পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সালাত বা নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সালাত বা নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
-এম,আর, হোসেন,কদমতলী, চট্টগ্রাম।
١٤- إِنَّنِي أَنَا اللَّـهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي ◯
►আমিই আল্লাহ। আমা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদাত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর (সূরাহ ত্বোয়াহা, আয়াত: ১৪, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা: ৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)।
“Verily, I am Allah: There is no Lord but I : So serve thou Me (only), And establish regular prayer For celebrating My praise.
(Sūrah 20: Tā-Há, Ayat:14, Verses 135 — Makki; Revealed at Makka — Sections 8, Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
١٣- أَأَشْفَقْتُمْ أَن تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ ۚ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا وَتَابَ اللَّـهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا اللَّـهَ وَرَسُولَهُ ۚ وَاللَّـهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ◯
►"তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য কর। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর" (সূরাহ মুজাদালাহ, আয়াত: ১৩, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৩৮) ।
Then (at least) establish Regular prayer ; practice Regular charity ; and obey Allah and His Apostle. And Allah is well-acquainted With all that ye do.
(Sūrah 58:Mujādila, Ayat: 13, Verses 22 — Madani; Revealed at Madina — Section 3) Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
.
١٣٢- وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ ◯
►"আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এর উপর অবিচল থাকুন" (সূরাহ ত্বোয়াহা, আয়াত: ১৩২, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৩)।
Enjoin prayer on thy people, And be constant therein. We ask thee not to provide Sustenance: We provide it For thee. But the (fruit of) The Hereafter is for Righteousness.
Sūrah 20: Tā-Há (Mystic Letters, T.H.),Ayat:132, Verses 135 — Makki; Revealed at Makka — Sections 8.
١١٠- وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّـهِ ۗ إِنَّ اللَّـهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ◯
►তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্য পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। (সূরাহ বাক্বরাহ, আয়াত: ১১০, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৭১)।
“And be steadfast in prayer and regular in charity: and whatever good ye send forth for your souls before you ye shall find it with Allah; for Allah sees well all that ye do”.
Sūrah 2: Baqarah, Ayat:110,Verses 286 — Madani; Revealed at Madina — Sections 40
পরকালে নামায সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার প্রশ্ন এবং নামায পরিত্যাগকারী বান্দার জবাব এবং ভয়াবহ পরিণতিসূচক কতিপয় আয়াত
٣٩- إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ ◯
39. Except the Companions Of the Right Hand.
٤٠- فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ ◯
40. (They will be) in Gardens (of Delight) : they will Question each other,
٤١- عَنِ الْمُجْرِمِينَ ◯
41. And (ask) of the Sinners :
٤٢- مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ ◯
42. “ What led you into Hell-Fire ? ”
٤٣- قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ ◯
43. They will say: “ We were not of those Who prayed ; ”
٤٤- وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ ◯
44. “ Nor were we of those Who fed the indigent ; ”
٤٥- وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ ◯
45. “ But we used to talk Vanities with vain talkers ; ”
٤٦- وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ ◯
46. “ And we used to deny The Day of Judgment, ”
٤٧- حَتَّىٰ أَتَانَا الْيَقِينُ ◯
47. “ Until there came to us (The Hour) that is certain. ”
٤٨- فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ ◯
48. Then will no intercession Of (any) intercessors Profit them.
٤٩- فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ ◯
49. Then what is The matter with them That they turn away From admonition ?—
٥٠- كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنفِرَةٌ ◯
Sūrah 74: Muddaththir, Ayat: 39-49, Verses 56 — Makki; Revealed at Makka — Sections 2. Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
(৩৯) কিন্ত্ত ডানদিকস্থরা (৪০) তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে (৪১) অপরাধী সম্পর্কে (৪২) বলবে: তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে? (৪৩) তারা বলবে: আমরা নামায পড়তাম না (৪৪) অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না (৪৫) আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম (৪৬) এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম (৪৭) আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত। (৪৮) অতএব, সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না। (৪৯) তাদের কি হল যে, তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? (সূরাহ মুদ্দাসির, আয়াত: ৩৯ হতে ৪৯ পর্যন্ত, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৬২০।
٦- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّـهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ◯
►হে মুমিনগণ! তোমরা নিজদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফেরেশ্তাগণ। তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তা-ই করে (সূরাহ তাহরীম, আয়াতঃ ৬, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৫০৭)।
“O ye who believe! Save yourselves and your Families from a Fire Whose fuel is Men And Stones, over which Are (appointed) angels Stern (and) severe, Who flinch not (from Executing) the Commands They receive from Allah, but do (precisely) what They are commanded”.
