মমতা দিয়ে লালন-পালন করেছেন।
(৫) ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু বরণ করার দোয়া: রাব্বানা লা’তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহাব। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ০৮)।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! সরলপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিওনা এবং তুমি আমাদের প্রতি করুনা কর, তুমিই মহান দাতা।
(৬) ভুল করে ফেললে ক্ষমা চাওয়ার দোয়া: রাব্বাবা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির্লানা ওয়াতার হামনা লানা কুনান্না মিনাল খা’সিরিন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর জুলুম করে ফেলেছি। এখন তুমি যদি ক্ষমা ও রহম না কর, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।
(৭) গুনাহ মাফের দোয়া: রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মায়াল আবরার। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৩)।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দাও, আমাদের থেকে সকল মন্দ দূর করে দাও এবং আমাদের নেক লোকদের সাহচার্য দান কর।
(৮) স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের জন্য দোয়া: রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা কুররাতা আইইনিও ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা। (সূরা: আল ফুরকান, আয়াত: ৭৪)।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদিগকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিগণহতে নয়নের তৃপ্তি দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।
(৯) ঈমান ঠিক রাখার আমল: ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিকা।
অর্থ: হে মনের গতি পরিবর্তনকারী, আমার মনকে সত্য দ্বীনের ওপর স্থিত কর।
(১০) সন্তানদের প্রতি মাতা-পিতার দোয়া ও মাতা-পিতার জন্য সন্তানদের দোয়া: রাব্বিজ আলনী মুকিমাছ ছালাতি ওয়ামিন জুররি ইয়াতি, রাব্বানা ওয়াতাকাব্বাল দুয়া, রাব্বানাগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি দাইয়া ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওয়া ইয়াকুমুল হিসাব। (সূরা: ইব্রাহিম, আয়াত: ৪০-৪১)।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানাও আর আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করে নাও। হে আল্লাহ আমাকে ও আমার মাতা-পিতাকে আর সব ঈমানদার লোকদের সেদিন ক্ষমা করে দিও, যেদিন হিসাব কার্যকর হবে।
(১১) নেক সন্তানদের জন্য দোয়া: রাব্বি হাবলি মিনাস সালেহীন।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নেককার সৎ-কর্মশীল সন্তান দান কর।
(১২) অবাধ্য সন্তান বাধ্য করার দোয়া: ওয়াছলিহলি ফী যুররিইয়াতি, ইন্নি তুবতু ইলাইকা, ওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমীন। (সূরা: আহকাফ, আয়াত: ১৫)।
অর্থ: আমার জন্য আমার সন্তানদের মধ্যে প্রীতি দান কর, অবশ্যই আমি তোমারই দিকে ফিরিতেছি এবং অবশ্যই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত।
(১৩) সব মুসলমানদের জন্য দোয়া: আল্লাহুম্মাগ ফিরলী ওয়ালিল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাতি।
অর্থ: হে আল্লাহ তুমি আমার ও সমস্ত মু’মিন নর-নারীর এবং সমস্ত মুসলমান পুরুষ ও স্ত্রীলোকের পাপ সমূহ মোচন করে দাও।
(১৪) কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়া: রাব্বানাগ ফিরলানা যুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্কদামানা ওয়ানছুরনা আলাল কাওমিল ক্বাফিরীন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৪৭)।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের গুনাহ এবং কোনো কাজের সীমা লঙ্ঘনকে তুমি ক্ষমা কর, আমাদের ঈমান দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয়ী কর।
(১৫) ক্ষমা ও রহমতের দোয়া: রাব্বিগ ফির ওয়ারহাম ওয়া আ নতা খাইরুর রাহিমীন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও, আর আমার প্রতি রহম কর, তুমিই তো উত্তম দয়ালু।
১. বিভিন্ন রোগ-বালা থেকে বেঁচে থাকার জন্য হাদিসে বর্ণিত নিম্নোক্ত দুআটি বারবার পড়তে থাকুন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ البَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল
জুনুনি ওয়াল জুজামি ওয়া মিন সাইয়িইল আসকাম)
সূত্র : সহিহু ইবনি হিব্বান : ১০১৭, সুনানু আবি দাউদ : ১৫৫৪, মুসনাদু আহমাদ : ১৩০০৪
২. করোনাক্রান্ত বা অন্য কোনো বিপদে নিপতিত
ব্যক্তিকে দেখলে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ুন; তাহলে জীবনে কখনো সে রোগ বা বিপদে নিপতিত হবেন না।
الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلا
(আল-হামদু লিল্লাহিল্লাজি আ’ফানি মিম্মাবতালাকা বিহি ওয়া ফাজ্জালানি আলা কাসিরিম মিম্মান খালাকা
তাফজিলা)
সূত্র : সুনানুত তিরমিজি : ৩৪৩১, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৯২, মুসনাদু আবি দাউদ তায়ালিসি : ১৩
৩. হাসপাতাল, কারও বাসা কিংবা অন্য কোথাও গেলে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ুন; ইনশাআল্লাহ সেখানে থাকাকালীন কোনো বিপদে আক্রান্ত হবেন না।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَق
(আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা
খালাকা)
সূত্র : সহিহু মুসলিম : ২৭০৮, সুনানুত তিরমিজি : ৩৪৩৭, সুনানুন নাসায়ি, কুবরা : ১০৩১৮
৪. প্রত্যহ সকাল-বিকাল তিনবার করে নিম্নোক্ত
দুআটি পড়ুন; ইনশাআল্লাহ সেদিন আপনি
আকস্মিক কোনো ক্ষতি বা বিপদে নিপতিত হবেন না।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
(বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াজুররু মাআসমিহি শাইয়ুন
ফিল আরজি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম)
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ৫০৮৮, সুনানুত তিরমিজি : ৩৩৮৮, মুসনাদু আহমাদ : ৫২৮
৫. দুআ ইউনুস বেশি বেশি করে পড়ুন এবং আল্লাহর
কাছে বিপদ ও মহামারীতে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। এটা পড়ে দুআ করলে
আল্লাহ অবশ্যই তার দুআ কবুল করেন।
দুআ ইউনুস :
لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
(লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ
জালিমিন)
সূত্র : সুনানুত তিরমিজি : ৩৫০৫, মুসনাদু আহমাদ : ১৪৬২
৬. অধিক পরিমাণে ইসতিগফার করতে থাকুন। প্রসিদ্ধ
ইসতিগফারও পড়তে পারেন, সাইয়িদুল
ইসতিগফারও পড়তে পারেন। তবে সাইয়িদুল ইসতিগফারই উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।
প্রসিদ্ধ ইসতিগফার :
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِيْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ القَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
(আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল
হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।)
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ১৫১৭, মুসনাদু আহমাদ : ১১০৭৪
সাইয়িদুল ইসতিগফার :
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
(আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা
খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা
মাসতাতা’তু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া ওয়া আবুউ
লাকা বিজামবি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা)
সূত্র : সহিহুল বুখারি : ৬৩০৬, সুনানুত তিরমিজি : ৩৩৯৩
৭. প্রচুর পরিমাণে নিম্নোক্ত দুআটি পড়তে থাকুন।
সকল বিপদ-আপদ থেকে বেঁচে থাকার জন্য এটা খুবই কার্যকর একটি দুআ।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাওয়ালি নি’মাতিকা ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা ওয়া জামিয়ি
সাখাতিকা) সূত্র : সহিহু মুসলিম : ২৭৩৯
৮. সকাল-বিকাল নিম্নোক্ত দুআটি একবার করে পড়ুন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া
ওয়াল আখিরাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল
আফিয়াতা ফি দিনি ওয়া দুনইয়াইয়া ওয়া আহলি ওয়া মালি, আল্লাহুম্মাসতুর
