শীতে শিশুকে উষ্ণ রাখার টিপস এবং কৌশলাদি
শীতে শিশুকে উষ্ণ রাখার টিপস এবং কৌশলগুলি
শিশুদের শীতকালে ঠান্ডাজনিত অনেক সাধারণ রোগ যেমনঃ সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ইত্যাদি অসুস্থতা মৌসুমী কারণে হয়ে থাকে। তাতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। তবে এ সময় মায়ের সচেতনা দরকার। কারণ, সাধারণ সর্দি কাশি, জ্বর থেকে নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা কোভিড-১৯ এর প্রাদূর্ভাব। তাই এসময় শিশুদের প্রতি অআরও বেশী স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে মায়েদের যারা সুদীর্ঘ ১০ মাসের অধিকসময় ধরে ক্রমাগত ত্যাগ স্বীকার করে নবজাতক শিশুকে পৃথিবীতে আসার সুযোগ এনে দিয়েছেন মহান আল্লাহর অশেষ রহমত বরকতে।

সুতরাং, আপনার শিশুকে আসন্ন শীত মৌসুমে ভালভাবে পোষাক পরানো এবং তার দেহ গরম রাখার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার ছোট্ট শিশুটিকে স্বাস্থোপযোগী স্মার্টভাবে পোষাক পরানো বা ড্রেসিং-এর জন্য নীচে কয়েকটি টিপস দেওয়া হয়েছে:
শীতের রাতে শিশুকে উষ্ণ রাখা
- আপনার শিশুর ঘরের তাপমাত্রার জন্য আদর্শ পরিসরটি 20-22.2 ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে হওয়া উচিত।
- শীতের রাতে ঘুমানোর সময় আপনার শিশুকে গরম রাখার সবচেয়ে সেরা উপায় হল তাকে পায়ের তলা পর্যন্ত একটি স্লিপস্যুট পরানো, যাতে সেটি তার পা এবং পায়ের আঙ্গুলগুলিকেও উষ্ণ রাখে।.
- শিশুর স্লিপসুটের তলায় একটি পাতলা গেঞ্জি বা জামা পরিয়ে রাখুন।
- শীতল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত জামাকাপড়ের কারণে হয়ে থাকা চুলকানি এবং ত্বকের শুষ্কতা এড়াতে বাটার এবং মিল্ক ক্রিম সমৃদ্ধ একটা ভাল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
- বাইরে যদি ভীষণ ঠাণ্ডা থাকে আপনার ঘরের জানলাগুলি বন্ধ রাখুন, তবে আপনার শিশুর কক্ষটিকে বায়ুচলাচল যোগ্য রাখাটাও নিশ্চিত করবেন।তার ঘরে আপনি একটি রুম হিটার বা হিউমিডিফায়ার রাখতে পারেন যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।
- শীত যদি তীব্র হয় তাহলে রাতে শিশুর আরামদায়ক এবং শান্তিপূর্ণ ঘুমের জন্য একটা নরম কম্বল দিয়ে তাকে ভালোভাবে জড়িয়ে দিন। যদি সে পা ছুঁড়ে কম্বলটা বারবার খুলে ফেলে, তবে তাকে একটা স্লিপিং ব্যাগে রেখে দিতে পারেন।
- শীতের ঠাণ্ডায় আপনার শিশুকে অতিরিক্ত স্বাচ্ছন্দ্য দিতে বেবি ক্যারিয়ারগুলির ব্যবহার
- ঘুমানোর সময় শিশুর মাথা ঢেকে রাখবেন না।এটি তার দেহে অতিরিক্ত উত্তাপ সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বাড়ির বাইরে আপনার বাচ্চাকে গরম রাখার জন্য আপনি কী কী করতে পারেন
- আপনার শিশুকে সবসময় তার পোশাকের তলায় একটা পাতলা আস্তরণ বা স্তর আছে এজাতীয় পোশাক করান যাতে তার মাঝে তাপ আটকে থাকে।শুরুতেই একটা পাতলা ও নরম সুতির টেপজামা বা গেঞ্জি পরান এবার তার ওপর ফুলহাতা টি–শার্ট ও লেগিন্স পরান।আর বাইরে যদি মারাত্মক ঠাণ্ডা হয়, তবে আপনি তার উপর আবার একটা শীতের জ্যাকেট পরিয়ে দিতে পারেন।
- আপনার বাচ্চাকে নরম ও বায়ু চলাচলযোগ্য কাপড়ের পোশাকের স্তরগুলি পরান।
- শীতের সময় আপনার বাচ্চার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল কান টুপি যা শীতের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস থেকে তার কানকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
- গ্লাভস বা দস্তানা পরিয়ে রেখে (নবজাতকের জন্য) অথবা কম্বলের ভিতরে তাদের হাতগুলিকে ঢুকিয়ে দিয়ে বাচ্চাদের হাত গরম রাখুন (হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চাদের জন্য)।
- বাইরে ভ্রমণের সময় নবজাতক, বিশেষত প্রিম্যাচিওর বেবিদের ক্যাঙ্গারু কেয়ার দেওয়া যেতে পারে।এটি এমন একটি থেরাপি যেখানে শিশুকে সরাসরি তার মা–বাবার ত্বকের ওপর রাখা হয়, যা তাকে উষ্ণ এবং আরামদায়ক রাখার জন্য যথেষ্ট।

ঠাণ্ডায় অনেকক্ষণ ধরে বাইরে থাকার সময় শিশুদের গরম রাখা
- এ সময় শিশুর পোষাক হতে হবে টি–শার্ট এবং প্যান্টজাতীয় আরামদায়ক ও নরম । সেই সাথে জ্যাকেট, টুপি এবং হাত দস্তানা। প্রয়োজনে বেবি ক্যারিয়ারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

খুব শুষ্ক হওয়া থেকে শিশুর ত্বক সুরক্ষিত রাখা
ঠান্ডা আবহাওয়া, আর্দ্রতার অভাব শিশুর ত্বককে শুষ্ক এবং চুলকানিযুক্ত করে তুলতে পারে।
- তাই হালকা কুসুম কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- গবেষণায় দেখা গেছে যে কিছু শিশুর জন্য সাবান অ্যালার্জেনিক হতে পারে। তাই বেশি বেশি সাবান শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। হালকা, হাইপোঅ্যালার্জেনিক ক্লিনজারগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- শিশুকে গোসল করানোর পর প্রতিবার হালকা হাইপোঅ্যালার্জেনিক বেবি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
- শীতের শুষ্ক ও রুক্ষ বাতাস থেকে শিশুকে রক্ষা করতে তার মুখ এবং ঠোঁটে গন্ধহীন কিছু ইমলিয়েন্ট বা প্রলেপ লাগানো যেতে পারে।
- এরপর একটা নরম সুতির তোয়ালে দিয়ে শিশুকে হালকাভাবে মুছিয়ে শরীর শুকনো করে নিন তা না হলে শিশুর নরম তুলতুলে ত্বক ঘষে যেতে পারে।

- শিশুর গায়ে অনেকগুলি স্তরে ঢাকা দিয়ে তার চারপাশে বাড়তি চাপ বা বোঝা করে ফেলা যাবে না, কারণ শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে তাতে এসআইডিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া শিশুর শ্বাস প্রশ্বাসেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
- (সৌজন্যেঃ https://banglaparenting.firstcry.com)

Comments
Post a Comment