তাসবিহে ফাতেমির ফজিলত

 

তাসবিহে ফাতেমির ইতিহাস,ফজিলত-বরকত

তাসবিহ হলো গোনাহ মাফের দাওয়া। নামাজ শেষে তাসবিহ পাঠ করলে গোনাহ মাফ হয়। তাসবিহ পাঠের ফলে আল্লাহতায়ালা খুশি হয়ে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।

হজরত আবু বাহেলি (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন সময় দোয়া কবুল হয়? তিনি বললেন, ‘শেষ রাতে এবং ফরজ নামাজের পর। ’ –সুনানে তিরমিজি।

তাসবিহে ফাতেমির ইতিহাস

হজরত ফাতিমা (রা.) অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। ঘরের যাবতীয় কাজকর্ম নিজ হাতে আনজাম দিতেন। এরই মাঝে একদিন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কয়েকজন গোলাম/বাঁদি এলো। তখন হজরত আলী (রা.) হজরত ফাতিমা (রা.)-কে পরামর্শ দিলেন, ‘তুমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে একজন খাদেম চেয়ে আনো। এতে তোমার কাজকর্মের চাপ কিছুটা হালকা হবে।’ স্বামীর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলেন। তখন ছিল সেখানে প্রচুর লোকের সমাগম। এদিকে হজরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মাত্রাতিরিক্ত লাজুক প্রকৃতির। লোকসম্মুখে কিছু বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব হলো না তাই ফিরে এলেন।

পরদিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যার বাড়ি গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গতকাল তুমি কী জন্য আমার কাছে গিয়েছিলে?’ হজরত ফাতিমা (রা.) তখনো নিরুত্তর। লজ্জায় তিনি মুখ খুলছেন না। তার নীরবতা লক্ষ্য করে হজরত আলী (রা.) বললেন, ‘ইয়া রসুলুল্লাহ! জাঁতাকলে আটা পেষার দরুন তার হাতে দাগ পড়ে গেছে। মশকভর্তি পানি বহন করার ফলে বুকে মশকের রশির দাগ পড়ে গেছে। এ ছাড়া ঘর ঝাড় দেওয়ার কারণে প্রায়ই তার কাপড়-চোপড় ময়লাযুক্ত থাকে। এজন্য আমি তাকে এই বলে পরামর্শ দিয়েছিলাম, সে যেন আপনার কাছ থেকে একজন খাদেম নিয়ে আসে।’

হজরত আলী (রা.)-এর কথা শুনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর, তাকওয়া অবলম্বন কর এবং রব্বুল আলামিনের বিধানগুলো পালন কর। ঘরের কাজকর্ম নিজ হাতেই সম্পাদন কর, আর রাতে ঘুমানোর আগেঃ سُبْحَانَ الله (সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার) اَلْحَمْدُ لِلّه (আল-হামদুলিল্লাহ ৩৩ বার اَللهُ اَكْبَر (আল্লাহু আকবার ৩৩/৩৪বার পাঠ করার পর শয়ন কর। মনে রেখো, এগুলো পাঠ করা খাদেম হতে বহু উত্তম।’ হজরত ফাতিমা (রা.) উত্তরে বললেন, ‘আমি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সিদ্ধান্তে রাজি আছি।’

তাসবিহে ফাতেমির ফজিলত-বরকত


হজরত কাব ইবনে উজরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে পাঠ করার জন্য কতিপয় উত্তম বাক্য রয়েছে, সেগুলো যারা পাঠ করবে তারা কখনও নিরাশ হবে না। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার। ’ –সহিহ মুসলিম

 হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে আল্লাহ তার সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন, যদিও গোনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়। ’ –সহিহ মুসলিম


Comments

Popular posts from this blog

মুসলিম শিশু ছেলেদের জন্য সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু আনহুদের অর্থপূর্ণ নামের তালিকা

সন্তান জন্মের পর যে কাজগুলো সুন্নত-ই-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

দশই মুহাররম পবিত্র আশুরার ইতিহাস, গুরুত্ব, ফজিলত এবং আশুরার রোজার নিয়মাবলী