আউরাতি ওয়া আমিন রাউআতি, আল্লাহুম্মাহফাজনি মিম বাইনি
ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি ওয়া মিন ফাউকি ওয়া আউজু
বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি)
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ৫০৭৪, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৭১
৯. সকাল-বিকাল তিনবার করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ুন। ইনশাআল্লাহ সকল
কিছুর জন্য এটা যথেষ্ট হয়ে যাবে।
সুরা ইখলাস :
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، اللَّهُ الصَّمَد، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَد
সুরা ফালাক :
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ، وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
সুরা নাস :
،قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، مَلِكِ النَّاسِ، إِلَهِ النَّاسِ، مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ، مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ৫০৮২, সুনানুত তিরমিজি : ৩৫৭৫
১০. সকল প্রকার গুনাহ ও নাফরমানি পরিত্যাগ করে
পুরোপুরিভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করুন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে
থাকুন এবং দান-সাদাকা বৃদ্ধি করুন। কেননা দান-সাদাকা বিপদাপদ দূর করে দেয়।
এগুলো সবই বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে প্রমাণিত।
আল্লাহর ওপর স্থির বিশ্বাস রাখুন; এবং সুন্নাহ
হিসেবে এসব দুআর পাশাপাশি ডাক্তারি নির্দেশনাগুলোও মেনে চলুন। তাকদিরে মৃত্যু লেখা
না থাকলে ইনশাআল্লাহ এতে আপনি সকল বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। বিশুদ্ধ
সুন্নাহ জানুন, সুন্নাহর ওপর আমল করুন। আল্লাহ আমাদের
সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
তিন মাস হতে চলল এখনো করোনা ভাইরাসের কোনো
প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। আগামী কতদিনের মধ্যে হবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। যদিও ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এ
থেকে বেঁচে থাকার কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা
যথেষ্ট নয় এবং এটা নিরাপত্তারও কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। এ সঙ্কটময় মুহূর্তে আমরা
যারা মুসলিম, তাদের জন্য হাদিসে বর্ণিত এমন কিছু দুআ ও
আমল আছে, যা অনুসরণ করলে আশা করা যায় আল্লাহ এ বিপদ থেকে
আমাদের রক্ষা করবেন। এগুলো যে কেবল করোনা ভাইরাসকেই রোধ করবে তা নয়; বরং আল্লাহর ইচ্ছায় অন্যান্য বালা-মুসিবতও দূর করবে। দুআ ও আমলগুলো
সংক্ষেপে নিম্নে উল্লেখ করছি :
১. বিভিন্ন রোগ-বালা থেকে বেঁচে থাকার জন্য
হাদিসে বর্ণিত নিম্নোক্ত দুআটি বারবার পড়তে থাকুন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ البَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল
জুনুনি ওয়াল জুজামি ওয়া মিন সাইয়িইল আসকাম)
সূত্র : সহিহু ইবনি হিব্বান : ১০১৭, সুনানু আবি দাউদ : ১৫৫৪, মুসনাদু আহমাদ : ১৩০০৪
২. করোনাক্রান্ত বা অন্য কোনো বিপদে নিপতিত
ব্যক্তিকে দেখলে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ুন; তাহলে জীবনে কখনো সে রোগ বা বিপদে নিপতিত হবেন না।
الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلا
(আল-হামদু লিল্লাহিল্লাজি আ’ফানি মিম্মাবতালাকা বিহি ওয়া ফাজ্জালানি আলা কাসিরিম মিম্মান খালাকা
তাফজিলা)
সূত্র : সুনানুত তিরমিজি : ৩৪৩১, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৯২, মুসনাদু আবি দাউদ তায়ালিসি : ১৩
৩. হাসপাতাল, কারও বাসা কিংবা অন্য কোথাও গেলে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ুন; ইনশাআল্লাহ সেখানে থাকাকালীন কোনো বিপদে আক্রান্ত হবেন না।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَق
(আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা
খালাকা)
সূত্র : সহিহু মুসলিম : ২৭০৮, সুনানুত তিরমিজি : ৩৪৩৭, সুনানুন নাসায়ি, কুবরা : ১০৩১৮
৪. প্রত্যহ সকাল-বিকাল তিনবার করে নিম্নোক্ত
দুআটি পড়ুন; ইনশাআল্লাহ সেদিন আপনি
আকস্মিক কোনো ক্ষতি বা বিপদে নিপতিত হবেন না।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
(বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াজুররু মাআসমিহি শাইয়ুন
ফিল আরজি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম)
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ৫০৮৮, সুনানুত তিরমিজি : ৩৩৮৮, মুসনাদু আহমাদ : ৫২৮
৫. দুআ ইউনুস বেশি বেশি করে পড়ুন
এবং আল্লাহর কাছে বিপদ ও মহামারীতে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। এটা
পড়ে দুআ করলে আল্লাহ অবশ্যই তার দুআ কবুল করেন।
দুআ ইউনুস :
لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
(লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ
জালিমিন)
সূত্র : সুনানুত তিরমিজি : ৩৫০৫, মুসনাদু আহমাদ : ১৪৬২
৬. অধিক পরিমাণে ইসতিগফার করতে
থাকুন। প্রসিদ্ধ ইসতিগফারও পড়তে পারেন, সাইয়িদুল ইসতিগফারও পড়তে পারেন। তবে সাইয়িদুল ইসতিগফারই উত্তম ও
শ্রেষ্ঠ।
প্রসিদ্ধ ইসতিগফার :
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِيْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ القَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
(আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা
ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।)
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ১৫১৭, মুসনাদু আহমাদ : ১১০৭৪
সাইয়িদুল ইসতিগফার :
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
(আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা
খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা
মাসতাতা’তু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া ওয়া আবুউ
লাকা বিজামবি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা)
সূত্র : সহিহুল বুখারি : ৬৩০৬, সুনানুত তিরমিজি : ৩৩৯৩
৭. প্রচুর পরিমাণে নিম্নোক্ত দুআটি পড়তে থাকুন।
সকল বিপদ-আপদ থেকে বেঁচে থাকার জন্য এটা খুবই কার্যকর একটি দুআ।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাওয়ালি নি’মাতিকা ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা ওয়া জামিয়ি
সাখাতিকা) সূত্র : সহিহু মুসলিম : ২৭৩৯
৮. সকাল-বিকাল নিম্নোক্ত দুআটি একবার করে পড়ুন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া
ওয়াল আখিরাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল
আফিয়াতা ফি দিনি ওয়া দুনইয়াইয়া ওয়া আহলি ওয়া মালি, আল্লাহুম্মাসতুর
আউরাতি ওয়া আমিন রাউআতি, আল্লাহুম্মাহফাজনি মিম বাইনি
ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি ওয়া মিন ফাউকি ওয়া আউজু
বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি)
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ৫০৭৪, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৭১
৯. সকাল-বিকাল তিনবার করে সুরা
ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ুন।
ইনশাআল্লাহ সকল কিছুর জন্য এটা যথেষ্ট হয়ে যাবে।
সুরা ইখলাস :
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، اللَّهُ الصَّمَد، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَد
সুরা ফালাক :
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ، وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
সুরা নাস :
،قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، مَلِكِ النَّاسِ، إِلَهِ النَّاسِ، مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ، مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
সূত্র : সুনানু আবি দাউদ : ৫০৮২, সুনানুত তিরমিজি : ৩৫৭৫
১০. সকল প্রকার গুনাহ ও নাফরমানি পরিত্যাগ করে
পুরোপুরিভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করুন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে
