আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় আমল সালাত বা নামায: কি এবং কেন?

 সালাত বা নামায কি এবং কেন? 

 الصلوة‎‎ (সালাত) আরবি শব্দ। বহুবচনে  ٱلصَّلَوَات‎‎ (সালাওয়া)  "সালাত" -এর আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি। ধাতুগত অর্থে যেমন: সরল, কোমল, নমিত হওয়া, অনুসরণ করা ইত্যাদি বুঝায়। আর বুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছেঃ উপাসনা, আরাধনা, অনুগ্রহ ও ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি। আজানের ভাষ্য অনুসারে সালাতের অপর নাম ১. الفلاح (ফালাহ) অর্থাৎ সাফল্য। (حي على الفلاح হাই আলাল ফালাহ: সাফল্যের জন্য এসো) এবং ২. خير (খয়র) অর্থাৎ উত্তম। (الصلاة خير من النوم)(ঘুম থেকে নামাজ উত্তম)।

নামায (নামাজ): সালাতের আঞ্চলিক নাম

 নামায শব্দটি ফার্সিنماز শব্দ  থেকে উদ্ভূত نماز (নামায/নামাজ) শব্দটি একাধারে ভারত-ইরানে হিন্দি-ফার্সি (উভয় ভাষা অ্যারিয়ানভূক্ত বিধায় হিন্দি-ফার্সি মূলত: একই ভাষা পরিবারের সদস্য), পক্ষান্তরে বিদেশী ভাষার আত্মীকরণের বৈয়াকরণিক রীতি অনুসারে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে যথাক্রমে উর্দু-বাংলায় এবং ইউরো-এশীয় দেশ তুরস্কে  তুর্কী ভাষায়ও নামায শব্দ সালাত নামের সমার্থকরূপে বহুল প্রচলিত। (তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া)।

সালাত বা নামায দিনে ৫ ওয়াক্তে (সময়ে) ৫বার ফরযে আইন (অবশ্যই পালনীয়)

١٠٣- فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۚ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا 

 

নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সূরাহ আন নিসা, আয়াত: ১০৩, তফসীরে মাআরেফুল কোরআন, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৪৮৫)।

“When ye pass (congregational) prayers celebrate Allah’s praises standing sitting down or lying down on your sides; but when ye are free from danger set up regular prayers: for such prayers are enjoined on believers at stated times”.

 Sūrah 4: Nisāa, or The Women, Ayat: 103, Verses 176 — Madani; Revealed at Madina — Sections 24. Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com


আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল

হজরত উম্মে ফারওয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন,

روت أم فروة رضي الله عنها قالت : سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الأعمال أفضل ؟ قال : الصلاة في أول وقتها

আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “নামায(বুখারি ও মুসলিম)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,‘নামাজ(বুখারি ও মুসলিম)

৬১৪ ঈসায়ী সালে নিম্নোক্ত সূরাহ মুমিন এর ৫৫ নম্বর আয়াতের মাধ্যেম আল্লাহর পক্ষ থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় দৈনিক দুই ওয়াক্ত নামাজ মুসলিমদের জন্য ফরজ (আবশ্যিক) হওয়ার নির্দেশনা লাভ করেন।

فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ

অর্থঃ অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

৫ ওয়াক্ত সালাত বা নামায 

দিনে এবং রাত্রে ২৪ ঘন্টায় ৫ ওয়াক্তে ৫ বার আদায় করা ফরজে আইন যথা:

১.ফজর ২.যোহর ৩. আছর ৪.মাগরিব এবং ৫. এশা।

নামাযের ওয়াক্ত বা সময়কালঃ

ফজর:  *সুবহি কাজিম শেষ হওয়ার পরক্ষণেই অর্থাৎ সুবহি সাদিক শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ফজর নামাজের ওয়াক্ত বা সময় (Timing) শুরু হয়  এবং সূর্য উদয়ের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত ফজর নামাজের সময় থাকে।