Sūrah 66: Tahrīm,Ayat: 6,Verses 12 — Madani; Revealed at Madina — Sections 2, Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
অমনোযোগী নামায (সালাত) আদায়কারীর ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়া'লার জোর সতর্কবার্তা
٤- فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ ◯
٥- الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ◯
►(৪) অতএব, দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, (৫) যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বেখবর। (৬) যারা তা লোক দেখানোর জন্য করে (সূরাহ মাউন, আয়াতঃ ৪-৬, পৃষ্ঠা: ৮৭১, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৮ম খন্ড, তাফসীরে মাআ’রেফুল কোরআন, মূল: মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.), অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ.), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।
i) www.almodina.com ii) www.islamicfoundation.org.bd
“So woe to the worshippers Who are neglectful Of their Prayers”,
Sūrah 107: Mā’ūn,Ayat:4-5, Verses 7 — Makki; Revealed at Makka — Sections 1, Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যারা সালাত (নামায) সম্পর্কে উদাসীন তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, তা হচ্ছে শেষ ওয়াক্তে সালাত আদায় করা। তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ওয়াইল অর্থাৎ কঠিন শাস্তি।
কেউ কেউ বলেন, "ওয়াইল" হচ্ছে জাহান্নামের একটি নিম্নভূমি। দুনিয়ার পাহাড়-পর্বতসমূহ তার (ওয়াইলের) মধ্যে রাখা হলে তার কঠিন উত্তাপে তা গলে যাবে। অথচ এ স্থানটি বিলম্বে ও উদাসীন সালাত (নামায) আদায়কারীদের পরকালীন জগতের ঘরবাড়ী অর্থাৎ আবাসস্থল। (সূত্রঃ কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ২৩)।
গুরুতর ওজর ব্যতিত জুমার নামায ও জামায়াতে শরীক না হওয়া মুনাফিকের আলামত
ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, জনৈক ব্যক্তি সারাদিন রোযা রাখে ও সারা রাত নফল নামায পড়ে। কিন্ত্ত জুমা ও জামায়াতের সাথে নামাযে শরীক হয় না। তার বিষয় কী বলেন? তিনি উত্তর দিলেন, ঐ ব্যক্তি জাহান্নামী হবে। (জামে তিরমিযী, সূত্রঃ কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ১৩।
সন্তানদের সালাত কায়েমের নির্দেশ দিতে হবে
►সারবা ইবনু মাবাদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে সাত বছর বয়সে সালাত (নামায) কায়েমের আদেশ দেবে। যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হবে তখন সালাতের জন্য মৃদু প্রহার করবে (জামে তিরমিযী, হাদিস নং-৩৮২)।
٩- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّـهِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ◯
"হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত" (সূরাহ মুনাফিকুন, আয়াত ৯, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন), ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা:৪৫৮,মূল: মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.), অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ.), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।
i) www.almodina.com ii) www.islamicfoundation.org.bd
“O ye who believe! Let not your riches Or your children divert you From the remembrance of Allah. If any act thus, The loss is their own”.
Sūrah 63: Munāfiqūn, Ayat: 9,Verses 11 — Madani; Revealed at Madina — Sections 2. Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
মুফাসসিরে কিরাম বলেন, আলোচ্য আয়াতে "আল্লাহর যিকর" দ্বারা ৫ ওয়াক্ত সালাত (নামায) বুঝানো হয়েছে।
সুতরাং, যে ব্যক্তি যথাসময়ে সালাত আদায় হতে গাফিল (অমনোযোগী) হয়ে বেচাকেনা উপার্জন, জীবিকা সংগ্রহ ও সন্তান-সন্ততির সাথে খেল-তামাশায় বিভোর থাকবে, সে-ই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। ( সূত্রঃ ১. কিতাবুল কাবায়ির, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার ২. সূত্রঃ কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ২৪।
►সারবা ইবনু মাবাদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে সাত বছর বয়সে সালাত (নামায) কায়েমের আদেশ দেবে। যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হবে তখন সালাতের জন্য মৃদু প্রহার করবে (জামে তিরমিযী, হাদিস নং-৩৮২)।
নামায (সালাত) আদায়ে পবিত্র হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লামের
জোর তাগিদ
পবিত্র হাদীসের আলোকে সালাত বা নামায
►আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাত (নামায) আদায় করে না, তার কোনো দ্বীন (ধর্ম) নেই [মুহাম্মাদ ইবনু নসর মরফু সনদে বর্ণনা করেন (সূত্রঃ কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ১০)]।
►আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন নামায সম্পর্কে আলোচনাকালে বললেন, যে ব্যক্তি নামাযের হিফাজত করবে, তার জন্য কিয়ামতে আলো, প্রমাণ এবং মু্ক্তির উপায় স্বরূপ হবে। আর যে তার হিফাজত করবে না, তার জন্য আলো, প্রমাণ এবং মুক্তির স্বরূপ হবে না। বরং রোজ কিয়ামতে সে কারুন, ফেরআউন, হামান এবং উবাই ইবনে খালফের সাথে থাকবে (আহামাদ, দারেমী, মিশকাত পৃষ্ঠা ৫৮-৫৯)
নিজেদের খেয়াল খুশিমতো নামায আদায়কারীরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত
٥٩- فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ ۖ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ◯
►অত:পর তাদের পরে এল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে। (সূরাহ মারিয়াম, আয়াতঃ ৫৯ তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, মূল: মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহঃ) অনুবাদে:মাওলানা মুহিউদ্দিন খান, ষষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা: ৪০, প্রথম প্রকাশ, ৯ম সংস্করণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)।
“But after them there followed A posterity who missed Prayers and followed after lusts. Soon, then, will they Face Destruction”—
Sūrah 19: Maryam,Ayat: 59,Verses 98 — Makki; Revealed at Makka — Sections 6. Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ সম্পূর্ণরূপে সালাত (নামায) পরিত্যাগ করা নয়, বরং তার অর্থ: একেবারে শেষ ওয়াক্তে সালাত (নামায) আদায় করা (সূত্রঃ কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ২২)।
►ইমামুত্ তাবিঈন সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহিমাহুল্লাহ বলেন, তারা সালাত (নামায) নষ্ট করলো-এর অর্থ হচ্ছে, আসরের ওয়াক্ত অত্যাসন্ন হওয়ার সময় যোহর ওয়াক্তের নামায আদায় করা, মাগরিবের ওয়াক্তের সাথে মিলিয়ে আসর নামায পড়া, ইশার ওয়াক্তের সাথে সংযুক্ত করে মাগরিব ওয়াক্তের ফৌত হয়ে (যাকে কাজা বলা হয়) যাওয়া নামায আদায় করা, ইশার সালাত (নামায) ফজর ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করা এবং সূর্যোদয়ের সময় ফজর ওয়াক্তের নামায আদায় করা। (সূত্রঃ কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ২৩)।
ভাবনার বিষয় এই যে, যারা সালাত বা নামায নিয়মিত আদায় করে থাকেন কিন্তু ১. জামায়াতের সাথে নয় ২. ওয়াক্তের শুরুতে নয়, বরং ওয়াক্ত যায় যায় অবস্থায় অথবা দুই ওয়াক্তের নামাজ বিনা ওজরে একসাথে আদায় করে থাকেন-এরূপ নামাজ আদায়কারীদের ব্যাপারে যে কঠোর সতর্কবাণী পবিত্র কোরআন-হাদীসে রয়েছে আর যারা একেবারেই পড়ে না তাদের ব্যাপারে আরও কত ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে তা ভাবতেই গা শিহরে উঠাই স্বাভাবিক ।
বিনা ওজরে মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামায আদায়কারীর প্রতি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লামের কঠোর সতর্কী বার্তা
►
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার অন্তর চায় কিছু সংখ্যক যুবককে অনেকগুলি জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই। তারপর আমি ঐসব লোকের কাছে যাই-যারা বিনা ওজরে ঘরেই নামায আদায় করে এবং আমি নিজে গিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেই (সহীহ মুসলিম)।
আরও ভাবনার বিষয় এই যে, রহমাতুল্লিল 'আলামীন, যিনি সারা বিশ্বের জন্য আল্লাহর রহমত (দয়ার সাগর) স্বরূপ- যাঁর আচরণে কাট্টা কাফের পর্যন্ত শান্তি-স্বস্তি এবং নিরাপত্তা পেতেন। উম্মতের সামান্য দুঃখ-কষ্টও যাঁর ছিল অসহনীয়- কাল কেয়ামতের পর কঠিন হিসাব নিকাশ তথা হাশর দিবসে সকলে যখন ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি বলে হয়রান-পেরেশান হয়ে যাবেন, সেই মহাবিপদকালেও রউফুর রহিম-দয়াল নবী স্বীয় উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কেবল একটা দোয়াই করতে থাকবেন: রব্বি হাবলি উম্মতি অর্থাৎ ‘আয় আমার প্রতিপালক (রব) আমার উম্মতকে রক্ষা করুন।’ এমন দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত যারা কেবলমাত্র মসজিদে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায়ে গাফেলতি (অলসতা) করে, তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, আর নামায যারা একেবারেই নামায আদায় করে না; তাদের বেলায় কত ক্রোধান্বিত হতে পারেন তা সহজেই অনুমেয়, যখন হাশর দিবস তথা পরকালে তাদের উদ্দেশ্যেই বলবেন: রব্বি হাবলি উম্মতির বদলে তথা শাফায়াতে কুবরার পরিবর্তে বলবেন: দূর হয়ে যাও আমার কাছ থেকে যা ভাবতেই গা শিহরে উঠে বৈকি।