থাকুন এবং দান-সাদাকা বৃদ্ধি করুন। কেননা দান-সাদাকা বিপদাপদ দূর করে দেয়।
এগুলো সবই বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে প্রমাণিত।
আল্লাহর ওপর স্থির বিশ্বাস রাখুন; এবং সুন্নাহ
হিসেবে এসব দুআর পাশাপাশি ডাক্তারি নির্দেশনাগুলোও মেনে চলুন। তাকদিরে মৃত্যু লেখা
না থাকলে ইনশাআল্লাহ এতে আপনি সকল বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। বিশুদ্ধ
সুন্নাহ জানুন, সুন্নাহর ওপর আমল করুন। আল্লাহ আমাদের
সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
প্রত্যেক নবীর
মাকবুল দু’আ আছে।
৬৩০৪
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ" لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ يَدْعُو بِهَا، وَأُرِيدُ أَنْ أَخْتَبِئَ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لأُمَّتِي فِي الآخِرَةِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর এমন
একটি দু’আ রয়েছে, যা (আল্লাহ্র
নিকট) গৃহীত হয় আর নবী সে দু’আ করে থাকেন। আমার ইচ্ছা,
আমি আমার সে দু’আর অধিকার আখিরাতে আমার
উম্মাতের শাফায়াতের জন্য মুলতবি রাখি।[৭৪৭৪; মুসলিম ১/৮৬,
হাঃ ১৯৮, ১৯৯, আহমাদ
৮৯৬৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৩)
৬৩০৫
وَقَالَ لِي خَلِيفَةُ قَالَ مُعْتَمِرٌ سَمِعْتُ أَبِي عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كُلُّ نَبِيٍّ سَأَلَ سُؤْلاً أَوْ قَالَ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ قَدْ دَعَا بِهَا فَاسْتُجِيبَ فَجَعَلْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لأ÷ُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, প্রত্যেক নবীই যা চাওয়ার চেয়ে নিয়েছেন। অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীকে যে দু’আর অধিকার দেয়া হয়েছিল তিনি সে দু’আ করে
নিয়েছেন এবং তা কবূলও করা হয়েছে। কিন্তু আমি আমার দু’আকে
ক্বিয়ামতের দিনে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য রেখে দিয়েছি। [মুসলিম ১/৮৬, হাঃ ২০০, আহমাদ ১৩৭০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬০,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৩)
৮০/২. অধ্যায়ঃ
শ্রেষ্ঠতম
ইস্তিগফার আল্লাহ্র বাণীঃ
“আমি বলেছি- ‘তোমরা
তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল। (তোমরা
তা করলে) তিনি অজস্র ধারায় তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের
জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সূরা নূহ ৭১/১০-১২)
“যারা কোন পাপ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুল্ম করলে
আল্লাহ্কে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে…..।”
(সূরা আল ইমরান ৩/১৩৫)
৬৩০৬
أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ قَالَ حَدَّثَنِي بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ الْعَدَوِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي شَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ قَالَ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِه„ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ.
শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাঃ) থেকে
বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
হলো বান্দার এ দু’আ পড়া- “হে
আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি
যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের
কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি।
তুমি আমাকে ক্ষমা কর।” যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ়
বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে
এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে
জান্নাতী হবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-
৫৭৫৪)
৮০/৩. অধ্যায়ঃ
দিনে ও
রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর ইস্তিগফার।
৬৩০৭
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ وَاللهِ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্র
শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহ্র কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তাওবাহ করে
থাকি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৪)
৮০/৪. অধ্যায়ঃ
তাওবাহ
করা।
ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, মহান আল্লাহ্র বাণীঃ "তোমরা সবাই
আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহ্র কাছে তাওবাহ করো।" (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৮)
৬৩০৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدِيثَيْنِ أَحَدُهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالآخَرُ عَنْ نَفْسِهِ، قَالَ " إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ ". فَقَالَ بِهِ هَكَذَا قَالَ أَبُو شِهَابٍ بِيَدِهِ فَوْقَ أَنْفِهِ. ثُمَّ قَالَ " لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ رَجُلٍ نَزَلَ مَنْزِلاً، وَبِهِ مَهْلَكَةٌ، وَمَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَوَضَعَ رَأْسَهُ فَنَامَ نَوْمَةً، فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ رَاحِلَتُهُ، حَتَّى اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْحَرُّ وَالْعَطَشُ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ، قَالَ أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِي. فَرَجَعَ فَنَامَ نَوْمَةً، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَإِذَا رَاحِلَتُهُ عِنْدَهُ ". تَابَعَهُ أَبُو عَوَانَةَ وَجَرِيرٌ عَنِ الأَعْمَشِ. وَقَالَ أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ سَمِعْتُ الْحَارِثَ. وَقَالَ شُعْبَةُ وَأَبُو مُسْلِمٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ. وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ وَعَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ.
আবদুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ) দু’টি হাদীস
বর্ণনা করেছেন। একটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) থেকে আর অন্যটি তাঁর নিজ থেকে। তিনি বলেন, ঈমানদার
ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা
পর্বতের নীচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবত পর্বতটা তার উপর ধ্বসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার
গুনাহগুলোকে মাছির মত মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়।
এ কথাটি আবূ শিহাব নিজ নাকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন। তারপর [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন] নবী
(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মনে কর কোন এক
ব্যক্তি (সফরের) কোন এক স্থানে অবতরণ করলো, সেখানে
প্রাণেরও ভয় ছিল। তার সঙ্গে তার সফরের বাহন ছিল। যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় ছিল,
সে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো এবং জেগে দেখলো তার বাহন চলে গেছে। তখন
সে গরমে ও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো। রাবী বলেনঃ আল্লাহ যা চাইলেন তা হলো। তখন সে
বললো যে, আমি যে স্থানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। এরপর সে
নিজ স্থানে ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। তারপর জেগে দেখলো যে, তার বাহনটি তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে ব্যক্তি যতটা খুশি হলো,
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দার
তাওবাহ করার কারণে এর চেয়েও অনেক অধিক খুশি হন। আবূ আওয়ানাহ ও জারীর আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৬)
৬৩০৯
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم. وَحَدَّثَنَا هُدْبَةُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضِ فَلاَةٍ ".
