জীবন সমস্যার সমাধানে পবিত্র কুরআন-হাদীসভিত্তিক নির্বাচিত দোয়া-কালাম
হাজত রোয়া, মুশকিল কোশায় পবিত্র কুরআনের ৩৩ আয়াত
►ইবনে নাজ্জার রহ.
'যাইলু
তরিখি বাগদাদ' গ্রন্থে (৩/২৫৩-২৫৫) বিশিষ্ট তাবেয়ী মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহ এর বরাতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনে উমর
রা. এর সূত্রে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত: নবীজী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি রাতের বেলা (নিম্নোক্ত) আয়াত সমূহ তিলাওয়াত করবে তাকে কোনো হিংস্র জন্তু অথবা আগন্তুক চোর ক্ষতি করতে পারবে না। আর সকাল পর্যন্ত
তাকে এবং তার পরিবার-পরিজন এবং তার মালকে রক্ষা করা হবে।
আয়াতগুলি হচ্ছে-
সূরাহ বাক্বারার ১-৫ নং আয়াত
যদিও এগুলোর শুরুতে সূরা ফাতেহা এবং শেষে চারকুল (কাফরুন, এখলাস, ফালাক্ব, নাস) পড়া তেত্রিশ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় তথাপি শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহিমাহুল্লাহ এগুলো মিলিয়ে পড়তে পছন্দ করতেন যেমনটি 'শিফাউল আলীল' গ্রন্থে রয়েছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতায় ৩৩ আয়াত:
►ইবনে নাজ্জার রহ.'যাইলু তরিখি বাগদাদ' গ্রন্থে (৩/২৫৩-২৫৫) উপরোক্ত আয়াতের প্রতিফলন (আছর) পাওয়া যায় বিশিষ্ট তাবেয়ী মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহ এর বাস্তব জীবনে যা নিম্নরূপঃ
মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহ বলেনঃ আমরা ‘নাহরে তাইরী’তে অবতরণ করলাম। সেখানকার লোকেরা আমাদেরকে বলল, তোমরা চলে যাও- কেননা এখানে যারাই অবস্থান করেছে তাদের মাল ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি ব্যতিত আমার সকল সাথী চলে গেল। রাতের বেলা আমি ঘুমালাম না। আমি দেখতে পেলাম, ডাকাত দল ত্রিশ বারেরও বেশি তলোয়ার খাপমুক্ত করে এসেছে কিন্তু আমার কাছে পৌঁছতে পারে নি। সকালবেলা আমি চলতে শুরু করলাম, তখন তাদের এক সর্দার আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলল, তুমি মানুষ না জিন। আমি বললাম মানুষ। সে বলল আমরা সত্তরবারের বেশি তোমার কাছে আসলাম, যখনই এসেছি তোমার এবং আমাদের মাঝে লোহার একটি দেয়াল বাধা হয়ে দাঁড়িয়ছে। আমি তাকে উপরোক্ত হাদীসটি শুনালাম।
► মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন বলেন, আমি এই হাদীস সম্পর্কে শুআইব ইবনে হারবকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, আমরা এটাকে ‘আয়াতুল হিরয’ বলি। বলা হয়, এতে একশত অসুখ থেকে মুক্তি রয়েছে। এরপর তিনি এগুলোর মধ্যে পাগলামী, কোষ্ঠরোগ ইত্যদির কথা উল্লেখ করলেন।’’
►মুহাম্মদ বিন আলী বলেন, আমাদের এক শায়খের অর্ধাঙ্গ হলে আমি তা পাঠ করলাম। আল্লাহ তাআলা এর উসিলায় তার রোগ দূর করে দিলেন। (যাইলু তরিখি বাগদাদ, ইবনে নাজ্জার,:৩/২৫৩-২৫৫আদ দুররুল মানছুর, সুয়ুতী:১/১৫০-১৫২)।
►'আমালে কোরআনী' গ্রন্থে আছে, এগুলো যথারীত পাঠ করলে যাদু-টুনা, ভূত, দেও-দানব, চোর-ডাকাত, এবং সকল প্রকার আপদ-বিপদ দূর হয়।
►আল্লামা মুহাম্মাদ ইউসুফ (রঃ) স্বীয় হায়াতুস সাহাবা গ্রন্থের তৃতীয় ভাগের ৩৭৪ পৃষ্ঠায় এই মনযিলের ফযিলত সম্পর্কে যে হাদীস খানা উল্লেখ করেছেন,তা ইমাম আহামাদ ও ইমাম তিরমিযী রহঃ কর্তৃক বর্ণিত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