*রাতের শেষে আকাশের পূর্ব দিগন্তে লম্বা আকৃতির যে আলোর রেখা দেখা যায় তাকেই বলে সুবহে সাদিক এবং এর পূর্বে  পুরো দিগন্তজুড়ে আকাশ ও পৃথিবীর অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থাকে সুবহি কাজিম বলা হয়সুবহি কাজিম পর্যন্ত এশার নামায আদায় করা যায় পড়া যায় তবে তা অনুত্তম আর উত্তম হচ্ছে এ সময়ে পবিত্র রমজান মাসে সাহরী খাওয়া

যোহর: দুপুরের সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়লেই যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়ছায়া আসলি বাদে কোনো বস্তুর ছায়া দ্বিগুন হওয়া পর্যন্ত যোহর নামাযের ওয়াক্ত বা সময় থাকে। কোনো বস্তুর ঠিক দুপুরের সময় যে ক্ষুদ্র ছায়া থাকে তাকেই বলে ছায়া আসলি বলা হয়।

আসর: যোহরের সময় শেষ হলেই আসরের সময় শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। তবে সূর্যের রং হলুদ হওয়ার আগেই আসর সালাত আদায় করা উচিত।

মাগরিব: সূর্যাস্তের পর থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত বা সময় শুরু হয় এবং পশ্চিম আকাশে যতক্ষণ লালিমা বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ ওয়াক্ত থাকে।

ইশা: মাগরিবের সময় শেষ হলেই ইশার ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সুবহি সাদিকের পূর্বক্ষণ অর্থাৎ সুবেহ কাজিম পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। তবে মধ্য রাতের আগেই এই নামাজ আদায় করা উত্তম।

জু'মা: যোহরের পরিবর্তে "ইয়ামুল জুমুয়া" অর্থাৎ শুক্রবার দিন (Friday) দ্বিপ্রহরে যে বিশেষ নামায আদায় করা হয় তাকে সালাতুজ্ জুমা'য়া বলা হয়।

ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহার দিনের নামায: আরবী মাসের পহেলা শাওয়াল এবং দশই জিলহজ্বের বাদে ফজর সূর্যোদয়ের পর ইশরাক, দোহা কিংবা চাশতের নামাযের সময়কালটি হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহার নামাজের সময়কাল।

ফজর নামাযের সর্বনিম্ন সময়কাল:

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় নামায হচ্ছে আউয়াল ওয়াক্তের নামায এবং জামাতের সাথে নামায আদায়। তবে নানান কারণে অনেক সময় সময়মত নামায আদায় কারো কারো পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে-তখন করণীয় সম্পর্কে দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু অআলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমানঃ

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূর্য ওঠার আগে এক রাকাআত (ফরজ নামাজ) পেল,সে ফজরের নামাজ পেল। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

আসর নামাযের সর্বনিম্ন সময়কাল:

যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার আগে আসরের এক রাকাআত নামাজ পেল,সে-ও আসরের নামাজ পেল। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

বিঃদ্রঃ রহমান রহীম আল্লাহ কত মেহেরবাণ। যিনি স্বীয় বান্দার এক রাকাত নামাযের শ্রমও যাতে বিফল না যায় তার জন্য এমন রহমপূর্ণ মাসায়িল।

৫ ওয়াক্ত নামাযের ইতিহাস

পবিত্র লাইলাতুল মিরাজের সময় মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে উম্মতে মোহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য উপঢৌকনস্বরূপ (হাদিয়া) ৫০ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তনের সময় পথিমধ্যে মুসা আলাইহিমুস সালাম এর পরামর্শক্রমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকবার আল্লাহর কাছে গিয়ে নামাজের সংখ্যা কমানোর আবেদন জানান। সর্বশেষ আবেদনটি ছিল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের- যার সওয়াবের মান ছিল ৫০ ওয়াক্ত নামাজের।

(তথ্য সূত্রঃ বুখারি, হাদিস নং: ৩৪৯, ৩৩৪২, ৩৮৮৭; মুসলিম, হাদিস নং: ২৬৩ ও ২৬৪; ফাতহুল বারি: ৭/২৫০-২৫৯, মাআরেফুল কোরআন : ৭৬৪-৭৬৫, সিরাতে মুস্তফা : ১/২৮৫-২৮৬)