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা
বান্দার তাওবাহ্র কারণে সেই লোকটির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে
লোকটি মরুভূমিতে তাঁর উট হারিয়ে পরে তা পেয়ে যায়। [মুসলিম ৪৯/১, হাঃ ২৭৪৭]আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৪, ইসলামিক
ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৭)
৮০/৫. অধ্যায়ঃ
ডান
পাশে শয়ন করা।
৬৩১০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، فَإِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ، حَتَّى يَجِيءَ الْمُؤَذِّنُ فَيُؤْذِنَهُ.
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) রাতের শেষভাগে এগার রাক'আত সলাত আদায় করতেন।
তারপর যখন সুবহি সাদিক হতো, তখন তিনি হালকা দু'রাক'আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি নিজের
ডান পার্শ্বে কাত হয়ে বিশ্রাম নিতেন। যতক্ষণ না মুয়ায্যিন এসে তাঁকে সলাতের খবর
দিতেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৮)
৮০/৬. অধ্যায়ঃ
পবিত্র
অবস্থায় রাত কাটানো।
৬৩১১
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ سَمِعْتُ مَنْصُورًا عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ قَالَ حَدَّثَنِي الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ قَالَ قَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأْ وَضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلٰى شِقِّكَ الأَيْمَنِ وَقُلْ اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ فَإِنْ مُتَّ مُتَّ عَلَى الْفِطْرَةِ فَاجْعَلْهُنَّ آخِرَ مَا تَقُولُ فَقُلْتُ أَسْتَذْكِرُهُنَّ وَبِرَسُوْلِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ قَالَ لاَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ.
বারাআ ইবনু 'আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে
বললেনঃ যখন তুমি শোয়ার বিছানায় যেতে চাও, তখন তুমি
সালাতের অযূর মত অযূ করবে। এরপর ডান পাশের উপর কাত হয়ে শুয়ে পড়বে। আর এ দু‘আ পড়বে, হে আল্লাহ! আমি আমার চেহারাকে অর্থাৎ
যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে) তোমার হস্তে সমর্পণ করলাম। আর আমার সকল বিষয় তোমারই নিকট
সমর্পণ করলাম এবং আমার পৃষ্ঠদেশ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। আমি তোমার গযবের ভয়ে
ভীত ও তোমার রাহমাতের আশায় আশান্বিত। তোমার নিকট ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং নেই
মুক্তি পাওয়ার স্থান। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ, আমি
তার উপর ঈমান এনেছি এবং তুমি যে নাবী পাঠিয়েছ আমি তাঁর উপর ঈমান এনেছি। যদি তুমি এ
রাতেই মরে যাও, তোমার সে মৃত্যু স্বভাবধর্ম ইসলামের উপরই
গণ্য হবে। অতএব তোমার এ দু‘আগুলো যেন তোমার এ রাতের
সর্বশেষ কথা হয়। রাবী বারাআ বলেন, আমি বললামঃ আমি এ কথা
মনে রাখবো। তবে بِرَسُوْلِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ সহ। রাসূলুল্লাহ বললেন,
না ওভাবে নয়, তুমি বলবে وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ। [২৪৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৯) [১]
[২২] উক্ত সহাবী সম্ভবত মনে করেছিলেন, নবীর
চেয়ে রাসূলের মর্যাদা বেশী এবং যিনি শিক্ষা দিচ্ছেন তিনিতো রাসূলও বটে। তাই তিনি
জিজ্ঞেস করলেন, নাবিয়্যিকা'র
স্থলে রাসূলিকা বলা যাবে কিনা। কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই শব্দ পরিবর্তন করতে নিষেধ করলেন। উক্ত হাদীস
থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর পঠিত ও শিখানো দু'আর
মধ্যে কোনরূপ শব্দ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে দু'আ যাবে না।
এমনকি বচন বা লিঙ্গ পরিবর্তন করাও ঠিক নয়।
৮০/৭. অধ্যায়ঃ
ঘুমানোর
সময় কী দু’আ পড়বে।
৬৩১২
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ " بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا ". وَإِذَا قَامَ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ ".
হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) থেকে
বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করতে যেতেন, তখন
তিনি এ দু'আ পড়তেনঃ হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর
আপনার নাম নিয়েই বাঁচি। আর তিনি জেগে উঠতেন তখন পড়তেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহ্র
জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন। আর প্রত্যাবর্তন
তাঁর পানেই।(আধুনিক প্রকাশনী- ,৫৮৬৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশন-
৫৭৬০)
৬৩১৩
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، سَمِعَ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ رَجُلاً. وَحَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَوْصَى رَجُلاً فَقَالَ " إِذَا أَرَدْتَ مَضْجَعَكَ فَقُلِ اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ. فَإِنْ مُتَّ مُتَّ عَلَى الْفِطْرَةِ ".
বারাআ ইবনু 'আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক লোককে নির্দেশ দিলেন। অন্য
সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে অসিয়ত করলেন যে, যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবে, তখন তুমি এ দু'আ পড়বে 'হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণকে আপনার
কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে
এবং আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রাহমাতের
আশায় এবং আপনার গযবের ভয়ে। আপনার নিকট ব্যতীত আপনার গযব থেকে পালিয়ে যাবার এবং
আপনার আযাব থেকে বাঁচার আর কোন স্থান নেই। আপনি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার উপর দৃঢ় বিশ্বাস করছি এবং আপনি যে নবী পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছি। যদি তুমি এ অবস্থায়ই মরে যাও,
তবে তুমি স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে।(আধুনিক
প্রকাশনী- ৫৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬১)
৮০/৮. অধ্যায়ঃ
ডান
গালের নীচে ডান হাত রাখা।
৬৩১৪
حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ ـ رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ ثُمَّ يَقُولُ " اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا ". وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ ".
হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাত গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার
নামেই জীবিত হই। আর যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ সে আল্লাহ্র জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের
পুনরুত্থান।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-
৫৭৬২)
৮০/৯. অধ্যায়ঃ
ডান
পাশের উপর ঘুমানো
৬৩১৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ. وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَهُنَّ ثُمَّ مَاتَ تَحْتَ لَيْلَتِهِ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ ". {اسْتَرْهَبُوهُمْ} مِنَ الرَّهْبَةِ، مَلَكُوتٌ مُلْكٌ مَثَلُ رَهَبُوتٌ خَيْرٌ مِنْ رَحَمُوتٍ، تَقُولُ تَرْهَبُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَرْحَمَ.
