বেনামাযীর উপর বিষধর সাপের আক্রমণ


বেনামাযীর উপর বিষধর সাপের আক্রমণ

বেনামাযীর শাস্তি হবে আখিরাতে। মাঝে মধ্যে আল্লাহ তায়ালা এরূপ কিছু শাস্তি দুনিয়ার মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য দুনিয়ার মাটিতেই দেখিয়ে থাকেন। তার জীবন্ত নজির নীচের সংবাদটিঃ-

মক্কা মুকাররমাঃ সম্প্রতি একটি খবর সমাজের অভ্যন্তরে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে যে, একটি মইওত (লাশ)-কে সাপ লেপ্টে ধরে আছে। মদীনা মুনওয়ারায় অবস্থিত "বকীয়ে গারকা" নামক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটেছে।

আলী আল উমায়রী বর্ণিত ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, একটি লোক মারা গেলে তাকে দাফনের জন্য কবরে রাখার সাথে সাথে একটি বিষধর সাপ এসে লাশটিকে লেপ্টে ধরে। প্রতিবেদক উল্লেখ করেন, ঘটনাটির সত্যাসত্য যাচাই করার জন্য "আল বিলাদ" নামক পত্রিকার পক্ষ হতে মক্কা মুকাররমার ইসলামী শরীয়া আদালতের উপদেষ্টা শেখ মুহাম্মাদ মকবুল সুবহীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লোকটি নামায পড়তো না, মসজিদেও গমন করতো না।

শেখ সুবহী আরও জানান, প্রায় দশ বছর আগে জর্দানে অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল বলে শেখ সাঈদ বিন মাসফার আল রাহতানী খবর পরিবেশন করেছেন। "বেনামাযীর শাস্তি" শিরোনামে এক ক্যাসেটে এ ঘটনার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। শেখ সুবহী জোর দিয়ে বলেন, উল্লেখিত ঘটনাটি ১৪২১ হিজরীর সফর মাসে মদীনা মুনওয়ারায় সংঘটিত হয়েছিল। তিনি জানান, এই ভীতিকর দৃশ্য দেখে কোন কোন লোক অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। শেখ সুবহী এ প্রসঙ্গে একটি হাদীসের উল্লেখ করে বলেন, বেনামাযীর শাস্তির জন্য যে সাপ নিয়োজিত করা হবে, সেটার নাম "ওজাউন আকরা" বা "ভয়ংকর বিষধর" সাপ বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন। বেনামাযীর মৃত্যুর পর তাকে কবর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সাপ দংশন করতে থাকবে। অতঃপর সে সর্বদা জাহান্নামে অবস্থান করতে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি হচ্ছে, আমাদের ও কাফিরদের মধ্যে অঙ্গীকার হচ্ছে নামায। যে নামাজ ত্যাগ করল, সে কুফরী কাজ করলো।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন যে, যে ব্যক্তি নামাযের হেফাজত করল না, তার কোন চিহ্ণও থাকবে না এবং সে নাজাতও পাবে না এবং তার উত্থান হবে ফেরআউন, হামান, কারূন ও উবাই ইবনে খলফের সঙ্গে।

জনাব শেখ সুবহী সময়মত নামাযের হেফাজত করার এবং উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানান।  

"হযরত মুসা (আঃ) একদিন আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করলেনঃ
"হে প্রভু! আমার অনুসারীদের মধ্যে কে সবচেয়ে বড় পাপি?"
:
আল্লাহর উত্তরঃ "যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম এই পথ অতিক্রম করবে, সে ব্যক্তি-ই হলো তোমার অনুসারীদের মধ্যে বড় পাপি"
:
আল্লাহর কথানুযায়ী হযরত মুসা (আঃ) বসে দেখছেন, কিছুক্ষণ পর দেখলেন এক ব্যাক্তি ছোট একটি ছেলেকে কোলে করে পথ অতিক্রম করছে। মুসা (আঃ) বুঝে ফেললেন এই সেই বড় পাপি
:
মুসা (আঃ) আল্লাহ কে বললেনঃ "প্রভু, এখন আমাকে সবচেয়ে নেকী মানুষটিকে দেখান।"
:
আল্লাহর উত্তরঃ "সূর্য ডুবার সাথে সাথে যে লোকটি তোমার পূর্বস্থান দিয়ে চলে যাবে সেই হইলো সবচেয়ে নেকী"
:
মুসা (আঃ) সূর্য ডুবার বেশ আগের থেকে বসে রইলেন যেই সূর্য ডুবছিলো দেখলেন সে সকালের ঐ ব্যাক্তি-ই ছোট ছেলেকে কোলে করে ফিরে যাচ্ছে। মুসা (আঃ) হতভম্ব হয়ে আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ "প্রভু একই ব্যক্তি মহা পাপি আবার মহা নেকী" .
:
আল্লাহ বললেনঃ "হে- মুসা! সকালে যখন এই ব্যাক্তি ছেলেকে সাথে নিয়ে তোমাকে অতিক্রম করে জঙ্গলে প্রবেশ করলো, তখন কোলের ছেলেটি বাবাকে প্রশ্ন করে ছিলো, বাবা! এই জঙ্গল কতবড়?
বাবা উত্তরে বলেছিলো,অনেক বড়। ছেলে আবার প্রশ্ন করলো, বাবা! জঙ্গল থেকে কি বড় কোনো কিছু আছে?
তখন বাবা বলেছিলো, হ্যাঁ বাবা! ঐ পাহাড়গুলো জঙ্গল থেকে বড়। ছেলে পুনরায় প্রশ্ন করলো,পাহাড় থেকে কি বড় কিছু আছে?
বাবা বললো, আছে, এই আকাশ। ছেলে আবার প্রশ্ন করলো, আকাশ থেকে কি বড় কিছু আছে?
সেই ব্যক্তি বললো, হ্যাঁ, আমার পাপ এই আকাশ থেকেও বড়। ছেলে বাবার এ উত্তর শোনে বললো, বাবা! তোমার পাপ থেকে বড় কি কোনো কিছু নেই?
তখন বাবাটি চিৎকার দিয়ে ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো আমার পাপ থেকেও অনেক অনেক বড় আমাদের আল্লাহর রহমত।
:
হে-মুসা! এই ব্যক্তির পাপের অনুভূতি ও অনুশোচনা আমার এতোই পছন্দ হয়েছে যে সবচেয়ে পাপি ব্যক্তিকে সবচেয়ে' নেকী ব্যক্তি বানিয়ে দিয়েছি। মনে রেখো আমার শাস্তির হাত থেকে ক্ষমার হাত বহুগুন বড়।
:
হে আল্লাহ আপনি আমাদের সকলকে পিছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে সামনের দিনগুলোকে সত্যপথে চলার তাওফিক দান করুন"
আমিন
Collect সূ্ত্রঃ https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=204775461350965&id=100054555366932
