নামায ফরয ঘোষণার শুরুতে যুহর, আসর ও ইশা নামাজের রাকাত সংখ্যা

নামায ফরয ঘোষণার শুরুতে যুহর, আসর ও ইশা প্রতি ওয়াক্তের নামায ৪ রাকায়াতের স্থলে ২ রাকায়াত করে পড়ার বিধান ছিল। এ প্রসঙ্গে আম্মাজান আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন;

فُرِضَتِ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَأُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ، وَزِيدَ فِي صَلَاةِ الْحَضَرِ

মুকিম ও মুসাফির অবস্থায় নামায দুদু রাকআত ফরজ করা হয়েছিল। পরে সফরের নামায ঠিক রাখা হল কিন্তু মুকিমের নামাযে বৃদ্ধি করা হল। (বুখারী ১০৪০ মুসলিম ৬৮৫)

৬২৩ ঈসায়ী সালে আল্লাহর তরফ থেকে ২ রাকায়াত বিশিষ্ট যুহর, আসর ও ইশাকে ৪ রাকায়াতে উন্নীত করার আদেশ দেয় হয়

অপর হাদিসে এসেছে,

عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِى طَرِيقٍقَالَفَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ. قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا أَتْمَمْتُ صَلاَتِى يَا ابْنَ أَخِى

إِنِّى صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِفِى السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى

وَصَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

ইবনে উমর রাযি. বলেন, নিশ্চয় আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সফর করেছি, তিনি আমৃত্যু সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি।

রাবী বলেন আমি আবু বকর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও আমরণ সফরে ২ রাকাতই পড়েছেন। আমি উমর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। রেওয়াতকারী আরো বলেন আমি উসমান রাযি. এর সাথেও সফর করেছি,তিনিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি।

 ফজর নামাজের ফজিলত

ফজরের নামাজ দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম

রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার সব কিছুর চেয়ে উত্তম। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৭৩)

ফজর নামায আদায়কারী আল্লাহর জিম্মায় চলে যান

রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো...। (মুসলিম,হাদিস : ১৩৭৯)

যে কারণে প্রভাত হয় উৎফুল্লচিত্তে এবং মনে জাগে অনাবিল আনন্দ!

ফজর নামাজ আদায়ের জাগতিক উপকারের কথা স্বয়ং আল্লাহর রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবে বলেছেন,তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায়,তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত,অতএব তুমি শুয়ে থাকো। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঁট খুলে যায়,অজু করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়,অতঃপর সালাত আদায় করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে ওঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য নিয়ে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪২)

ফজর-আসর নামাজের ফজিলত

ফজর আসর নামায আদায়কারীর কিয়ামতের দিন আল্লাহর দিদার বা সাক্ষাৎ লাভ  

জারির বিন আবদুল্লাহ (রদ্বিয়াল্লাহ আনহু) বর্ণনা করেন,একবার আমরা নবী করিম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন,ওই চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্য উদয়ের ও অস্ত যাওয়ার আগের সালাত আদায় করতে পারলে তোমরা তা-ই করবে।

জাহান্নাম থেকে মুক্তি

বিখ্যাত তাবেয়ি আবু বকর বিন উমারাহ তাঁর পিতা রুআয়বাহ থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,এমন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের আগের এবং সূর্যাস্তের আগের অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করে। (মুসলিম, হাদিস : ১৩২২)

সকাল-বিকাল ফেরেশতাদের সাক্ষাৎ লাভ

ফজর-আসরের সময় ফেরেশতাদের পালাবদল হয়। আর এ সময় বান্দা যা কিছু করে ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে তা পেশ করে। এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরে বলেছেন,ফেরেশতারা পালাবদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন;একদল দিনে,একদল রাতে। আসর ও ফজরের সালাতে উভয় দল একত্র হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন,আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে? অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগতজবাবে তাঁরা বলেন,আমরা তাদের নামাজে রেখে এসেছি,আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনো তারা নামাজরত ছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৫৫)