বারাআ ইবনু 'আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে
যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপত নিদ্রা যেতেন এবং বলতেনঃ
হে আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর
আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিলাম,
আপনার রাহমাতের আশায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি শয়নকালে
এ দু'আগুলো পড়বে, আর এ রাতেই তার
মৃত্যু হবে সে স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপরই মরবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৩)
৮০/১০. অধ্যায়ঃ
রাত্রে
নিদ্রা হতে জাগ্রত হওয়ার পর দু'আ
৬৩১৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ بِتُّ عِنْدَ مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى حَاجَتَهُ، غَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ نَامَ، ثُمَّ قَامَ فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَأَطْلَقَ شِنَاقَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا بَيْنَ وُضُوءَيْنِ لَمْ يُكْثِرْ، وَقَدْ أَبْلَغَ، فَصَلَّى، فَقُمْتُ فَتَمَطَّيْتُ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَرَى أَنِّي كُنْتُ أَتَّقِيهِ، فَتَوَضَّأْتُ، فَقَامَ يُصَلِّي، فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ، فَأَخَذَ بِأُذُنِي فَأَدَارَنِي عَنْ يَمِينِهِ، فَتَتَامَّتْ صَلاَتُهُ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ ـ وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ ـ فَآذَنَهُ بِلاَلٌ بِالصَّلاَةِ، فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ، وَكَانَ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَفَوْقِي نُورًا، وَتَحْتِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَخَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا ". قَالَ كُرَيْبٌ وَسَبْعٌ فِي التَّابُوتِ. فَلَقِيتُ رَجُلاً مِنْ وَلَدِ الْعَبَّاسِ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ، فَذَكَرَ عَصَبِي وَلَحْمِي وَدَمِي وَشَعَرِي وَبَشَرِي، وَذَكَرَ خَصْلَتَيْنِ.
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একবার আমি মাইমূনাহ (রাঃ) -এর ঘরে রাত্রি
অতিবাহিত করলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) উঠে তাঁর প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার
জাগ্রত হয়ে পানির মশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন অযূ করলেন
যে, তাতে অধিক পানি লাগালেন না। অথচ পুরা 'উযূই করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম।
তবে আমি কিছু বিলম্বে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ
করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক,
আমি অযূ করলাম। তখনও তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সুতরাং
আমি গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে
আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তাঁর তেরো রাক'আত সলাত পূর্ণ
হলো। তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডাকতেও লাগলেন। তাঁর অভ্যাস
ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকতেন। এরপর বিলাল (রাঃ) এসে
তাঁকে জাগালেন। তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সলাত আদায় করলেন। তাঁর দু'আর মধ্যে এ দু'আও ছিলঃ "হে আল্লাহ! আপনি
আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার
কানে, আমার ডানে-বামে, আমার
উপর-নীচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার
জন্য নূর দান করুন।”
কুরায়ব (রহঃ) বলেন, এ সাতটি আমার
তাবূতের মত। এরপর আমি 'আব্বাসের জনৈক পুত্রের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা
করলেন এবং রগ, গোশ্ত, চুল ও
চামড়ার উল্লেখ করলেন এবং আরো দু'টির কথা উল্লেখ করেন।
[১১৭; মুসলিম ৬/২৬, হাঃ ৭৬৩,
আহমাদ ২০৮৩] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭১ , ইসলামিক
ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৪)
৬৩১৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ أَبِي مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَتَهَجَّدُ قَالَ " اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ ـ أَوْ ـ لاَ إِلَهَ غَيْرُكَ ".
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, যখনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাহাজ্জুদের সলাতে দাঁড়াতেন, তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি রক্ষক আসমান ও যমীনের এবং যা কিছু এগুলোর মধ্যে আছে, আপনিই তাদের নূর। আর যাবতীয় প্রশংসা শুধু আপনারই। আসমান যমীন এবং এ দু'এর মধ্যে যা আছে, এসব কিছুকে সুদৃঢ় ও কায়িম
রাখার একমাত্র মালিক আপনিই। আর সমূহ প্রশংসা একমাত্র আপনারই। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আখিরাতে আপনার সাক্ষাৎ লাভ
করা সত্য, বেহেশ্ত সত্য, দোযখ
সত্য, ক্বিয়ামাত সত্য, পয়গম্বরগণ
সত্য এবং মুহাম্মাদ সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমি একমাত্র
আপনারই উপর ভরসা রাখি। একমাত্র আপনারই উপর ঈমান এনেছি। আপনারই দিকে ফিরে চলছি।
শত্রুদের সঙ্গে আপনারই সন্তুষ্টির জন্য শত্রুতা করি। আপনারই নিকট বিচার চাই। অতএব
আমার আগের পরের এবং লুক্কায়িত প্রকাশ্য গুনাহসমূহ আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনি কোন
ব্যক্তিকে অগ্রসরমান করেন, আর কোন ব্যক্তিকে পশ্চাদপদ
করেন, আপনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন মাবূদ নেই।(আধুনিক
প্রকাশনী- ৫৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৫)
৮০/১১. অধ্যায়ঃ
ঘুমানোর
সময়ের তাসবীহ ও তাকবীর বলা।
৬৩১৮
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ فَاطِمَةَ ـ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ ـ شَكَتْ مَا تَلْقَى فِي يَدِهَا مِنَ الرَّحَى، فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ خَادِمًا، فَلَمْ تَجِدْهُ، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَلَمَّا جَاءَ أَخْبَرَتْهُ. قَالَ فَجَاءَنَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا، فَذَهَبْتُ أَقُومُ فَقَالَ " مَكَانَكِ ". فَجَلَسَ بَيْنَنَا حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ عَلَى صَدْرِي فَقَالَ " أَلاَ أَدُلُّكُمَا عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ، إِذَا أَوَيْتُمَا إِلَى فِرَاشِكُمَا، أَوْ أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا، فَكَبِّرَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، وَسَبِّحَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، فَهَذَا خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ ". وَعَنْ شُعْبَةَ عَنْ خَالِدٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ التَّسْبِيحُ أَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ.
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
একবার গম পেষার যাঁতা ঘুরানোর
কারণে ফাতেমাহ (রাঃ) এর হাতে ফোস্কা পড়ে গেল। তখন তিনি একটি খাদিম চেয়ে নেয়ার
উদ্দেশ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে এলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি
'আয়িশাহ (রাঃ) -এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন। এরপর তিনি যখন
গৃহে ফিরলেন তখন 'আয়িশাহ (রাঃ) এ বিষয়টি তাঁকে জানালেন।
তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে
এমন সময় আগমন করলেন যখন আমরা বিশ্রাম গ্রহণ করেছি। তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি বললেনঃ
নিজ স্থানেই অবস্থান কর। তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনিভাবে বসে গেলেন যে,
আমি তার দু'পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে
অনুভব করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের এমন একটি 'আমাল
বলে দেব না, যা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক
অধিক উত্তম। যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন তোমারা
আল্লাহু আকবর ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আল্হামদু লিল্লাহ ৩৩ বার পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও
অনেক অধিক কল্যাণকর। ইবনু সীরীন (রহঃ) বলেনঃ তাসবীহ হলো ৩৪ বার।(আধুনিক প্রকাশনী-
৫৮৭৩,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৬)
৮০/১২. অধ্যায়ঃ
ঘুমানোর
সময় আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থণা এবং কুরআন পাঠ।
৬৩১৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ نَفَثَ فِي يَدَيْهِ، وَقَرَأَ بِالْمُعَوِّذَاتِ، وَمَسَحَ بِهِمَا جَسَدَهُ.