►ইমাম আহামাদ ও ইমাম তিরমিযী রহঃ কর্তৃক বর্ণিত সহীহ হাদীস দ্বার প্রমাণিত হযরত উবাই বিন কাব রাঃ বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দরবারে হাযির ছিলাম। এমন সময় একজন গ্রাম্য ব্যক্তি দরবারে আগমণ করে আরয করলেন-ইয়া রসূলুল্লাহ, আমার এক ভাই রোগাক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-তার কি হয়েছে? সে বলল-মনে হয় এক প্রকার মাতলামী বা মৃগী রোগ হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-তাকে আমার নিকট নিয়ে আস। অতঃপর সে স্বীয় ভাইকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অআলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে নিয়ে আসল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন মাজীদের নিম্নলিখিত পবিত্র আয়াত সমূহ তিলাওয়াত করে তার উপর ফুঁ দিলেন এবং তা লিখে তাকে ব্যবহার করতে বললেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল। মনে হচ্ছিল যে, ইতিপূর্বে তার কোন রোগই
ছিল না।
দুর্বল হাদীস অনুযায়ী কি আমল করা বৈধ?/ফযীলতের ক্ষেত্রে কি দুর্বল হাদীস গ্রহণযোগ্য?
ইমাম মুসলিম, ইমাম আলবানী সহ আরও বহু আলেম যঈফ হাদীসের প্রতি আমল না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে কিছু মুহাদ্দিসীনে কেরাম নিম্নোক্ত কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে দুর্বল হাদীসের উপর আমল করার বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন। যেমন:
– যদি হাদীসটি অতিরিক্ত দূর্বল না হয়
– কিংবা শরীয়তের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক না হয়
এসব মুহাদ্দিসীনে কেরামদের মতে, ফযীলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস আমলযোগ্য- যদি তা ইসলামের হালাল-হারাম ইত্যাদি বিধিবিধান সংক্রান্ত বিষয়ের পরিপন্থী না হয়।
আল্লাহু আ'লাম।
উত্তরপ্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (মাদানী)দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব, https://www.facebook.com/AbdullaahilHadi
তাফসীরুল উশরুল আখীর মিনাল কুরআনিল
উশরুল আখীর মিনাল কুরআনিল কারীম (পেপারব্যাক) নামক কিতাবের ক্রমিক-১৫ এর ১৪৭ নং পৃষ্ঠায় সহীহ হাদিস ভিত্তিক পবিত্র কুরআনের আয়াত সম্বলিত অনেক আমল রয়েছে যা শারীরিক এবং মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য অজিফা হিসাবে প্রতিদিন তিলাওয়াত করা যেতে পারে । দেখুনঃ https://www.rokomari.com/book/99642/tafsirul-usorul-akhir-minal-quranil-karim
তাফসীরুল উশরুল আখীর মিনাল কুরআনিল কারীম কিতাবে রয়েছে পবিত্র কুরআনের নির্বাচিত ঝাড়ফুঁকের আয়াত। এটি প্রকাশিত হয়েছে পবিত্র মদীনা মুনওয়ারায় অবস্থিত সৌদী রাজকীয় প্রকাশনা থেকে। কিতাবটি বিশ্বের প্রায় সব প্রধান প্রধান ভাষায় মুদ্রিত ও প্রকাশিত এবং হাজী সাহেবদের সৌদী সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। এতে রয়েছে পবিত্র কুরআনের ৩৩ আয়াতের বিকল্প কতিপয় নির্বাচিত ঝাড়-ফুঁকের আয়াতাবলী যা নিম্নরূপঃ
সূরাহ ফাতিহাঃ
Sūrah 1: Fātiha, Verses 7 — Makki; Revealed at Makkah — Section 1.
The Cherisher and Sustainer of the Worlds ;
And Thine aid we seek.
Thou hast bestowed Thy Grace,
Those whose (portion)
Is not wrath,
And who go not astray.