এশা-ফজর নামাজের ফজিলত

অর্ধরজনী ইবাদতের সওয়াব

রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত (নফল) নামাজ আদায় করল।

 যে নামাযে সারা রাত জেগে নামাজ আদায়ের সওয়াব

 যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭)

যে নামাযে নামাযীর মুনাফিকের তালিকা থেকে মুক্তিলাভ

রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার নামাজের চেয়ে অধিক ভারী কোনো নামাজ নেই। এ দুই নামাজের ফজিলত যদি তারা জানত,তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৭)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায়ের ফজিলাত

রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামায়াতের সাথে ইশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে (ইবাদত) করল। আর যে ফজরের নামাজ জামায়াতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে (ইবাদত) নামাজ পড়ল” (মুসলিম)।

তাকবিরে উলার সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায়ের ফজিলাত

রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনযে ব্যক্তি চল্লিশ দিন তাকবিরে উলার সাথে (নামাজ শুরুর তাকবিরের সাথে) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করল তার জন্য দুটি নাজাত লিপিবদ্ধ করা হল, ১. জাহান্নাম হতে ও ২. মুনাফিক্বী হতে (বুখারী ও মুসলিম মিশকাত ২১৭পৃষ্ঠা)।

তিনি আরো বলেন, “যদি লোকে ইশা ও ফজরের নামাজের ফজীলত জানত, তাহলে তাদেরকে হামাগুঁড়ি দিয়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই ঐ নামাজদ্বয়ে আসত (বুখারী, মুসলিম)।

নামাজের পূর্ণ ফজিলত ও বরকত হাসিল হয় যদি জামায়াতের সাথে আদায় করা হয়।

রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু অআলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সাহাবাগণ জামায়াতের এতো বেশি যত্নবান হতেন যেন জামায়াত নামাজের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এমনকি মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরবস্থায়ও রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু অআলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুইজনের কাঁধে ভর করে জামায়াতে হাজির হয়েছিলেন।  

সালফে সালেহীনগণ ইমামের সাথে প্রথম তাকবীর না পেলে ৩ দিন ও জামায়াত ছুটে গেলে ৭ দিন দুঃখ প্রকাশ করতেন (মিরআত-৪/১০২)।

জামায়াত ত্যাগ করার কারো অনুমতি থাকলে বদর ওহুদ রণাঙ্গনে কুরাইশ মুশরিক শত্রুর সম্মুখে ব্যুহবিন্যাসে দন্ডায়মান মুজাহিদদের প্রতি জামায়াতের ব্যাপারে শিথিলতার অনুমতি দেওয়া হত। অথচ ঘোরতর যুদ্ধের সময়ও পালাক্রমে রণাঙ্গনে মুজাহিদ সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুরা জামায়াতের সাথে নামায আদায় করেছিলেন।

অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) নবী (স.)-এর কাছে ফরজ নামাজ বাড়িতে পড়ার অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, তুমি জামায়াতে উপস্থিত হবে, তোমার জন্য আমি (বাড়িতে পড়ার) কোন অনুমতি পাচ্ছিনা।

রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ জামায়াতের প্রথম কাতারের লোকদের ওপর বিশেষ রহমত নাজিল করে থাকেন। কথাটি তিনি ৩বার বললেন। অতঃপর বলেন, দ্বিতীয় কাতারের ওপরেও (আহামাদ,দারেমী ও সহীহুল জামে)।

পাঞ্জেগানা ওয়াক্তিয়া মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়লে ২৫ থেকে ২৭ গুণ সওয়াব হয়। দুজনের নামাজ একাকীর চাইতে উত্তম। এভাবে জামায়াত যত বড় হয়, নেকী তত বেশী হয়।

মদিনার মসজিদে নববীতে পড়লে একহাজার গুণ এবং কাবা গৃহে পড়লে একলক্ষ গুণ সওয়াব বেশী হয় (বুখারী,মুসলিম মিশকাত ৭২পৃষ্ঠা)।