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বিছানায় যেতেন, তখন
মুয়াওবিযাত (ফালাক ও নাস) পাঠ করতেনঃ তারপর তাঁর দু' হাতে
ফুঁক দিয়ে তা শরীরে মাসহ করতেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৪, ইসলামিক
ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৭)
৮০/১৩. অধ্যায়ঃ
বিছানা
পরিষ্কার করা
৬৩২০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم" إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَنْفُضْ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي مَا خَلَفَهُ عَلَيْهِ، ثُمَّ يَقُولُ بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ ". تَابَعَهُ أَبُو ضَمْرَةَ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ. وَقَالَ يَحْيَى وَبِشْرٌ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَرَوَاهُ مَالِكٌ وَابْنُ عَجْلاَنَ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গির ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ,
সে জানে না যে, বিছানার উপর তার
অনুপস্থিতিতে পীড়াদায়ক কোন কিছু আছে কিনা। তারপর পড়বেঃ হে আমার রব্ব! আপনারই নামে
আমার শরীরটা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠবো। যদি আপনি ইতোমধ্যে আমার
জান কব্য করে নেন তা হলে, তার উপর রহম করবেন। আর যদি তা
আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হিফাযত করবেন,
যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযাত করে থাকেন।[৭৩৯৩;
মুসলিম ৪৮/১৭, হাঃ ২৭১৪, আহমাদ ৯৫৯৫] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৫, ইসলামিক
ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৮)
৮০/১৪. অধ্যায়ঃ
মাঝ
রাতের দু'আ
৬৩২১
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الأَغَرِّ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَتَنَزَّلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ?"
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ প্রতি রাতের শেষ
তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে
ঘোষণা করতে থাকেনঃ আমার নিকট দু'আ করবে কে? আমি তার দু'আ কবুল করবো। আমার নিকট কে চাবে?
আমি তাকে দান করবো। আমার কাছে কে তার গুনাহ ক্ষমা চাবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৯)
দু'আ সমূহ-
হাদীসে
বর্ণিত দো‘আঃ-
৩১-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ
الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ
عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ».
৩১। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অক্ষমতা,
অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে। আশ্রয় চাই তোমার
নিকট কবরের আযাব ও জীবন মরণের ফিতনা থেকে।[1]
৩২-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ
الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ الْقَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ».
৩২। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই,
কঠিন
বালা-মুসিবত, দুর্ভাগ্য,
ভাগ্যের
পরিহাস ও শত্রুদের বিদ্বেষ থেকে।[2]
৩৩-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْهُدٰى
وَالتُّقٰى وَالْعَفَافَ وَالْغِنٰى».
৩৩। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়াত তাকওয়া,
পবিত্র
জীবন ও অমুখাপেক্ষিতা চাই।[3]
৩৪-
«اَللّٰهُمَّ اهْدِنِيْ وَسَدِّدْنِيْ -
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْهُدٰى وَالسَّدَادَ».
৩৪। হে
আল্লাহ! আমাকে হেদায়াত দান কর, আমাকে
সঠিক পথে পরিচালিত কর। হে আল্লাহ! তোমার নিকট হেদায়াত ও সঠিক পথ কামনা করছি।[4]
৩৫-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ
نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيْعِ سَخَطِكَ».
৩৫। হে
আল্লাহ! তোমার দেওয়া নেয়ামাত চলে যাওয়া ও সুস্থতার পরিবর্তন হওয়া থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই তোমার পক্ষ থেকে আকষ্মিক গজব আসা ও তোমার সকল অসন্তোষ থেকে।[5]
৩৬-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ
مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ».
৩৬। হে
আল্লাহ! আমি আমার অতীতের কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যে কাজ
আমি করিনি তার অনিষ্টতা থেকেও আশ্রয় চাই।[6]
৩৭-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أِعُوْذُ بِكَ أنْ أُشْرِكَ
بِكَ وَأَنَا أِعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ».
৩৭। হে
আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শির্ক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা
করছি। আর যদি অজান্তে শির্ক হয়ে থাকে তবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।[7]
৩৮-
«اَللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ فَلَا
تَكِلْنِيْ إِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّه لَا
إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ».
৩৮। হে
আল্লাহ! তোমার রহমত প্রত্যাশা করছি। সুতরাং তুমি আমার নিজের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে
কোনো দায়িত্ব অর্পণ করে দিও না। আর আমার সব কিছু তুমি সহীহ শুদ্ধ করে দাও। তুমি
ছাড়া আর কোনো মা‘বুদ নেই।[8]
৩৯-
«اَللّٰهُمَّ اجْعَلِ الْقُرْاٰنَ رَبِيْعَ
قَلْبِيْ وَنُوْرَ صَدْرِيْ وَجِلَاءَ حُزْنِيْ وَذَهَابَ هَمِّيْ».
৩৯। হে
আল্লাহ! কুরআনকে তুমি আমার হৃদয়ের বসন্তকাল বানিয়ে দাও, বানিয়ে দাও আমার বুকের নূর এবং কুরআনকে আমার দুঃখ ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার
মাধ্যম বানিয়ে দাও।[9]
৪০-
«اَللّٰهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ
قُلُوْبَنَا عَلٰى طَاعَتِكَ».
৪০। হে
অন্তরের পরিবর্তন সাধনকারী রব! আমাদের অন্তরকে তোমার আনুগত্যের দিকে ধাবিত করে
দাও।[10]
৪১-
«يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِيْ
عَلَى دِيْنِكَ».
৪১। হে
অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।[11]
৪২-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي
الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ».
৪২। হে
আল্লাহ! তোমার কাছে আমি দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি।
৪৩-
«اَللّٰهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِي
الْأُمُوْرِ كُلِّهَا وَأَجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْاٰخِرَةِ».
৪৩। হে
আল্লাহ! তুমি আমাদের সকল কাজের পরিণতি সুন্দর ও উত্তম করে দাও এবং আমাদেরকে
দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা, অপমান এবং আখেরাতের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে
দিও।[12]
৪৪-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ
سَمْعِيْ وَمِنْ شَرِّ بَصَرِيْ وَمِنْ شَرِّ لِسَانِيْ وَمِنْ شَرِّ قَلْبِيْ
وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّيْ».
৪৪। হে
আল্লাহ! আমার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি,
আমার
জিহবা ও অন্তর এবং আমার ভাগ্য এসব অঙ্গের অনিষ্টতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।[13]
৪৫-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ
الْبَرَصِ وَالْجُنُوْنِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئْ الْأَسْقَامِ».