Sūrah 2: Baqara,Verses 286 — Madani; Revealed at Medina — Sections 40,Ayat:285-86.."Allah! there is no God but He the living the Self-subsisting Eternal. No slumber can seize him nor sleep. His are all things in the heavens and on earth. Who is there can intercede in His presence except as He permitteth? He knoweth what (appeareth to his creatures as) before or after or behind them. Nor shall they compass aught of his knowledge except as He willeth. His throne doth extend over the heavens and the earth and He feeleth no fatigue in guarding and preserving them. For He is the Most High the Supreme (in glory)". Sūrah 2: Baqara,Verses 286 — Madani; Revealed at Madina — Sections 40,Ayat:285-86.
٢٨٥- آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّـهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ◯
285. The Apostle believeth in what hath been revealed to him from his Lord as do the men of faith. Each one (of them) believeth in God His angels His books and His Apostles “We make no distinction (they say) between one and another of His Apostles.” And they say: “We hear and we obey; (We seek) Thy forgiveness Our Lord and to Thee is the end of all journeys. ٢٨٦- لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ◯
286. On no soul doth Allah place a burden greater than it can bear. It gets every good that it earns and it suffers every ill that it earns. (Pray): “Our Lord! condemn us not if we forget or fall into error; our Lord! Lay not on us a burden like that which Thou didst lay on those before us; Our Lord! lay not on us a burden greater than we have strength to bear. Blot out our sins and grant us forgiveness. Have mercy on us. Thou art our Protector; help us against those who stand against faith.”٢٨٥- آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّـهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ◯285. The Apostle believeth in what hath been revealed to him from his Lord as do the men of faith. Each one (of them) believeth in God His angels His books and His Apostles “We make no distinction (they say) between one and another of His Apostles.” And they say: “We hear and we obey; (We seek) Thy forgiveness Our Lord and to Thee is the end of all journeys.”
286. On no soul doth God place a burden greater than it can bear. It gets every good that it earns and it suffers every ill that it earns. (Pray): “Our Lord! condemn us not if we forget or fall into error; our Lord! Lay not on us a burden like that which Thou didst lay on those before us; Our Lord! lay not on us a burden greater than we have strength to bear. Blot out our sins and grant us forgiveness. Have mercy on us. Thou art our Protector; help us against those who stand against faith.”
٨٠- وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
◯“ And when I am ill, It is He who cures me ;(Surah Ash Shuara, Ayat:80).
١٤- وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِي نَ
◯"Heal the breasts of believers". (Surah At Taubah, Ayat:14)
ثُمَّ أَنزَلَ اللَّـهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ"
But Allah did pour His calm on the apostle and on the believers". (Surah Taubah, Ayat: 26)
.قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ ۖ
Say: "It is a Guide and a Healing to those who believe”. (Surah Fussilat, Ayat: 44)
.٤- هُوَ الَّذِي أَنزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَّعَ إِيمَانِهِمْ ۗ
"It is He Who sent Down Tranquillity Into the hearts of The Believers, that they may Add Faith to their Faith;" (Surah Fatah, Ayat: 04)
.١٨- لَّقَدْ رَضِيَ اللَّـهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
◯"Allah’s Good Pleasure Was on the Believers When they swore Fealty To thee under the Tree : He knew what was In their hearts, and He Sent down Tranquillity To them ; and He rewarded Them with a speedy Victory;" (Surah Fatah, Ayat:18)
.فَأَنزَلَ اللَّـهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَالْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَىٰ
"Allah sent down His Tranquillity To His Apostle and to The Believers",and made them Stick close to the command Of self-restraint ; (Surah Fatah, Ayat: 26)So We listened to him : And delivered him from Distress : and thus do We Deliver those who have faith. (Surah Ambia, Ayat: 88),Sūrah 109: Kāfirūn, Verses 6 — Makki; Revealed at Makkah — Sections 1
That reject Faith !
Which ye worship,
That which I worship.
That which ye have been
Wont to worship,
That which I worship.
And to me mine.
পবিত্র হাদীস বর্ণিত দেহ মনের সুস্থতার দোয়া-কালাম
Sūra 112: Ikhlās, or Purity (of Faith)
Verses 4 — Makki; Revealed at Makka — Sections 1
The One and Only ;
Nor is He begotten ;
Like unto Him.