যে ব্যক্তি কোন ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে স্বগৃহ থেকে ওযু করে জামায়াতের জন্য (মসজিদের দিকে) বের হয় সেই ব্যক্তি ইহরাম বাঁধা হাজীর ন্যায় সওয়াবের অধিকারী হবেন (আবূদাউদ)

ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর সাথে মুসলিম হয়ে সাক্ষাতের ইরাদা রাখে তার উচিত সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন (অযু) করে স্রেফ নামাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া, তাহলে তার প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে, একটি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত ও তার পাপ মোচন করা হবে।

রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, মুনাফিদের ওপরে ফজর ও ইশার জামায়াতের চাইতে কঠিন কোন নামাজ নেই। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ) অথচ সে সময় মানুষকে দুটি লোকের কাঁধে ভর করে হাঁটিয়ে এনে কাতারে খাড়া করা হত (মুসলিম-৬৫৪)।

তোমরা সামনের কাঁতারের দিকে অগ্রসর হও। কেননা যারা সর্বদা পিছনে থাকবে, আল্লাহ তাদেরকে (স্বীয় রহমত থেকে) পিছনে রাখবেন (মুসলিম) অন্য বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নাম পর্যন্ত পিছিয়ে দেবেন (আবূদাউদ)।

ইয়াউমুল জুম'আ বা জুমার দিনের ফজিলত

 

১. কুরবানী করার সমান সওয়াব অর্জিত হয়ঃ

 

জুমার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

 

যে ব্যক্তি জুআর দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানী করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেল খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা প্রকাশিত হাদিস নং- ৮৩৭, আধুনিক প্রকাশনী:  ৮৩০)

 

২. মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে ফেরেশতারা অগ্রগামীদের নাম তালিকাভুক্ত করেনঃ

 

জুমআর সালাতে কারা অগ্রগামী, ফেরেশতারা এর তালিকা তৈরি করে থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

জুমআর দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতা এসে হাজির হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সর্বাগ্রে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকে। প্রথম ভাগে যারা মসজিদে ঢুকে তাদের জন্য উট, দ্বিতীয়বারে যারা আসে তাদের জন্য গরু, তৃতীয়বারে যারা আসে তাদের জন্য ছাগল, চতুর্থবারে যারা আসে তাদের জন্য মুরগী ও সর্বশেষ পঞ্চম ভাগে যারা আগমন করে তাদের জন্য ডিম কুরবানী বা দান করার সমান সওয়াব লিখে থাকেআর যখন ইমাম খুৎবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে পড়ে ফেরেশতারা তাদের এ খাতা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়” (বুখারী ৯২৯, ইফা ৮৮২, আধুনিক ৮৭৬)

 

. জুমআর দিনের আদব রক্ষাকারীর দশ দিনের গুনাহ মাফ হয়ঃ

 (ক) জুমআর দিনের আদব যারা রক্ষা করে তাদের দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

যে ব্যক্তি ভালভাবে পবিত্র হল অতঃপর মসজিদে এলো, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনতে চুপচাপ বসে রইল, তার জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী এ সাত দিনের সাথে আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়পক্ষান্তরে খুৎবার সময় যে ব্যক্তি পাথর, নুড়িকণা বা অন্য কিছু নাড়াচাড়া করল সে যেন অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিমঃ ৮৫৭)

 

 (খ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন,

জুমআর সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুমআয় হাজির হয় সেখানে দুআ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা জুমআয় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুমআর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)

 

. প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়ঃ

যে ব্যক্তি আদব রক্ষা করে জুমআর সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব লিখা হয়।

আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

জুমাআর দিন যে ব্যক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাসের ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪, ১৬২১৮)

 

. দুই জুমআর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারাঃ

জুমআর সালাত জুমআ আদায়কারীদের জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়, এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুম, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩)

 

সূত্রঃ প্রশ্নোত্তরে জুমুআ ও খুৎবা

লেখকঃ অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম

পরিমার্জনেঃ বিশিষ্ট আলিমে দীন ডঃ মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ডঃ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারি মজুমদার এবং ডঃ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