৪৫। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট শ্বেতরোগ পাগলামি ও কুষ্ঠ রোগসহ সকল জটিল রোগ থেকে আশ্রয়
চাই।[14]
৪৬-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ
مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ وَالْأَهْوَاءِ».
৪৬। হে
আল্লাহ! তোমার নিকট আমি অসৎ চরিত্র,
অপকর্ম
এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাই।[15]
৪৭-
«اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ
فَاعْفُ عَنِّيْ».
৪৭। হে
আল্লাহ! তুমিতো ক্ষমার ভাণ্ডার, ক্ষমা
করাকে তুমি পছন্দ কর। কাজেই আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।[16]
৪৮-
«اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ
وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ».
৪৮। হে
আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে হেদায়াত কর, নিরাপদে রাখ এবং আমাকে রিযিক দান কর।[17]
৪৯-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا
كَثِيْرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً
مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ».
৪৯। হে
আল্লাহ! আমি আমার নিজের প্রতি অনেক যুলম করে ফেলেছি। আর তুমি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা
করার কেউ নেই। অতএব, তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে
ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর। নিশ্চয় তুমি বড়ই
ক্ষমাশীল ও অতিশয় দয়ালু রব।[18]
৫০-
«اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ
لِيْ فِيْ دَارِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيمَا رَزَقْتَنِيْ».
৫০। হে
আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহকে ক্ষমা করে দাও,
আমার ঘরে
প্রশস্ততা দান কর এবং আমার রিযিকে বরকত দাও।[19]
৫১-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
وَرَحْمَتِكَ فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ».
৫১। হে
আল্লাহ! তোমার নিকট অনুগ্রহ ও দয়া চাই। কারণ অনুগ্রহ ও দয়ার মালিক তুমি ছাড়া কেউ
না।[20]
৫২-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ
التَّرَدِّيْ وَالْهَدْمِ وَالْغَرَقِ وَالْحَرِيْقِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ
يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَمُوْتَ
فِيْ سَبِيْلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَمُوْتَ لَدِيْغًا».
৫২। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জমিন ধসে পড়া,
ধ্বংস
হওয়া, পানিতে ডুবা ও আগুনে পোড়া থেকে আশ্রয়
চাই। মৃত্যুর সময় শয়তানের ছোবল থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই তোমার নিকট
তোমার পথে পৃষ্ঠপ্রদর্শন হয়ে মৃত্যু থেকে। তোমার নিকট আশ্রয় চাই দংশনজনিত মৃত্যু
থেকে।[21]
৫৩-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ
الْجُوْعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيْعُ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْخِيَانَةِ
فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ».
৫৩। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষুধা থেকে আশ্রয় চাই।
করণ এটি নিকৃষ্ট শয্যাসঙ্গী। খেয়ানত থেকেও তোমার কাছে আশ্রয় চাই। কারণ এটি নিকৃষ্ট
বন্ধু।[22]
৫৪-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ
الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ
أُظْلَمَ».
৫৪। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দারিদ্র্য,
স্বল্পতা, হীনতা থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই যালিম ও মাযলুম হওয়া থেকে।[23]
৫৫-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ يَوْمِ
السُّوْءِ وَمِنْ لَيْلَةِ السُّوْءِ وَمِنْ سَاعَةِ السُّوْءِ وَمِنْ صَاحِبِ
السُّوْءِ وَمِنْ جَارِ السُّوْءِ فِيْ دَارِ الْمَقَامَةِ».
৫৫। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই খারাপ দিন,
খারাপ রাত, বিপদ মুহূর্ত, অসৎসঙ্গী এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারী খারাপ
প্রতিবেশী থেকে।[24]
৫৬-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ
وَأَسْتَجِيْرُ بِكَ مِنَ النَّارِ».
৫৬। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাতের প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি
চাচ্ছি। (তিনবার)[25]
৫৭-
«اَللّٰهُمَّ فَقِّهْنِيْ فِي الدِّيْنِ».
৫৭। হে
আল্লাহ! আমাকে দীনের পান্ডিত্য দান কর।[26]
৫৮-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا
وَّرِزْقًا طَيِّبًا وَّعَمَلًا مُّتَقَبَّلًا».
৫৮। হে
আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী ‘ইলম, পবিত্র রিযিক এবং কবূল আমলের প্রার্থনা করছি।[27]
৫৯-
«رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ
أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُوْرُ».
৫৯। হে
আমার রব! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার তাওবা কবূল কর। নিশ্চয় তুমি তাওবা গ্রহণকারী ও
অতিশয় ক্ষমাশীল।[28]
৬০-
«اَللّٰهُمَّ طَهِّرْنِيْ مِنَ الذُّنُوْبِ
وَالْخَطَايَا - اَللّٰهُمَّ نَقِّنِيْ مِنْهَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ
الْأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ اَللّٰهُمَّ طَهِّرْنِيْ
بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِد»ِ.
৬০। হে
আল্লাহ! আমাকে যাবতীয় গোনাহ ও ভুলভ্রান্তি থেকে পবিত্র কর। হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ
থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন কর যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা
হয়। হে আল্লাহ! আমাকে বরফ, শীতল ও ঠান্ডা পানি দিয়ে পবিত্র কর।[29]
৬১-
«اَللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيْلَ وَمِيْكَائِيْلَ
وَرَبَّ إِسْرَافِيْلَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ حَرِّ النَّارِ وَمِنْ عَذَابِ
الْقَبْرِ».
৬১। হে
আল্লাহ! হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব! আমি তোমার নিকট
জাহান্নামের উত্তাপ ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই।[30]
৬২-
«اَللّٰهُمَّ أَلْهِمْنِيْ رُشْدِيْ وَأَعِذْنِيْ
مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ».
৬২। হে
আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে হেদায়েতের অনুপ্রেরণা দান কর। আমার অন্তরের অনিষ্টতা
থেকে আমাকে বাঁচিয়ে রাখো।[31]
৬৩-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا
نَافِعًا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَّا يَنْفَعُ».
৬৩। হে
আল্লাহ! তোমার নিকট আমি উপকার দানকারী ইলম চাই,
এমন ইলম
থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না।[32]
৬৪-
«اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنِيْ مُنْكَرَاتِ
الْأَخْلَاقِ وَالْأَهْوَاءِ وَالْأَعَمَالِ وَالْأَدْوَاءِ».
৬৪। হে
আল্লাহ! আমাকে অসৎ চরিত্র, কুপ্রবৃত্তি, অপকর্ম ও অপ্রতিষেধক (ঔষধ) থেকে দূরে রাখ।[33]
৬৫-
«اَللّٰهُمَّ قَنِّعْنِيْ بِمَا رَزَقْتَنِيْ
وَبَارِكْ لِيْ فِيْهِ وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِيْ بِخَيْر»ٍ.
৬৫। হে
আল্লাহ! আমাকে যে রিযিক দান করেছ এতে তুমি আমাকে তুষ্টি দান কর এবং বরকত দাও। আর
আমার প্রতিটি অজানা বিষয়ের পরে আমাকে তুমি কল্যাণ এনে দাও।[34]
৬৬-
«اَللّٰهُمَّ حَاسِبْنِيْ حِسَابًا يَّسِيْرًا».