 মরণ থেকে যতই পালাই

মরণ আমায় রইছে ঘিরি,

যতই আমি পালাই গিয়ে

আকাশ পানে লাগিয়ে সিঁড়ি।  


মৃত্যুর পরের কাফন-দাফনের খরচ

কাফনের কাপড় --১০০০ টাকা

আতর------৬০ টাকা

গোলাপজল --১৫ টাকা

আগর বাতি---২০ টাকা

সুরমা--------২০ টাকা

সাবান------১৬ টাকা

কর্পূর-----২০ টাকা

খিলাইল---৫ টাকা

মোট ১১৫৬ টাকা বর্তমান (২০২১, জানুয়ারী) বাজার দর অনুসারে|

(বিঃদ্রঃ এই খরচের মধ্যে দাফন বাবত খরচ যথা ১) কবর খোদার পারিশ্রমিক ২) বাঁশ ইত্যাদি ক্রয়ের হিসাব ধরা হয়নি) 



নামায পড়ার সহজ তরিকাহ

ধরে নিই আবদুর রহমান, কিংবা আবদুল্লাহ অমুসলিম থেকে সবেমাত্র কালিমা পড়ে মুসলমান হয়েছেন দুপুরে। তখন তাঁর উপর সাথে সাথে ফরয হয়ে যায় জোহরের নামায। কিংবা ধরে নিই নামাজ ফরযে আইন অর্থাৎ অবশ্যই পালনীয়-এই অনুভূতি কোন মুসলমান ঘরে জন্ম নেয়া প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ আবদুর রহীমের মনে জাগ্রত হলো দুপুরে। তিনি না জানেন সূরাহ-কেরাত, না জানেন নামাজের মাসয়ালা-মাসায়িল। তাহলে ওয়াক্তমতে নামায পড়া যে ফরয তা পালন করবেন কিভাবে?

গোসল ফরয হলে প্রথমেই গোসল সেরে নেবেন গোসলের মাসয়ালা-মাসায়িল জেনে। গোসল ফরয না হলে সঠিক মাসয়ালা-মাসায়িল জেনে অযু করে তারপর সোজা চলে যাবেন নিকটস্থ মসজিদে। যদি জামাত শুরু না হয় জামাতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ঈমাম সাহেবের সাথে জামাত আদায় করতে হলে শুধু তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলে হাত বাঁধবেন এবং যেহেতু জোহরের নামাযে কেরাত আস্তে পড়া হয় সেহেতু চুপ করে  ইমাম সাহেবের পিছনে দাঁড়িয়ে (কিয়াম অবস্থায়) থাকবেন

রুকুতে গেলে আপনিও যাবেন (ঈমাম সাহেবের আগে আগে নয়, পরে) অনুরূপ রুকুতে, সিজদাহতে, বৈঠকেও (তাশাহুদ)।

ইমাম সাহেব আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বল্লে আপনিও অনুরূপ বলে নামায শেষ করবেন। এতে করে আপাততঃ আপনি বাজামাতের একজন নামাযী গণ্য হবেন শরীয়তে ইসলাম মতে। তবে অতি দ্রুত সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক নামায আদায়ের কায়দা-কানুন জানলেওয়ালার কাছ থেকে দ্রুত শিখে নেবেন। প্রথমে অন্ততঃ সূরাহ ফাতিহা এবং যেকোন একটি সুরাহ অতি অল্প সময়ের মধ্যে অবশ্যই শিখে নিতে হবে। এর পর পরবর্তীতে সময় সুযোগমত অন্ততঃ আরও ৩টি সূরাহ ভালভাবে শিখে নিলে তা দিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামায ইসলামী শরীয়তমতে আদায় করা অতি সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।

·         وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّـهِ ۚ

·         ওয়ামা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহঃ অর্থ: আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই প্রতি ফিরে যাই (সূরাহ হুদ, আয়াতঃ ৮৮, তাফসীরে মা'আরেফুল কুরআন)

 www.almodina.com


Comments

Popular posts from this blog

মুসলিম শিশু ছেলেদের জন্য সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু আনহুদের অর্থপূর্ণ নামের তালিকা

সন্তান জন্মের পর যে কাজগুলো সুন্নত-ই-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস, গুরুত্ব, ফজিলত এবং আশুরার রোজার নিয়মাবলী