 মাসাজিদঃ  বায়তুল্লাহর (আল্লাহরঘর)

١٨- إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّـهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّـهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَـٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ 

 "নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায, আদায় করে যাকাত; আর আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে"  [সূরাহ আত্ তাওবাহ, আয়াত: ১৮ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩২১, নবম সংস্করণ-২০০৯, তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন, মূল: মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.), অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ.), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।

i) www.almodina.com ii) www.islamicfoundation.org.bd

“The mosques of Allah shall be visited and maintained by such as believe in Allah and the Last Day establish regular prayers and practice regular charity and fear none (at all) except Allah. It is they who are expected to be on true guidance”.

Sūrah 9: Taubah (Repentance), Ayat: 18. Verses 129 — Madani; Revealed at Madina — Sections 16]. Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com.

রাতের অন্ধকারে মসজিদে যাতায়াতকারীর কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নুরের সুসংবাদ

বিখ্যাত সাহাবি আনাস (রদ্বিয়াল্লাহ আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,রাতের অন্ধকারে মসজিদগুলোতে যাতায়াতকারীদের কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নুরের সুসংবাদ দাও। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৮১)

মসজিদ (আরবি: مسجد‎‎ উচ্চরণ:ˈmæsdʒɪd) মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থাপনা।শব্দটির উৎপত্তি আরবি "السجود" থেকে, যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করা। মসজিদ (আরবিمسجد‎‎ উচ্চরণ:ˈmæsdʒɪd)[১] মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থাপনা। শব্দটির উৎপত্তি আরবি "السجود" থেকে, যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করাসাধারণভাবে, যেসব ইমারত বা স্থাপনা মুসলমানেরা একত্রিত প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (আরবিصلاة‎‎ সালাত) আদা করেন, তাকে মসজিদ বলে। সহজ কথায়ঃ "السجود (সিজদাহ) এর স্থানকে মাসাজিদ বা مسجد (মসজিদ) বলা হয়। অপেক্ষাকৃত  আকারের যে সব মসজিদগুলোতে নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি শুক্রবারের জুম'আর নামাজ আদায় হয় সেগুলো জামে মসজিদ (مسجد جامع) নামে অভিহিত। মসজিদে সাধারণত একজন সন্মানিত ইমাম সাহেব থাকেন- যিনি সাধারণত: নামাজের ইমামতিসহ জুমার দিন জুমা নামাজের দ্বিতীয় আজানের আগে কোরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বয়ান রাখেন এবং দ্বিতীয় আজানের পরে জুমার দিন জুমার খুতবা, ঈদের দিন ঈদের খুতবা এবং আকদের (নেকাহ) সময় বিবাহের খুতবা পাঠ এবং সময়ে সময়ে রাষ্ট্রীয় এবং স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক জারীকৃত জনগুরুত্বসম্পন্ন জরুরী ফরমান উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে পেশ করে থাকেন। শুধু ৫ ওয়াক্ত সালাত বা নামাযে ইমামতির দায়িত্ব পালনকারীকে পেশ ইমাম এবং খুতবাসহ জুমার নামাযের ইমামতির দায়িত্ব পালনকারীকে বলা হয় খতিব। নিয়মিত আজান-ইকামাত দেয়ার জন্য যিনি নিযুক্ত হন তাঁকে বলা হয় মুয়াজিন