মোয়াজ্জিনের আযান শুনেও জামায়াতে হাজির না হওয়ার পরিণতি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লামের কঠোর সতর্কী বার্তা
►রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ঐ ব্যক্তির কাজ পরিস্কার জুলুম, কুফর এবং নিফাক ব্যতীত আর কিছুই নয়, যে ব্যক্তি মোয়াজ্জিনের আযান শুনেও জামায়াতে হাজির হলো না (আহামাদ)।
যে সব কারণে জামায়াতের সাথে নামায আদায় না করলে শরয়ী বিধান মতে গুনাহ নেই
►উম্মাহাতুল মুমিনিন আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, খাবার হাজির হলে সালাত (নামায) নেই [অর্থাৎ আগে খাওয়া-দাওয়া, পরে সালাত (নামায) আদায় ] এবং তখনও না-যখন দুটো খবিস জিনিস অর্থাৎ প্রস্রাব এবং পায়খানা চাপ সৃষ্টি করে। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং: ১১৮৫, কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ২২)।
►ইবনু উমার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ঠান্ডা ও বৃষ্টির দিনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ্জিনকে এই হুকুম দিতেন যে, সে আযানে একথাও যেন বলে দেয়, ওগো সবাই নিজ নিজ ঘরে সালাত (নামায) আদায় করে নিও ( সূত্রঃ সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৯৭৮)কুরআন ও হাদীসের আলোকে নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ শাস্তিঃ আবদুল হালিম খাঁ, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠাঃ ২২)।
বিভিন্ন হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, যে কয়েকটি কারণে জামায়াতে শরীক না হলে গুনাহ নেই তা নিম্নরূপঃ
◊ দুশমনের ভয়;
◊ অসুখ-বিসুখ;
◊ প্রস্রাব-পায়খানার বেগ;
◊ খাবার জিনিস হাজির হওয়া এবং
◊ প্রচন্ড শীত, বৃষ্টি এবং তুফান।
(অসমাপ্ত ইনশা আল্লাহ)
١٨- إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّـهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّـهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَـٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ ◯
"নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায, আদায় করে যাকাত; আর আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে" [সূরাহ আত্ তাওবাহ, আয়াত: ১৮ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩২১, নবম সংস্করণ-২০০৯, তাফসীরে মাআ’রেফুল কোরআন, মূল: মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.), অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ.), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ। i) www.almodina.com ii) www.islamicfoundation.org.bd
"The mosques of Allah shall be visited and maintained by such as believe in Allah and the Last Day establish regular prayers and practice regular charity and fear none (at all) except Allah. It is they who are expected to be on true guidance". Sūrah 9: Taubah (Repentance), Ayat: 18. Verses 129 — Madani; Revealed at Madina — Sections 16]. Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com Online rendition of the World’s most popular Abdullah Yusuf Ali Quran Translation in English published alongside the original Arabic text, completed in Lahore on the fourth of April 1937.Famously promoted by Sheikh Ahmed Deedat, prominent Islamic scholar of South Africa. Copyrighted 1946 by Khalil Al-Rawaf Published by Islamic Propagation Centre International, Durban, South Africa.
١٠٣- فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۚ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا ◯
►নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সূরাহ আন নিসা, আয়াত: ১০৩, তফসীরে মাআরেফুল কোরআন, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৪৮৫)। “When ye pass (congregational) prayers celebrate Allah’s praises standing sitting down or lying down on your sides; but when ye are free from danger set up regular prayers: for such prayers are enjoined on believers at stated times”. Sūrah 4: Nisāa, or The Women, Ayat: 103, Verses 176 — Madani; Revealed at Madina — Sections 24. Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com
Comments
Post a Comment