Sūrah 113: Falaq, or The Dawn
Verses 5 — Makki; Revealed at Makka — Sections 1
With the Lord of the Dawn,
Of created things ;
Of Darkness as it overspreads ;
Of those who practice
Secret Arts ;
Of the envious one
As he practices envy.
Sūrah 114: Nās, or Mankind
Verses 6 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1
With the Lord
And Cherisher of Mankind,
Of Mankind,
Of Mankind, —
Of the Whisperer
(Of Evil) who withdraws
(After his whisper),—
Into the hearts of Mankind,—
And among Men.
সুনানে আবু দাউদে সাহ্ল বিন হুনাইফ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা একটি বন্যাকবলিত এলাকার নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় আমি পানিতে নেমে গোসল করলাম। আমি সেই পানি হতে জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় উঠে আসলাম। নাবী (সাঃ)কে সেই খবর দেয়া হলে তিনি বললেন- আবু ছাবেতকে বল, সে যেন আউযুবিল্লাহ্ পাঠ করে। বর্ণনাকারী বলেন- আমি বললামঃ হে আমার অভিভাবক! (হে আল্লাহর রসূল!) ঝাড়-ফুঁক কি উপকারী? নাবী (সাঃ) তখন বললেন-لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ نَفْسٍ أَوْ حُمَةٍ أَوْلَدْغَةٍ
‘‘বদনযর, বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ এবং বিচ্ছুর কামড়ের বিষ নামানোর ঝাড়-ফুঁক ব্যতীত কোন ঝাড়-ফুঁক নেই।’’[1]
হিংসুকের হিংসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার ক্ষেত্রে এবং বদ নযরের কুপ্রভাব থেকে আত্ম রক্ষার ঝাড়-ফুকের মধ্যে বেশী বেশী সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা ফাতেহা এবং আয়াতুল কুরসী পড়া উচিৎ। নাবী (সাঃ) যে সমস্ত দু’আ পড়েছেন, তার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হল-
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الأَرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمِ
‘‘শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান এবং যমীনের কোন বস্ত্তই কোন ক্ষতি করতে পারবেনা, তিনি মহাশ্রোতা মহাজ্ঞানী’’।[2]
أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
‘‘আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর পরিপূর্ণবাণী সমূহের মাধ্যমে, তাঁর সৃষ্টির সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে’’।[3]
أَعُوُذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وهامَّةٍ ومِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ
‘‘আমি আল্লাহর কাছে তাঁর পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে প্রতিটি শয়তান
এবং বিষধর বস্ত্ত ও কষ্টদায়ক নযর হতে তোমাদের জন্য আশ্রয় চাচ্ছি’’।[4]
أَعُوْذُ بِكُلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِىْ لاَ يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌ وَلاَ فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
‘‘আমি আল্লাহ্ তা‘আলার সমস্ত কালেমার উসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যেই কালেমাগুলো কোন নেককার কিংবা বদকারের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব নয়। আমি আল্লাহর কাছে মাখলুকের অনিষ্ট হতে আশ্রয়
চাচ্ছি’’।[5]
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وَبَرَأَ وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلاَّ طَارِقاً يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ
‘‘আমি আল্লাহর সম্পূর্ণ কালামের মাধ্যমে ঐ জিনিষের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং বিস্তার করেছেন। আরও আশ্রয় চাচ্ছি ঐ জিনিষের অকল্যাণ হতে, যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা আকাশে আরোহন করে। আল্লাহর কাছে আরও আশ্রয় চাচ্ছি ঐ বস্ত্তর অনিষ্ট হতে, যা তিনি যমীনে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং আরও আশ্রয় চাচ্ছি ঐ বস্ত্তর অনিষ্ট হতে, যা যমীন থেকে উৎপন্ন হয়। আমি আল্লাহর কাছে আরও আশ্রয় চাচ্ছি, দিন ও রাতের ফিতনা হতে এবং রাতে প্রত্যেক আগমণকারীর অনিষ্ট হতে। হে আল্লাহ্! তবে ঐ আগমণকারী হতে নয়,