উল্লেখ্য, উম্মতি মুহাম্মাদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বপ্রথম ঈমামতের দায়িত্ব পালনকারী ছিলেন সাইয়েদুল মুরসালিন, ইমামুল মুত্তাক্বীন, আশরাফুল আম্বিয়া আহামাদ মুস্তফা, মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি মদিনা মুনওয়ারায় ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান তৎসহ মসজিদে নব্বীরও প্রধান ছিলেন। বেলাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন মসজিদে নব্বীর প্রথম মুয়াজ্জিন। দীন ইসলামের প্রথম যুগে মসজিদে নব্বী ছিল একাধারে জামে মসজিদ এবং নবীন ইসলামী রাষ্ট্রের সেক্রেটারিয়েট ভবনও।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা, বাংলাদেশ:  (আরবিبيت المكرَّم الوطني مسجد‎‎বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ।[১] মসজিদটি রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্টনে অবস্থিত।[২] ১৯৬৮ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। তৎকালীন পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তার ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানির উদ্যোগে এই মসজিদ নির্মাণের পদক্ষেপ গৃহীত হয়। জাতীয় এই মসজিদে একসাথে ৪০,০০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। ধারণক্ষমতার দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম মসজিদ। (উইকিপিডিয়া)।

বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণের প্রাচীন ইতিহাসঃ বাংলাদেশকে বলা হয় 'বাবল ইসলাম' অর্থাৎ (উপমহাদেশে) ইসলামের তোরণদ্বার। এদেশের সর্বপ্রাচীন মসজিদ নিলফামারী জেলায় অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছেমহানবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর জীবৎকালে আগত আরবীয় সাহাবী ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ের পাশাপাশি ইকামাতে দীন তথা ইসলাম প্রচারের অংশ হিসাবে আরব সাগর পাড়ি দিয়ে চীন গমনকালে পথিমধ্যে বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় চট্টগ্রাম বন্দরে যাত্রা বিরতির সময় কোন কোন সাহাবী বাংলাদেশে পরিবার সংগঠন এবং বসতি স্থাপন করেছিলেন যাঁদের মাধ্যমে সম্ভবতঃ এই সুপ্রাচীন মসজিদ নির্মিত হতে পারে মর্মে ঐতিহাসিকদের ধারণা।

নামায গুনাহ ঝরায়

হজরত আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে,নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সময় শীতকালে বাইরে (কোথা্র) তাশরিফ আনলেন। তখন গাছের পাথা ঝরার মওসুম ছিল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছের একটি ডাল হাত দিয়ে ধরলেন। ফলে তার পাতা আরও বেশি ঝরতে লাগল।

অতঃপর তিনি বললেন, হে আবু যর! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি উপস্থিত। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-

মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করে, তখন তার থেকে পাপসমূহ ঝরে পড়ে; যেমন এ গাছের পাতা ঝরে পড়ছে। (মুসনাদে আহমদ)

১. ওজু : নামাজের জন্য উত্তম রূপে ওজু করা। ওজু করা ফরজ। যা ব্যতিত নামাজ হবে না।

Inner-1

২.কেবলামুখী হওয়া : নামাজের জন্য কেবলা(পবিত্র মক্কা নগরীর বাইতুল্লাহ)মুখী হওয়া আবশ্যক। সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কেবলা পবিত্র মক্কা নগরীর বাইতুল্লাহ।

৩. তাকবিরে তাহরিমা বলা : যে তাকবিরের মাধ্যমে দুনিয়ার সব কর্মকাণ্ড মানুষের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সে তাকবির ‘আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। উভয় হাতকে কানের লতি বরাবর ওঠিয়ে নাভির ওপর হাত বাঁধা এবং চোখের দৃষ্টিকে সিজদার স্থানে স্থির রাখা।
Inner-2-
৪.সানা পড়া : অনেকগুলো সানা রয়েছে তার মধ্য থেকে যে কোনো একটি পড়লেই চলবে। এটাকে দোয়া-ই ইস্তিফতাহও বলা হয়। এক নিয়তে একবারই পড়তে হয়।

৫.সুরা ফাতিহা পড়া : প্রথম রাকাআতে সানার পর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহর সহিত সূরা ফাতিহা পাঠ করা ও আমিন বলা।
Inner-4

৬.সূরাহ  কিংবা সুরাহর অংশ বিশেষ মিলানো : সুরা ফাতিহার পর কুরআন থেকে যে যেকোন সহজসাধ্য সুরাহ কিংবা কমপক্ষে তিন আয়াত অথবা তিন আয়াতের সমকক্ষ এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা।
 Sūrah 111: Lahab Translation by Abdullah Yusuf Ali About QuranYusufAli.com 

Verses 5 — Makki; Revealed at Makka — Sections 1

١- تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ 
1. Perish the hands Of the Father of Flame ! Perish he !
٢- مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ 
2. No profit to him From all his wealth, And all his gains !
٣- سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ 
3. Burnt soon will he be In a Fire Of blazing Flame !
٤- وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ 
4. His wife shall carry The (crackling) wood — as fuel !—
٥- فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ 
5. A twisted rope Of palm-leaf fibre Round her (own) neck !














