জামাতে যোহর এবং আসর নামাযের সূরাহ-ক্বিরাত আস্তে তেলাওয়াতের রহস্য
জামাতে যোহর -আসর নামাযের সূরাহ-ক্বিরাত আস্তে তেলাওয়াতের রহস্য
"ক্বেরাত
আস্তে পড়া এ জন্য যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কাফিরদের আধিক্য ছিল। এরা কোরআন
তেলাওয়াত শুনে আল্লাহ তা'য়াল, জিবরাঈল 'আলাইহিস
সালাম এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি
ওয়াসাল্লামের শানে বিদ্রুপ করত। যোহর এবং আসরের সময় এরা ঘুরাফেরা করে থাকে।
মাগরিবের সময় খাওয়া-দাওয়ায় লিপ্ত থাকে। এশার সময় শুয়ে পড়ে এবং ফজরের সময়
নিদ্রাবিভূত থাকে। এ কারণে যোহর এবং আসরের নামাযে আস্তে আস্তে কুরআন পড়ার নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে" (সূত্রঃ সংক্ষিপ্ত
নামায শিক্ষা দীনিয়াত, পৃষ্ঠাঃ ৩৩, বায়তুশ শরফ, চট্টগ্রাম)।
ব্যাখ্যাঃ ইসলামের প্রাথমিক যুগের দুষ্ট প্রকৃতির কাফিররা যোহর এবং আসরের সময় ঘুরাফেরা করে তারা খুঁজে বেড়াতো কোথায় মুসলমানদের সালাত বা নামায আদায় হচ্ছে। প্রাথমিক সময়ে প্রচলিত সশব্দে সূরাহ ক্বিরাত তেলাওয়াতের আওয়াজ শুনে তারা সেখানে পৌঁছে শোরগোল করে নামাযে বিঘ্ন ঘটাতো। কাফির মুশরিকদের শোরগোল বন্ধ করার জন্য যোহর এবং আসরের সালাতের জামাতে আস্তে সূরাহ ক্বিরাত তেলাওয়াতের বিধান জারী হয়েছিল যা এখনও স্থায়ীভাবে বলবৎ রয়েছে।
জুমআ’ বার: মুসলমানদের এক অনন্য অসাধারণ ফাজিলাত ও বারকাত দিবস
সূরাহ্ আলে ইমরানের ১০৩ নং-আয়াতে বর্ণিত جَمِيعًا (জামিআ’) শব্দ দ্বারা ১.
জমায়েত,
একতাবদ্ধ,
ঐক্যবদ্ধ, সমবেত হওয়া (পবিত্র কুরআনের সূরাহ বাক্বরাহর ৪৩ নং আয়াতে
সমবেত অর্থাৎ
জামায়াতবদ্ধভাবে সালাত আদায়ের তাগিদ দেয়া হয়েছে) ২.
সূরাহ্ জুমুআ’র আয়াত নং-৯-এ বর্ণিত يَوْمِ
الْجُمُعَةِ (ইয়াউমিল
জুমুআ’) বলতে জুমআ’ বার বুঝানো হয়েছে এবং
৩. لِلصَّلَاةِ
مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ (লিছ্বছ্বলাতি মিন
ইয়াওমিল জুমু'আতি)
বলতে জুমআ’র সালাত বা নামায-কে
বুঝানো হয়েছে।
শানে ইয়াউমুল জুমু'আ (জুমার দিবসের মর্যাদা)
এক নজরে উম্মতে মুহাম্মদী (সল্লাল্লাহু
'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর জন্য
জুম’আর দিনের ফযীলত
► প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাসহ আকাশ, পৃথিবী,
বাতাস, পর্বত ও সমুদ্র এই (জুম’আর) দিনটিকে ভয়
করে। [ইবনে মাজাহঃ১০৮৪, ১০৮৫; মুয়াত্তাঃ৩৬৪]।
► জুম’আর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। [ইবনে
মাজাহঃ ১০৯৮]
► এ দিনটি আল্লাহর কাছে
অতি মর্যাদা সম্পন্ন। (মুসনাদে আহমদঃ৩/৪৩০; ইবনে
মাজাহঃ১০৮৪)
► জুম’আর দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই তাকে
দেওয়া হয়। আর এ সময়টি হল জুম’আর দিন
আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত। [বুখারীঃ৯৩৫, ইফা ৮৮৮,
আধুনিক ৮৮২; মুসলিমঃ৮৫২]
► জুম’আর রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি মারা যায় আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা
থেকে রক্ষা করবেন। [তিরমিযীঃ১০৭৮]
►জান্নাতে প্রতি জুম’আর দিনে জান্নাতীদের হাট বসবে। জান্নাতী
লোকেরা সেখানে প্রতি সপ্তাহে একত্রিত হবেন। তখন সেখানে এমন মনমুগ্ধকর হাওয়া বইবে, যে হাওয়ায় জান্নাতীদের সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে এবং তাদের
স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হবে। অনুরূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি স্ত্রীদের বেলায়ও হবে।
[মুসলিমঃ২৮৩৩, ৭১/৭৫৩]
► প্রত্যেক সপ্তাহে জুম’আর দিন আল্লাহ তায়ালা বেহেশতী বান্দাদের দর্শন দেবেন। [সহীহুত তারগীব]
উল্লেখ্য, উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য
এটি একটি মহান দিন। জুম’আর এই পবিত্র দিনটিকে সম্মান করার জন্য ইহুদী-নাসারাদের উপর ফরজ করা হয়েছিল;
কিন্তু তারা মতবিরোধ করে এই দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর
ইহুদীরা শনিবার-কে আর খ্রিষ্টানরা রবিবার-কে তাদের ইবাদতের দিন বানিয়েছিল। অবশেষে
আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের জন্য জুম’আ বার-কে মহান ফযীলতের দিন হিসেবে দান করেছেন। আর উম্মতে মুহাম্মদী (সল্লাল্লাহু
'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করে নিল। [বুখারী ৮৭৬, ইফা ৮৩২, আধুনিক ৮২৫; মুসলিমঃ ৮৫৫]
সূত্রঃ প্রশ্নোত্তরে জুমু’আ ও খুৎবা:অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম; পরিমার্জনেঃ ডঃ মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ডঃ আবু
বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, ডঃ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
বিশেষ ঘোষণা
ফরজে আঈন সালাত (নামায) সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য ইনশা আল্লাহ ভিজিট করিঃ
আাsalat1442.blogspot.com
Comments
Post a Comment