৬৬। হে
আল্লাহ! আমার হিসাবকে তুমি সহজ করে দাও।[35]
৬৭-
«اَللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ
وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ»
৬৭। হে
আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার যিকির,
কৃতজ্ঞতা
এবং তোমার উত্তম ইবাদাত করার তাওফীক দাও।[36]
৬৮-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ إِيْمَانًا لَا
يَرْتَدُّ وَنَعِيْمًا لَا يَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ النَّبِيِّ فِيْ أَعْلٰى جَنَّةِ الْخُلْدِ».
৬৮। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন ঈমানের প্রার্থনা করছি,
যে ঈমান
হবে দৃঢ় ও মজবুত, যা নড়বড়ে হবে না, চাই এমন নি‘আমত যা ফুরিয়ে যাবে না। এবং চিরস্থায়ী
সুউচ্চ জান্নাতে প্রিয় নবী মুহম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে থাকার
তাওফীক আমাকে দিও।[37]
৬৯-
«اَللّٰهُمَّ قِنِيْ شَرَّ نَفْسِيْ وَاعْزِمْ
لِيْ عَلٰى أَرْشَدِ أَمْرِيْ - اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ مَا أَسْرَرْتُ وَمَا
أَعْلَنْتُ وَمَا أَخْطَأْتُ وَمَا عَمَدْتُ وَمَا عَلِمْتُ وَمَا جَهِلْتُ».
৬৯। হে
আল্লাহ! আমাকে আমার আত্মার অনিষ্টতা থেকে রক্ষা কর। পথনির্দেশপূর্ণ কাজে আমাকে
তুমি দৃঢ় রাখ। হে আল্লাহ! আমি যা গোপন করি এবং যা প্রকাশ করি, ভুল করি, ইচ্ছা বশতঃ করি, যা জেনে করি এবং না জেনে করি- এসব কিছুতে আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও।[38]
৭০-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ
الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الْعَدُوِّ وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ».
৭০। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঋণের প্রভাব ও আধিক্য,
শত্রুর
বিজয় এবং শত্রুদের আনন্দ উল্লাস থেকে আশ্রয় চাই।[39]
৭১-
«اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَاهْدِنِيْ
وَارْزُقْنِيْ وَعَافِنِيْ أَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ ضِيْقِ الْمَقَامِ يَوْمَ
الْقِيَامَةِ».
৭১। হে
আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে হিদায়াত দান কর, আমাকে রিযিক দান কর, আমাকে
নিরাপদে রাখ, কিয়ামাতের দিনের সংকীর্ণ স্থান থেকে
তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।[40]
৭২-
«اَللّٰهُمَّ أَحْسَنْتَ خَلْقِيْ فَأَحْسِنْ
خُلُقِيْ».
৭২। হে
আল্লাহ! তুমি আমার আকৃতি ও অবয়বকে সুন্দর করেছ। অতএব, আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দাও।[41]
৭৩-
«اَللّٰهُمَّ ثَبِّتْنِيْ وَاجْعَلْنِيْ هَادِيًا
مَهْدِيًّا».
৭৩। হে
আল্লাহ! তুমি আমাকে অটল-অবিচল রাখ এবং আমাকে পথপ্রদর্শক ও হিদায়াতপ্রাপ্ত হিসেবে
গ্রহণ করে নাও।[42]
৭৪-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ
التَّرَدِّي وَالْهَدْمِ وَالْغَرَقِ وَالْحَرِيقِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ
يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي
سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا»
৭৪। হে
আল্লাহ! আমি তোমার নিকট যমীন ধসে পড়া,
ধ্বংস
হওয়া, পানিতে ডুবা ও আগুনে পোড়া থেকে আশ্রয়
চাই। মৃত্যুর সময় শয়তানের ছোবল থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই তোমার নিকট
তোমার পথে পৃষ্ঠপ্রদর্শন হয়ে মৃত্যু থেকে। তোমার নিকট আশ্রয় চাই দংশনজনিত মৃত্যু
থেকে।[43]
৭৫-
«اَللّٰهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا
كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ
عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ»
৭৫। হে
আল্লাহ! আমি আমার নিজের প্রতি অনেক যুলুম করে ফেলেছি। আর তুমি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা
করার কেউ নেই। অতএব, তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে
ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর। নিশ্চয় তুমি বড়ই
ক্ষমাশীল ও অতিশয় দয়ালু রব।[44]
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اٰلِه
وَأَصْحَابِه أَجْمَعِيْنَ.
“হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবার পরিজন
ও সকল সাহাবীগণের প্রতি দুরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন”।
[1] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৬৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৬ [2] বুখারী, হাদীস নং ৬৩৪৭ [3] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭২১ [4] মুসলিম, হাদীস নং ২৭২১ [5] মুসলিম, হাদীস নং ২৭৩৯ [6] মুসলিম, হাদীস নং ২৭১৬ [7] সহীহ আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং
৭১৬ [8] আবু দাউদ,
হাদীস নং
৫০৯০ [9] মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৩৭০৪ [10] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৫৪ [11] মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২১৪০ [12] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭১৭৬ [13] আবু দাউদ,
হাদীস নং
১৫৫১ [14] আবু দাউদ,
হাদীস নং
১৫৫৪ [15] তিরমিযী,
হাদীস নং
৩৫৯১ [16] তিরমিযী,
হাদীস নং
৩৫১৩ [17] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৯৬ [18] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৩৪ [19] মুসনাদে আহমদ [20] ত্ববরানী [21] নাসাঈ,
হাদীস নং
৫৫৩১ [22] আবু দাঊদ,
হাদীস নং
৫৪৬ [23] নাসাঈ,
আবু দাঊদ
[24] সহীহ জামেউস সগীর, হাদীস নং ১২৯৯ [25] তিরমিযী, ইবন মাজাহ [26] সহীহ সহীহ বুখারী; ফাতহুলবারী; সহীহ মুসলিম [27] ইবন মাজাহ [28] আবু দাঊদ, তিরমিযী,
হাদীস নং
৩৪৩৪ [29] নাসাঈ,
হাদীস নং
৪০২ [30] নাসাঈ,
হাদীস নং
৫৫১৯ [31] ইবন মাজাহ,
হাদীস নং
৩৪৮৩ [32] ইবন মাজাহ,
হাদীস নং
৩৮৪৩ [33] মুসতাদরাকে হাকেম [34] মুসতাদরাকে হাকেম [35] মিশকাত, হাদীস নং ৫৫৬২ [36] আবু দাউদ,
হাদীস নং
১৫২২ [37] ইবন হিব্বান [38] মুসতাদরাকে হাকেম [39] নাসাঈ, হাদীস নং ৫৪৭৫ [40] নাসাঈ,
হাদীস নং
১৬১৭ [41] জামেউস সগীর, হাদীস নং ১৩০৭ [42] সহীহ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ফাতহুল বারী [43] নাসাঈ, হাদীস নং ৫৫৩১ [44] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৩৪
Comments
Post a Comment