Sūra 112: Ikhlās, or Purity (of Faith)

Verses 4 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1

١- قُلْ هُوَ اللَّـهُ أَحَدٌ 
1. Say: He is Allah, The One and Only ;
٢- اللَّـهُ الصَّمَدُ 
2. Allah, the Eternal, Absolute ;
٣- لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ 
3. He begetteth not, Nor is He begotten ;
٤- وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ 
4. And there is none Like unto Him.












Sūrah 113: Falaq, or The Dawn

Verses 5 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1

١- قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ 
1. Say: I seek refuge With the Lord of the Dawn,
٢- مِن شَرِّ مَا خَلَقَ 
2. From the mischief Of created things ;
٣- وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ 
3. From the mischief Of Darkness as it overspreads ;
٤- وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ 
4. From the mischief Of those who practice Secret Arts ;
٥- وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ 
5. And from the mischief Of the envious one As he practices envy.




















Sūra 114: Nās, or Mankind

Verses 6 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1

١. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ 
1. Say: I seek refuge
With the Lord
And Cherisher of Mankind,
٢. مَلِكِ النَّاسِ 
2. The King (or Ruler)
Of Mankind,
٣. إِلَـٰهِ النَّاسِ 
3. The Allah (or Judge)
Of Mankind, —
٤. مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ 
4. From the mischief
Of the Whisperer
(Of Evil) who withdraws
(After his whisper),—
٥. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ 
5. (The same) who whispers
Into the hearts of Mankind,—
٦. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ 
6. Among Jinns
And among Men.


/Inner-6

সিজদাহ : অতপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেয়ে সিজদার তাসবিহ পড়া।
উল্লেখ্য, সিজদার সময় হাতের আঙ্গুলগুলি মিলিত ও প্রসারিত হয়ে কিবলামুখী থাকবে। সিজদাহ্ হবে সাতটি অঙ্গের উপর। যেমন- নাক সহ কপাল, উভয় হাতের তালু, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলের ভিতরের অংশ। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়া।
Inner-7

 সিজদা থেকে উঠা : আল্লাহু আকবার বলে সিজদাহ থেকে মাথা উঠানো। বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া করে রাখবে। দু’হাত তার উভয় রান ও হাঁটুর সংযোগস্থালের উপর রাখা। দুই সিজদার মধ্যে দোয়া পড়া।
Inner-8

১১. দ্বিতীয় সিজদাহ : আল্লাহু আকবার প্রথম সিজদার ন্যায় দ্বিতীয় সিজদাহ করা। এভাবে দুই রাকাত পূর্ণ করা।
১২.  তাশাহহুদ বা বৈঠক : দুই রাকাআত বিশিষ্ট নামাজ (ফজর, ঈদ ও জুমার নামাজ) পূর্ণ হওয়ার পর তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া পড়া। হাত উভয় রান ও হাঁটুর সংযোগস্থলের উপর রাখা। ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলি দিয়ে দোয়া ও আল্লাহর নাম উল্লেখ করার সময় তাওহিদের ইশারা করা। তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট নামাজে শুধু তাশাহহুদ পড়ার পড় আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে বাকি নামাজ আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া পড়ে নামাজ শেষ করা।

Comments

Popular posts from this blog

মুসলিম শিশু ছেলেদের জন্য সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু আনহুদের অর্থপূর্ণ নামের তালিকা

সন্তান জন্মের পর যে কাজগুলো সুন্নত-ই-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস, গুরুত্ব, ফজিলত এবং আশুরার রোজার নিয়মাবলী