যে কল্যাণসহ আগমণ করে’’।[6]
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
‘‘আমি আল্লাহর সম্পূর্ণ কালামের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আশ্রয় প্রার্থনা করছি তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট হতে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা হতে এবং আমার কাছে তাদের হাজির হওয়া থেকে’’।[7]
اللّٰهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللّٰهُمَّ أَنْتَ تَكْشِفُ الْمَغْرَمَ وَالْمَأْثَمَ اللّٰهُمَّ لاَ يُهْزَمُ جُنْدُكَ وَلاَ يُخْلَفُ وَعْدُكَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ
‘‘হে আল্লাহ্! তোমার সম্মানিত ও বরকতময় চেহারার উসীলায় এবং তোমার সকল বাক্যের মাধ্যমে ঐ সমস্ত বিষয়ের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেগুলোর কপাল তুমি ধরে আছ। হে আল্লাহ্! তুমিই ঋণ ও গুনাহ্সমূহ দূর করো। হে আল্লাহ! তোমার সৈনিকরা পরাজিত হয়না। তোমার ওয়াদার পরিবর্তন হয়না। তুমি পবিত্র। প্রশংসাসহ আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি’’।[8]
أَعُوذُ بِوَجْهِ اللهِ الْعَظِيمِ الَّذِىْ لَيْسَ شَىْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِى لاَ يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلاَ فَاجِرٌ وَبِأَسْمَاءِ اللهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَأَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِىْ شرٍّ لاَ أُطِيْقُ شرَّهُ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِى شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ إنَّ ربِّىْ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيْمٍ
‘‘আমি আল্লাহর বরকতময় চেহারার উসীলায় আশ্রয় চাচ্ছি, যার চেয়ে বড় আর কিছু নেই। আর আমি আল্লাহর কালেমাসমূহের উসীলায় আশ্রয় চাচ্ছি, যেই কালেমাগুলো কোন নেককার কিংবা বদকারের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব নয়। আরও আশ্রয় চাচ্ছি, আল্লাহর ঐ সমস্ত আসমায়ে হুসনার উসীলায়, যেগুলো আমি জানি এবং যেগুলো আমার জানা নেই। আশ্রয় চাচ্ছি ঐ জিনিষের অনিষ্ট হতে, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং বিস্তার করেছেন। আরও আশ্রয় চাচ্ছি প্রত্যেক ক্ষতিকারক বস্ত্তর ক্ষতি থেকে, যা প্রতিহত করা আমার দ্বারা সম্ভব নয়। আরও আশ্রয় চাচ্ছি প্রত্যেক ঐ ক্ষতিকারকের ক্ষতি হতে, যার কপাল তোমার হাতে। নিশ্চয়ই আমার রব সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত’’।
اللّٰهُمَّ أنت ربِّى لاَ إِلَهَ إِلَا أَنْتَ عَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَأَنْتَ رَبّ العَرْشِ العَظِيْمِ مَا شَاءَ اللهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ لَا حَوْلَ ولا قُوَّة إلابالله أَعْلَمُ أنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ وأنَّ الله قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْئٍ عِلْمًا وَأَحْصَى كُلَّ شَيْئٍ عَدَداً اللّٰهُمَّ إنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِن شَرِّ نَفْسِىْ وشَرَّ الشَّيْطَانِ وشِرْكِهِ ومِن شَرِّ كُلِّ دابةٍ أَنْتَ آخذٌ بِنَاصِيَتِهَا إنَّ ربِّىْ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيْمٍ
‘‘হে আল্লাহ্! তুমি আমার প্রভু। আপনি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার উপর ভরসা করেছি। আপনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ্ যা চান, তাই হয়। যা তিনি চান না, তা হয়না। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ হতে বিরত থাকা ও আনুগত্য করার কোন শক্তি নেই। আমি অবগত আছি যে, আল্লাহ্ তা‘আলা সকল বস্ত্তর উপর ক্ষমতাবান। তিনি স্বীয় জ্ঞান দ্বারা সকল বস্ত্তকে ঘিরে আছেন। প্রত্যেক জিনিষের সংখ্যা তিনি অবগত আছেন। হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আমার নফ্সের ও শয়তানের অকল্যাণ এবং শিরক থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ্! আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রত্যেক ঐ বিচরণকারী প্রাণীর অনিষ্ট হতে, তুমি যার কপাল ধরে আছ। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সঠিক পথের উপর রয়েছেন’’।[9]
تَحَصَّنْتُ بِاللهِ الَّذِىْ لاَ إِلَهَ إلا هُوَ إلَهِىْ وَإِلَهُ كُلِّ شَيْئٍ وَاعْتَصمْتُ بِرَبِّىْ وَرَبِّ كُلِّ شَيْئٍ وَتَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الْذِىْ لاَ يَمُوْتُ واستَدْفَعتُ الشَّرَّ بِلاَحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَا بِاللهِ حَسْبِىَ اللهُ ونِعْمَ الوَكِيْلُ حَسِْبىَ الرَّبُّ مِنَ الْعِبَادِ حَسِْبىَ الْخَالِقُ مِنَ الْمَخْلُوْقِ حَسْبِىَ الرَّازِقُ مِنَ الْمَرْزُوْقِ حَسْبِىَ الَّذِيىْ هُوَ حَسْبِىْ حَسْبِىَ الَّذِىْ بِيَدِهِ مَلَكُوْتُ كُلِّ شىءٍ وهو يُجِيْرُ ولا يُجَارُ عَلَيْهِ حَسِْبىَ اللهُ وَكَفَى سَمِعَ الله لمنْ دَعَا لَيْسَ وَرَاء اللهِ مَرْمَى حَسْبِىَ اللهُ لاَ إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ العَظِيْم
‘‘আমি ঐ আল্লাহর হেফাজতে প্রবেশ করছি, যিনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই। তিনি আমার এবং সবকিছুর ইলাহ (মাবুদ)। আমি আমার এবং প্রত্যেক বস্ত্তর প্রতিপালকের হেফাজতে প্রবেশ করছি। আমি সেই আল্লাহর উপর ভরসা করছি,যিনি চিরঞ্জীব। লা হাওলা ও লা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্-এর উসীলায় অকল্যাণ প্রতিরোধ করছি। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি উত্তম কর্ম সম্পাদনকারী। আল্লাহর বান্দাদের ছাড়া আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট,সৃষ্টি ছাড়া স্রষ্টাই আমার জন্য যথেষ্ট। মারযুক (রিযিকপ্রাপ্ত) ছাড়া রাযেকই (রিযিক দাতা) আমার জন্য যথেষ্ট। সেই সত্তাই আমার জন্য যথেষ্ট, যিনি একাই যথেষ্ট। সেই আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, যার হাতেই সবকিছুর রাজত্ব। তিনি আশ্রয় দেন। তাঁর খেলাফে (বিপরীতে) কোন আশ্রয়দাতা নেই। আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট। যে দু’আ করে, তিনি তার দু’আ শুনেন। আল্লাহ্ ছাড়া আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করছি। তিনি আরশে আযীমের প্রভু’’।
https://www.hadithbd.com/books/email/?id=3968
[1].আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিবব,
আলএ.হা/৩৮৮৮, সহীহ, আলবানী।
[2]. আবু দাউদ,আলএ.হা/৫০৮৮, সহীহ তিরমিযী, মাপ্র. হা/৩৩৮৮, মিশকাত, মাশা. হা/২৩৯১, সহীহ, আলবানী।
[3]. মুসলিম, হাএ. হা/৬৭৭২, ইফা. হা/৬৬৩২, ইসে.হা/৬৬৮৬,আবু দাউদ,আলএ.হা/৩৮৯৮, সহীহ তিরমিযী, মাপ্র. হা/৩৪৩৭, মিশকাত, মাশা. হা/২৪২৩, সহীহ, আলবানী।
[4]. বুখারী, তাও. হা/৩৩৭১, ইফা. হা/৩১২৯, আপ্র. হা/৩১২১, আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সুন্নাহ, মিশকাত, মাশা. হা/১৫৩৫, সহীহ, আলবানী।
[5]. সিলসিলাতু আহাদীসুস সহীহা, মাশা.২/৮৪০,
[6] . সিলসিলাতু আহাদীসুস সহীহা, মাশা.
৭/২৯৯৫, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আলবানী, মাশা. ২/১৬০২
[7]. সহীহ তিরমিযী, মাপ্র. হা/৩৫২৮,
মিশকাত, মাশা. হা/২৩৯১, সহীহ, আলবানী।
[8]. আবু দাউদ,আলএ.হা/৫০৫২, সহীহ, আলবানী
[9]. সিলসিলাতু আহাদীসুস সহীহা, মাশা.
১৩/৬৪২০

Comments
Post a Comment